.ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২১ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৭ ১৪২৫,   ১৪ রজব ১৪৪০

তাদের মুখে এখন হাসি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৪:১৩ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৪:২৩ ১৪ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের সুহিলপুর ইউপির তিতাস নদীর তীরে ঋষিপাড়া। পাড়ার পুরুষরা জুতা সেলাই, পলিশ ও কুলির কাজ করে উপার্জন করেন। এ আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খান তারা। তাই অভাবে শিক্ষাসহ নানা দিকে পিছিয়ে পড়তেন তাদের সন্তানরা। তবে এ পাড়ার নারীদের আলোকবর্তিকা হয়ে আসেন ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস। অসহায় নারীদের মুখে ফুটে হাসি।

ইউএনও উদ্যোগে নির্মাণ ঋষিপাড়ার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দেখা যায়, নারীরা সেলাইয়ের কাজ ও মোমবাতি তৈরিতে ব্যস্ত। ১১টি সেলাই মেশিনে বিভিন্ন ধরনের কাপড় ও পাটের ব্যাগ তৈরি করছে। কেউ তৈরি করছেন মোমবাতি।

সুমিত্রা ঋষি বলেন, বাবা কুলির কাজ করে পরিবারে ৭ সদদ্যের ভরণ পোষণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। লেখাপড়াতো দূরের কথা। এখন ইউএনও’র উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নিয়ে অভাব ঘুচেছে। এতে পরিবারের সবাই খুশি।    

সুমিত্রা বলেন, প্রথমধাপে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। মেয়েদের থ্রি-পিছ, সেলোয়ার, কামিজ ও বাচ্চাদের কাপড় তৈরি করে ভালো আয় করছি। আমার উপার্জনে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

শাখা ঋষি বলেন, পরিবারে ৭ সদস্য থাকায় বাবার রোজগারে সংসার চলেনা। অভাবের কারণে পঞ্চম শ্রেণীর পর পড়াশুনা হয়নি। এখানে প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন স্বাবলম্বী। ছেলেদের পাঞ্জাবী, বাচ্চাদের ফ্রকসহ নারীদের শাড়ীতে ডিজাইনের কাজ করে। রোজগার করায় পরিবারে আমার সম্মান বেড়েছে।

সমতারা ঋষি বলেন, মোমবাতি তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে মোমবাতি তৈরীর করছি। তৈরিকৃত মোমবাতি প্যাকেটজাত করে শহরের বিভিন্ন দোকানে পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছে।

সুহিলপুর ইউপি নারী সদস্য আনোয়ারা বেগম বলেন, নির্বাচনী এলাকায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির তদারকি করি। সদর ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌসের উদ্যোগে ঋষিপাড়ার নারীরা এখন স্বাবলম্বী হয়েছে। তাদের মুখে এখন হাসি ।

সদর উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত বলেন, প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সুবিধাবঞ্চিত ঋষিপাড়ার নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি নির্মাণ হয়েছে। সদর ইউএনও উদ্যোগে ২৪০ নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কেন্দ্রটি ইউএনসিডিএফ’র সদস্যরা ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা করেন। ফোরামের উদ্যোগে নারীদের পণ্য তৈরির কাচামাল সরবরাহ করা হয়। তাদের তৈরি পণ্য নারী উন্নয়ন ফোরামের শো-রুম “অপরাজিতা” নামক দোকানে বিক্রি হয়। এছাড়া শহরের বিভিন্ন মার্কেটের কাপড়ের দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সদর ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ঋষিপাড়া পুরুষরা কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করে। নারীরা ছিল অবহেলিত। তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেই। দুইধাপে ২৪০ নারীকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। অর্থের ব্যবস্থা করে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প, নকশী কাঁথা সেলাই, মোমবাতি তৈরি ও টেইলারিংয়ের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তারা স্বাবলম্বী হওয়ায় পরিবারে গুরুত্ব পাচ্ছে। অবহেলিত নারীদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি তৃপ্ত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ