Alexa তাদের একটাই দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক

ঢাকা, বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৩ ১৪২৬,   ১৮ মুহররম ১৪৪১

Akash

তাদের একটাই দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৫:২৮ ১৮ আগস্ট ২০১৯  

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

১৮ আগস্ট মাকালকান্দি গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনী হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হাওরাঞ্চল কাগাপাশা ইউনিয়নের মাকালকান্দি গ্রামের ৪৪ জন নারীসহ ৭৮ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও বেয়নট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের নগদ ১ হাজার টাকা এবং একটি করে সনদপত্র দেন। কিন্তু এরপর তারা আর কোনো সাহায্য সহায়তা পাননি।

১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে মহকুমা শান্তি কমিটির সঙ্গে একটি সভা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। এ সভায় বানিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জ থানার হিন্দু প্রধান এলাকায় আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়।

আর এতে পাক সেনাদের সঙ্গে অংশ নেয় সৈয়দ ফজলে হক মোতাওয়াল্লী, বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক কনর মিয়া, আব্দুল খালিক, আজমান, ইব্রাহিম শেখ, আতাউরসহ অনেকেই।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৮ আগস্ট ভোরে ২৫/৩০টি নৌকায় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রসহ মাকালকান্দি গ্রামে হামলা করা হয়। জ্বালিয়ে দেয়া হয় শত শত ঘরবাড়ি।

এ গ্রামে সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কোনো স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়নি। হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে যারা বেঁচে গেছেন তারাও পাননি নূন্যতম সুযোগ-সুবিধা।

ওই গ্রামের মিনতি রানীর কোল থেকে শিশুকে কেড়ে নিয়ে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। তিনি বলেন, আমার কোল থেকে সন্তানকে ছিনিয়ে নেয় ওরা। এর পর আছড়িয়ে হত্যা করে। তাদের হাতে-পায়ে ধরেও সন্তানকে বাঁচাতে পারিনি।

বানিয়াচং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল খালেক বলেন, মাকালকান্দিতে এখনো কোনো স্মৃতিস্তম্ভ হয়নি। আমরা চাই দ্রুত সেখানে সরকারি উদ্যোগে একটি স্মৃথিস্তম্ভ করা হোক। এদিকে, হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে যারা বেঁচে গেছেন তারাও পাননি নূন্যতম সম্মান ও বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ-সুবিধা। এদের অনেকেই অর্ধাহারে-অনাহারে দিন যাপন করছে। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে এদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে না আসলেও তাদের একটাই দাবি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম