তারেকের ফাঁসি চায় রাষ্ট্রপক্ষ, করা হবে আপিল

ঢাকা, শুক্রবার   ২১ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৭ ১৪২৬,   ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

তারেকের ফাঁসি চায় রাষ্ট্রপক্ষ, করা হবে আপিল

 প্রকাশিত: ১৪:২১ ১০ অক্টোবর ২০১৮   আপডেট: ১৪:২১ ১০ অক্টোবর ২০১৮

সংগৃহিত

সংগৃহিত

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের। মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’তারেক রহমানের ফাঁসির আদেশ না পাওয়ায় পুরোপুরি খুশি হতে পারেনি তারা।

বুধবার ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টুসহ ১৯ জনের ফাঁসির আদেশ দেন তিনি। তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

বাকি ১১ আসামির সাজা হয়েছে বিভিন্ন মেয়াদে। আর বাকি তিন আসামি জামায়াত নেতা আলী আসহান মুহাম্মাদ মুজাহিদ, জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান এবং তার সহযোগী বিপুলের অন্য মামলায় ফাঁসির আদেশ আগেই কার্যকর হয়েছে। 

আদালত রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে তারেক রহমানের বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তারপরও তার ফাঁসির আদেশ না আসায় তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় ২৩ জনকে হত্যা এবং কয়েকশ মানুষকে আহত করার ঘটনায় মামলা হয়েছিল দুটি। একটি হত্যা মামলা এবং অন্যটি বিস্ফোরক আইনের মামলা। 

কাজল জানান, দুটি মামলাতেই তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তবে তারা মনে করেন, ফাঁসির দণ্ডই হওয়া উচিত ছিল।

প্রত্যাশিত দণ্ড না পাওয়া কী পদক্ষেপ নেবেন, জানতে চাইলে আইনজীবী কাজল বলেন, উচ্চ আদালতে যাব। সব আইনজীবীরা একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, তারেক রহমানের ফাঁসি ছাড়া এই দণ্ড পূর্ণাঙ্গ হয় না। তারেক রহমান যে অপরাধটা করেছেন, তিনি দুইবার যাবজ্জীবনে দণ্ডিত হয়েছেন। আমরা ফাঁসির বিষয়টা পর্যালোচনা চাইব।’

আইনের দৃষ্টিতে মৃত্যুদণ্ড এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড-দুটিই সর্বোচ্চ সাজা। তারেক রহমানকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে কেন যাবজ্জীবন দেয়া হয়েছে, বিচারক কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন বলেন, পুরো জাজমেন্ট পাইনি। কেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, কেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি, সেটা নিশ্চয় জজ সাহেব জানাবেন। আমরা রায় পর্যালোচনা করব।

হামলার সময় খালেদা জিয়া যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সে বিষয়ে আদালত কোনো মন্তব্য করেছে কি না- জানতে চাইলে কাজল বলেন, এখননো রায়টি পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। যতটুকু শুনেছি, তাতে কিছু বলা হয়নি।

তাহলে রায়ে প্রতিক্রিয়া কি- প্রশ্নে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, যারা শাস্তি পেয়েছেন, সে জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাচ্ছি। মামলাকে ভিন্নখাকে প্রবাহিত করার যে চেষ্টা করা হয়েছিল, সেটা দূর হয়েছে।

দণ্ডিত তারেক রহমানসহ ১৮ জনই পলাতক। কাজল জানান, দণ্ড ঘোষণার পর তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনা সময়ের ব্যাপার মাত্র। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এলকে