Alexa তারা টাকার বিনিময়ে সচিবালয়ে চাকরি দেন!

ঢাকা, শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৬ ১৪২৬,   ২১ মুহররম ১৪৪১

Akash

তারা টাকার বিনিময়ে সচিবালয়ে চাকরি দেন!

মাগুরা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৭ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:৫৭ ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অভিযুক্ত সুমন

অভিযুক্ত সুমন

মাগুরায় দুই সহোদরের বিরুদ্ধে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দফতরে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন- সদর উপজেলার দোয়ারপাড় এলাকার মো. ইসহাকের দুই ছেলে সুমন ও সাগর।

র‌্যাবের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে হাজতে আছেন সুমন। অপর ভাই সাগর পলাতক রয়েছেন। 

শহরের মীরপাড়ার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী সদর আমলী আদালতে মামলা করেছেন। মামলার বিবরণে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে মাহবুবুল আলম হাসানকে সচিবালয়ে চাকরি দেয়ার কথা বলে শাহিনুর কাদির সুমন ও মাহাবুবুল কাদির সাগর ১০ লাখ টাকা নেন। 

একইসঙ্গে মাগুরা সদরের রূপাটি গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে তানভির, ওহাব মোল্যার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, ছানোয়ার আলী, বাগিয়া গ্রামের শাহিনুর রহমান, মাঝাইল গ্রামের আবব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহের শ্রীফলতলা গ্রামের আবু সাঈদ আল ইমরান, মাগুরা সদরের হাজিপুর গ্রামের ইমারান সিদ্দিকের থেকেও চাকুরি দেয়ার কথা বলে মোট ৭৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই দুই সহোদর।

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে নগদ ও ব্যাংক চেকের মাধ্যমে এসব টাকা সুমন ও সাগরকে দেয়া হয়। একই বছরের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তরা ৮ জনকে চাকরিতে যোগদানের জন্য পৃথক নিয়োগপত্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সচিবালয়ের উপ-সচিব ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ দেন।

এসব নিয়োগপত্র ও অফিস আদেশ পেয়ে ভুক্তভোগীরা সচিবালয়ে গেলে অভিযুক্ত সুমন ও সাগর সেখানে কোনো অফিস কিংবা কাজ নির্ধারণ করে না দিয়ে বিভিন্ন দফতরে ঘোরাতে থাকেন। এতে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হলে তারা এগুলো যাচাই বাছাইয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখায় যোগাযোগ করেন। যেখান থেকে এসব কাগজপত্র ভুয়া বলে চিহ্নিত হয়। এ সময় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে টাকা ফেরত দেয়া হবে না মর্মে জানিয়ে দেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে পরবর্তীতে আবার যোগাযোগ করলে তাদের খুন করে লাশ গুম করে দেয়া হবে বলেও অভিযুক্তরা হুমকি দেন। মাগুরা শহরের পুরাতন বাজার এলাকার বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিন কাশেম জানান, তার বোন নুরুন্নাহার ও অপর একজন শফিকুল ইসলামকে চাকরির জন্যে ২০১৭ সালে সুমনকে ২৪ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দিয়েছেন।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত ওই দুইজন ভুয়া নিয়োগপত্র ও অফিস আদেশের মাধ্যমে একইভাবে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ ব্যাপারে তিনি অভিযুক্ত সুমন ও সচিবালয়ের পিয়ন শফিকুল ইসলাম যিনি সচিব সেজে তার বোনের ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন, মোর্তজা রনি নামে অপর একজন যিনি সচিবের একান্ত সহকারী পরিচয় দিয়েছিলেন; এ তিনজনের নামে ঢাকার মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেছেন। এই মামলায় গত ২ আগস্ট সুমন র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন।মোসলেহ উদ্দিন কাশেম বলেন, ‘সুমন ও সাগর তার বোন নুরুন্নাহার ও শফিকুল ইসলামের নামে সচিবালয়ে নিয়ে সার্ভিস বুক খুলে বেশ কিছুদিন কাজ করিয়েছেন। এমনকি এক মাসের বেতন পর্যন্ত দিয়েছেন। আঙ্গুলের ছাপ নিয়েছেন। পরবর্তীতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কথা বলে বাড়িতে অপেক্ষা করতে বলেছেন। পরে পুলিশ ভেরিফিকেশন না হওয়ায় খোঁজ খবর নিতে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে’। 

আবুল কাশেম আরো জানান, তার জানামতে এই প্রতারক চক্রটি শুধুমাত্র মাগুরা জেলার বিভিন্ন এলাকার ৩০ থেকে ৩৫ জন বেকার যুবককে চাকরি দেয়ার নামে ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মাগুরা সদর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে যথাসময়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর