Alexa তাস মানে জুয়া খেলা নয়: মনিরুল ইসলাম

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

তাস মানে জুয়া খেলা নয়: মনিরুল ইসলাম

এস রাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৩ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৯:০০ ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ব্রিজ খেলোয়ার মো. মনিরুল ইসলাম

ব্রিজ খেলোয়ার মো. মনিরুল ইসলাম

চলতি বছরের ১৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর চীনে শুরু হবে ব্রিজ বিশ্বকাপ। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ব্রিজ বিশ্বকাপ খেলতে যাবে বাংলাদেশ দল। এ দলের নেতৃত্ব দেবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. মনিরুল ইসলাম।

সম্প্রতি ব্রিজ বিশ্বকাপ নিয়ে ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেন মনিরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এস রাকিব। 

ডেইলি বাংলাদেশ: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। কেমন অনুভব করছেন?

মো. মনিরুল ইসলাম: বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছি এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি-এটা ভাবলেই অনেক ভালো লাগে। আমরা মোট ৬ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করব। এরমধ্যে আমি নিজে একজন উপসচিব, একজন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক, তিনজন ব্যাংকার ও আরেকজন ইস্পাহানি কোম্পানিতে কর্মরত। আমরা সবাই চাকরির পাশাপাশি এ খেলা খেলছি। সবমিলিয়ে খুব ভালই লাগছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ: কোথা থেকে এ খেলার উৎসাহ পেলেন? 

মো. মনিরুল ইসলাম: আমরা স্কুল জীবন থেকেই এই খেলাটা খেলি। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি তখন এই খেলাটা বেশি খেলতাম। এরপর ব্রিজ ফেডারেশনের সঙ্গে জড়িত হই। এখানে খেলা দেখতাম। এরপর এখান থেকেই উৎসাহ। আমার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। এটাও আমার জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। অন্যান্য খেলোয়াড়দের অফিস থেকেও তাদেরকে উৎসাহ দিয়েছে।  

ডেইলি বাংলাদেশ: খেলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের কি ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছেন? 

মো. মনিরুল ইসলাম: সরকারের সহযোগিতা অবশ্যই আছে। ব্রিজ ফেডারেশনের মাধ্যমে সরকার আমাদের বিভিন্ন সহযোগিতা করছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ: প্রস্তুতি কেমন নিয়েছেন? 

মো. মনিরুল ইসলাম: ৬ জনের মধ্যে আমরা কেউই পেশাদার নই। মোট ২৪টি দল এ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। এরমধ্যে প্রায় সব দলই পেশাদার। মরক্কো ছাড়া প্রত্যেকটি দলই অভিজ্ঞ। তারা অনেকদিন ধরেই খেলছে। তবুও আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রস্তুতির জন্য মুন্সিগঞ্জ এবং কুমিল্লায় গিয়েছি। আমরা এসব জায়গায় প্র্যাকটিস করেছি। এছাড়া বিভিন্ন সময় ঢাকার অফিসার্স ক্লাব এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ক্লাবে প্র্যাকটিস করেছি। ব্রিজ খেলার জন্য সারাবিশ্বে একটি অ্যাপস রয়েছে। সেই অ্যাপসেও আমরা যখনই সময় পাই তখনই প্র্যাকটিস করছি। সবমিলিয়ে আশা করতেই পারি, আমরা ভালো করতে পারব। 

ডেইলি বাংলাদেশ: বিশ্বকাপে আপনাদের প্রত্যাশা কি? 

মো. মনিরুল ইসলাম: গতবার অর্থাৎ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অন্যান্য দলগুলো অনেক অভিজ্ঞ। তারা পেশাদার দল। এক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, যদি ১৬ তম স্থান অধিকার করতে পারি তাহলে মনে করবো খুব ভালো করেছি। 

ডেইলি বাংলাদেশ: বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে, আপনি কি মনে করেন? 

মো. মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশ কিন্তু ১৯৮১ সাল থেকেই এ খেলায় অংশগ্রহণ করছে। তবে আমরা ২০১৭ সালে বিশ্বকাপে যেতে পেরেছি। অর্থাৎ অনেক আগে থেকে খেললেও চূড়ান্ত ফলাফল এসেছে ২০১৭ সালে। ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু হবে হয়তো। তবে আমরা যে পর্যায়ে খেলছি এ পর্যায়ে খেলে বিশ্বকাপ জেতাটা খুবই কঠিন। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য পেশাদার লাগবে। পেশাদারিত্ব না থাকলে এই খেলায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া যাবে না। কারণ, বিশ্বকাপে শক্তিশালি দলগুলোই খেলতে আসে। বিশেষ করে ইউরোপের জোন থেকে যারা খেলতে আসে সেই দলগুলো আমাদের চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী। গতবার ফ্রান্স ছিল বিশ্বকাপের রানার্সআপ অথচ তারা এবার কোয়ালিফাই-ই করতে পারেনি। যে দল রানার্সআপ হয়েছে সে দলই এবার বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না, এটা দ্বারা বুঝতে হবে, ইউরোপ জোনের দলগুলো কত শক্তিশালি।

ডেইলি বাংলাদেশ: বড় সাফল্যের জন্য কি করা প্রয়োজন?   

মো. মনিরুল ইসলাম: স্কুল লেভেল থেকে খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। তাহলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। তবে কেউ যদি তাস খেলে এলাকার মানুষ তাকে খারাপ বলে। এমনকি অভিভাবকরাও তাকে খারাপ বলে। আমরা এর থেকে বের হতে পারেনি। মানুষ মনে করে, এটা জুয়া খেলা। আসলে এটা ভুল ধারণা। এ ধারণা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। তাস মানে জুয়া খেলা নয়, এটা অন্যান্য খেলার মতই একটি খেলা।   

ডেইলি বাংলাদেশ: এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য কি করার প্রয়োজন? 

মো. মনিরুল ইসলাম: এটা জুয়া নয়, এটা একটি খেলা-এই বিষয়টি মানুষের মধ্যে ঢুকাতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সামাজিকভাবে এটি খেলা হিসেবে বিবেচিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই খেলায় সফলতা আসবে না।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/আরএইচ