তাজিন বেঁচে আছেন স্মৃতির পাতায় ও ভক্তদের মনে

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ২১ শাওয়াল ১৪৪০

তাজিন বেঁচে আছেন স্মৃতির পাতায় ও ভক্তদের মনে

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৫২ ২২ মে ২০১৯   আপডেট: ১৪:১৬ ২২ মে ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

এক বছর আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। তাকে ছাড়াই কেটে গেছে একটি বছর। তিনি আর কখনো হাসবেন না কিংবা তার চঞ্চলতা মাখা বাক্যালাপে মুগ্ধতাও ছড়াবেন না। অভিনয়ে কখনোই আর দর্শকের মনে দোলা দেবেন না। মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই নিভে গেলো প্রাণোচ্ছ্বল এই অভিনেত্রীর জীবন প্রদীপ। ২০১৮ সালের (২২ মে) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেন সদা হাস্যোজ্জ্বল ছোটপর্দার নন্দিত অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

তবে তাজিন আজও রয়েছেন ভক্তদের মনে। তার স্মৃতিগুলো থেকে যাবে প্রিয়জনদের অন্তরে। ঠিক তেমনটাই যেন প্রমাণ দিতে চাইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। তাজিন আহমেদকে স্মরণ করে স্মৃতিকাতর হয়েছেন তার সমসাময়িক অভিনেত্রী তানভীন সুইটি। তিনি তাজিন আহমেদ ও অভিনেতা টনি ডায়েসের সঙ্গে তোলা পুরনো একটি ছবি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, তাজিন আহমেদ। এক বছর হলো তুমি আমাদের ছেড়ে চলে গেছো। অনেক ভালো মনের মানুষ ছিলে তুমি। ভালো মানুষগুলোকে কখনো ভুলতে পারিনা। এরা শুধু সবার জন্য করে যায়, এদের জন্য কেউ করেনা। মাঝে মাঝেই তোমার কথা মনে হয়। সবসময় দোয়া করি, যেখানে থাকো ভালো থেকো বোন। অনেক ভালোবাসা রইলো।

১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই নোয়াখালী জেলায় তাজিন আহমেদের জন্ম হলেও তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে পাবনায়। গুণী অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ পড়াশোনা করেছেন ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজে। ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি। নাট্যাঙ্গনে কাজ করার পাশাপাশি বেশ কয়েক বছর সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন। দৈনিক ভোরের কাগজ ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। 

মায়ের হাত ধরেই অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন তাজিন। নাটকের দল ‘নাট্যজন’-এর হয়ে তিনি মঞ্চে কাজ শুরু করেন। ১৯৯১ সালে বিটিভির ‘চেতনা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপস্থাপনা শুরু তার। কিন্তু টিভি নাটকই তাকে সর্বাধিক জনপ্রিয়তা ও প্রশংসা এনে দেয়। তার অভিনীত বিটিভির ‘আঁধারে ধবল দৃপ্তি’ এখনও মানুষকে স্মৃতিতাড়িত করে। 

এরপর ১৯৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচারিত ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকের মধ্য দিয়ে অভিনয় যাত্রা শুরু তার। ১৯৯৭ সালে ‘থিয়েটার আরামবাগ’ দিয়ে মঞ্চনাটক শুরু করেন। এরপর ‘নাট্যজন’ থিয়েটারের হয়ে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন। পরবর্তী সময়ে আরণ্যক নাট্যদলের ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন লম্বা সময়। তার সর্বশেষ অভিনীত মঞ্চনাটক ছিলো এটি।

হুমায়ূন আহমেদের নাটক ‘নীলচুড়ি’তে অভিনয় করেও বেশ আলোচিত হন তাজিন। তার সর্বশেষ অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘বিদেশি পাড়া’। অভিনয়ের বাইরে লেখালেখির কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। লিখেছেন একাধিক নাটক। উপস্থাপনায়ও ছিলেন বেশ দাপুটে। এনটিভিতে প্রচারিত ‘টিফিনের ফাঁকে’ অনুষ্ঠান টানা ১০ বছর উপস্থাপনা করেছিলেন তিনি। একাত্তর টিভিতেও ‘একাত্তর সকাল’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করতেন এই তারকা।

এ অভিনেত্রী বেশ কিছু নাটক লিখেছেন ও পরিচালনাও করেছেন। তাজিনের লেখা ও পরিচালনায় তৈরি হয় ‘যাতক’ ও ‘যোগফল’ নামে দুটি নাটক। তার লেখা উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে- ‘বৃদ্ধাশ্রম’, ‘অনুর একদিন’, ‘এক আকাশের তারা’, ‘হুম’, ‘সম্পর্ক’ ইত্যাদি।

২০০২ সালে তিনি জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডে যোগ দেন। গেল বছরে ববি হাজ্জাজের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) দলে যোগ দিয়েছিলেন তাজিন। পেয়েছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সম্পাদক (সাংস্কৃতিক) পদ।

ভালোবাসার মানুষ ছিলেন, ভালোবাসতে জানতেন তিনি। সেই ভালোবাসার আহ্বানে সংসার পেতেছিলেন দুইবার। প্রথমে ঘর বেঁধেছিলেন নির্মাতা এজাজ মুন্নার সঙ্গে। কয়েক বছরের ব্যবধানে তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর বিয়ে করেছিলেন ড্রামার রুমি রহমানকে। তবে তার কোনো সন্তানাদি ছিলো না। 

গেল বছর ২২ এপ্রিল সকালে তার হার্ট অ্যাটাক করলে দ্রুত তাকে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে দেয়া হয় তাকে। অবশেষে সব বাঁধন ছিন্ন করে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তাজিন আহমেদ। এখন হাজারো মানুষে হৃদয়ে বেঁচে আছেন ও বেঁচে থাকবেন এই মানুষটি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস