তাপমাত্রা বাড়ায় জেগে উঠছে বরফে চাপা পড়া প্রাণঘাতী ভাইরাস

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭,   ১১ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

তাপমাত্রা বাড়ায় জেগে উঠছে বরফে চাপা পড়া প্রাণঘাতী ভাইরাস

বিজ্ঞান ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪০ ২ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৩:১১ ২ এপ্রিল ২০২০

বাড়ছে তাপমাত্রা, জেগে উঠছে বরফে চাপা পড়া প্রাণঘাতী ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া

বাড়ছে তাপমাত্রা, জেগে উঠছে বরফে চাপা পড়া প্রাণঘাতী ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া

ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মানবজাতির যুদ্ধ চলছে যুগ যুগ ধরে। একের পর এক ভাইরাস এসে মানুষের প্রাণ কাড়ে, এরপর প্রতিষেধক আবিষ্কার করে তা ধ্বংসও করা হয়। প্রশ্ন হল, যদি হাজার বছর আগের বিলুপ্ত রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র অনুজীবের সম্মুখীন আমাদের হতেই হয়, তাহলে রক্ষা হবে কী?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন মৃত্যু-মিছিল শুরু হতে আর দেরি নেই। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাণঘাতী অতীতের অনেক মাইক্রোবস (রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষুদ্র অনুজীব) ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

হিমবাহ গলার হার ২০০০ সাল থেকে দ্বিগুণ হয়েছে, নতুন এক গবেষণায় এমনটাই উঠে এসেছে। এ পর্যন্ত হিমবাহ যতখানি গলেছে, তার এক-চতুর্থাংশ হয়েছে গত চার দশকে। হিমবাহ গলার হার খুব দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। ফ্রান্সের এইক্স-মারসেলি ইউনিভার্সিটি বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র অনুজীবের জন্য বরফের স্তূপ খুব ভালো সংরক্ষকের কাজ করে। কারণ অত্যন্ত ঠাণ্ডা, কোনো অক্সিজেন নেই এবং সূর্যের আলোও পৌঁছয় না। ফলে যুগ যুগ ধরে বরফের তলায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে এরা।

পৃথিবীর দুই প্রান্তে বছরের পর বছর ধরে যে বরফের আস্তরণ জমা হয়ে রয়েছে, তাপমাত্রা বাড়ার কারণে তা প্রতিদিনই গলতে শুরু করেছে। ফলে বরফ স্তূপের গভীরে চাপা পড়ে থাকা এসব প্রাণঘাতী ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা। যেমন- নাসার বিজ্ঞানীরা ২০০৫ সালে আলাস্কার একটি বরফ হ্রদ থেকে ৩২ হাজার বছরের পুরনো এক ব্যাকটেরিয়ার খোঁজ পেয়েছেন। এর দু’বছর পর আন্টার্কটিকার বরফে চাপা পড়ে থাকা ৮০ লাখ বছর পুরোনো এক ব্যাকটেরিয়ার সন্ধানও পেয়েছেন।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ছে, তাতে অ্যান্টার্কটিকার হিমবাহের জন্য হুমকি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। ২১০০ সাল নাগাদ অসংখ্য হিমবাহের অর্ধেক গলে নিঃশেষ হবে। তা থেকেই বেরিয়ে আসবে অসংখ্য ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া। এর ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্ভরশীল ১৬৫ কোটি মানুষের জীবন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। সূত্র:  ফক্স নিউজ, আনন্দবাজার পত্রিকা

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে