তাকওয়া অর্জনের চারটি উপায় (পর্ব- ২)
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=117350 LIMIT 1

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

তাকওয়া অর্জনের চারটি উপায় (পর্ব- ২)

মাওলানা ওমর ফারুক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৩৩ ৬ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৮:৩৭ ৬ জুলাই ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

‘তুমি যদিও তাকে দেখ না, তিনি তো তোমাকে দেখেন’।

আরেক হাতিয়ার, হিম্মত। যতটুকু হিম্মত আল্লাহ আপনাকে দিয়েছেন তা কাজে লাগান এবং এভাবে আগে বাড়তে থাক। হিম্মত এমন এক শক্তি যার মোকাবেলা করার মতো অন্য কোনো শক্তি দুনিয়াতে নেই। 

আরো পড়ুন>>> তাকওয়া অর্জনের চারটি উপায় (পর্ব-১)

এই যে সিগারেটের অভ্যাস। কত মানুষ সিগারেটের অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছে। নিয়ত করে, খাবে না, আবার শুরু করে। আবার নিয়ত করে, খাবে না, আবার শুরু করে। এভাবে শেষবার যখন বলে নাহ্, আর খাব না। তখন আর খায় না। তো এই হিম্মতটা আল্লাহর কাছে অনেক দামি। হিম্মতের সঙ্গে আল্লাহর রহমতের খুব বেশি সম্পর্ক। হিম্মত হলে আল্লাহর রহমত আসে। গোনাহ থেকে বাঁচার, তাকওয়া হাসিল করার যত উপায় আছে এর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর হলো হিম্মত করা। আল্লাহ দেখছেন, বান্দা আমার জন্যে চেষ্টা করছে।

এ আয়াতের ‘সা‘আ লাহা’-এর দ্বারা হিম্মত বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা এই হিম্মতের কদর করবেন- এই ওয়াদা আল্লাহ তায়ালা আগেই দিয়েছেন। বান্দা হিম্মতকে কাজে লাগালে আল্লাহ বলেন, আমি হিম্মতের শোকর করব। এজন্যে দেখা যায়, বান্দা যখন তার সর্বোচ্চ হিম্মতকে কাজে লাগায়, তখন সে সফল হবেই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাকওয়াবানদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে অবর্ণনীয় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। কিয়ামত দিবসে আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভ এবং তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত ও দর্শন লাভের সৌভাগ্য অর্জন করা সম্পর্কে আল্লাহ্‌ বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহভীরুগণ জান্নাত এবং নহরের মধ্যে থাকবে। সত্য ও সন্তোষটির আবাস স্থলে পরাক্রমশালী বাদশাহ‌র দরবারে।’ (সূরা ক্বামার ৫৪/৫৫)।

এরকম অসংখ্য জায়গায় আল্লাহ এই ঘোষণা দিয়েছেন। এটা শুধু আখিরাতের পুরস্কার। আল্লাহ মুমিনদের দুনিয়াতেও একেবারে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন না। আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (সূরা তালাক আয়াত-২,৩)।

আরো পড়ুন>>> ইতালীর বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী নেগ্রার ইসলাম গ্রহণ

এই আয়াতের ব্যাখায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়াকে ভয় করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বিপদ আপদ থেকে নিষ্কৃতির পথ বের করে দেবেন এবং এমনভাবে রিজিক দেবেন যে, সে বুঝতেও পারবে না তা কোথা থেকে এসেছে। ইবনু আব্বাস প্রমুখ বলেন: এটা তালাকের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সুযোগ। অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার নির্দেশানুপাতে তালাক দেবে ইদ্দতের মাঝে ফিরিয়ে নেয়ার একটি সুযোগ আল্লাহ তায়ালা করে দেবেন। তিনি আরো বলেন : দুনিয়া ও আখেরাতের প্রত্যেক বিপদ থেকে মুক্তি দেবেন (কুরতুবি)।
 
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর নির্ভর করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’

ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পেছনে আরোহী ছিলেন। তাকে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে বৎস! আমি তোমাকে কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দেব। তুমি আল্লাহ তায়ালাকে হেফাজত কর, আল্লাহ তায়ালা তোমাকে হেফাজত করবেন, তুমি আল্লাহ তায়ালাকে হেফাজত কর সর্বত্র আল্লাহ তায়ালাকে পাবে। যখন তুমি কিছু চাইবে তখন আল্লাহ তায়ালার কাছেই চাইবে, যখন সাহায্য চাইবে তখন আল্লাহ তায়ালার কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রেখ! সমস্ত মানুষ যদি একত্রিত হয় তোমার কোনো উপকার করার জন্য তারা তোমার কোনো উপকার করতে পারবে না তবে আল্লাহ তায়ালা যেটুকু তাকদিরে লিখে রেখেছেন। আর যদি সবাই একত্রিত হয় তোমার কোনো ক্ষতি করার জন্য তাহলে তারা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না তবে আল্লাহ তায়ালা তোমার জন্য যেটুকু ক্ষতি তাকদিরে লিখে রেখেছেন। (তিরমিযী হা. ২৫১৬, সহীহ)।

কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, আজ আমাদের মুসলিম সমাজে তাকওয়ার বড়ই অভাব পরিলক্ষিত হয়। একাধিক আইটেমের তরকারি ছাড়া আমাদের খাবার হয় না। রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে সপরিবারে হাজার টাকা খরচ করে লা , ডিনার করছি। অন্যদিকে আমাদের গরিব-অসহায় দরিদ্র আত্মীয় প্রতিবেশীটির দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। দেশে বিদেশে ঘুরতে যাচ্ছি লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে।

এর নামই কী তাকওয়া?

কিছু নামাজ, রোজা আদায় করেই ভাবি আমরা অনেক বড় আল্লাহর ইবাদতগুজার বান্দা হয়ে গেছি। আমরা নামাজ রোজা ও আদায় করছি, আবার মিথ্যাও বলছি, ওজনেও কম দিচ্ছি, মানুষকে ধোঁকাও দিচ্ছি। নানা রকম ছুতোয় ওয়ারিসদের সম্পদ থেকে বিরত করছি। প্রতিবেশী ও নিকট আত্মীয়দের হক্ক থেকে বিরত করছি। এটাই কী আমাদের তাকওয়া? সাহাবায়ে কেরামগণ ছিলেন তাকওয়ার ব্যাপারে যত্নশীল। তাদের জীবন থেকে একটা উদাহরণ দেয়া যাক। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তিনি বলেন, হজরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) এর একজন গোলাম ছিলো। সে তাকে দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ খাজনা প্রদান করতো। হজরত আবু বকর (রা.) তা থেকে আহার করতেন। একদিন গোলামটি কিছু জিনিস নিয়ে আসলো এবং হযরত আবু বকর তা থেকে কিছু আহার করলেন। গোলামটি তখন তাকে বলল, আপনি কী জানেন এটি কী? হজরত আবু বকর বললেন, এটি কী জিনিস? সে বললো, আমি জাহেলিয়াতের যুগে এক ব্যক্তির ভাগ্য গণনা করেছিলাম। অথচ আমি কোনোরূপে ভাগ্য গণনা জানতাম না। আসলে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছিলাম। আজ তার সাথে সাক্ষাত হলে সে আমাকে এটি দিয়েছে। যা থেকে আপনি আহার করলেন। আবু বকর (রা.) তখন তার মুখে নিজের আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিলেন এবং বমি করে পেটের সবকিছু বের করে ফেললেন। (তাবরাযি)।

তাকওয়ার ফলাফল দুনিয়া ও আখিরাতে উভয় জগতেই খুব সুদূরপ্রসারি। তাকওয়াই হচ্ছে ওই বস্তু, যা মানুষকে আল্লাহ তায়ালার যেকোনো হুকুম পাবন্দীর সঙ্গে মেনে চলতে বাধ্য করে। দুনিয়ার ক্ষেত্রে দেখুন, কোনো সরকার জনগণের জন্য আইন-কানুন জারি করলে অনেক সময় তা কয়েক পয়সার বিনিময়ে বেচা-কেনা হয়ে যায়। ঘুষের বাজার গরম হয়ে ওঠে, আর সে বিধানের কোনো মূল্যই থাকে না। প্রকাশ্যে তা লঙ্ঘিত হতে থাকে।

আর কোনো এলাকায় আইন-কানুনের পাবন্দি থাকলেও দেখা যায়, তা কেবল পুলিশের ডান্ডা ও আদালতি ঝামেলা ভয় থাকা পর্যন্তই। এরপর আর কেউ নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করে না। কিন্তু একান্ত নির্জনতায় এবং নিশুতি রাতের অন্ধকারেও যে জিনিস মানুষের অন্তরে অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করে তা হলো আল্লাহ তায়ালার ভয়।

খোদাভীতির একটি দৃষ্টান্ত: হজরত ওমর (রা.) তাঁর খেলাফতকালে লোকজনের খোঁজ-খবর নেয়ার জন্য রাতেরবেলা মদিনা মুনাওয়ারায় টহল দিতেন। এক রাতে তাহাজ্জুদের পর টহল দিচ্ছিলেন। হঠাৎ লক্ষ করলেন, একটি ঘর থেকে কথাবার্তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সাধারণ অবস্থায় কারো ব্যক্তিগত কথা আড়ি পেতে শোনা জায়েয নয়। কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অনুমতি রয়েছে। তো কথাবার্তার ধরন শুনে তার কৌতূহল হয়। তিনি ঘরের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালেন এবং শুনতে পেলেন, এক বৃদ্ধা তার মেয়েকে বলছে, ‘বেটি! আজ তো উটের দুধ কম হয়েছে। এত অল্প দুধ বিক্রি করে দিন গুজরান করা কষ্ট হবে। তাই দুধের সঙ্গে একটু পানি মিশিয়ে দাও।’

মেয়ে উত্তরে বলল, ‘মা! আমীরুল মুমিনীন তো দুধের সঙ্গে পানি মেশাতে নিষেধ করেছেন?’ বৃদ্ধা বললেন, ‘আমীরুল মুমিনীন কী আমাদের দেখছেন? তিনি হয়তো নিজ ঘরে ঘুমিয়ে আছেন। তুমি নিশ্চিন্তে পানি মেশাতে পার।’

এবার মেয়ে বলল, ‘মা, আমীরুল মুমিনীন এখানে নেই এবং তার কোনো লোকও নেই। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তো আছেন! তিনি তো দেখছেন! তাঁর কাছে আমরা কী জবাব দেব?’

ওমর (রা.) দেয়ালের ওপাশ থেকে সব কথা শুনতে পাচ্ছিলেন। এতটুকু শুনেই তিনি চলে এলেন এবং পরদিন লোক পাঠিয়ে সে ঘরের খোঁজখবর নিলেন। তারপর বৃদ্ধার কাছে পয়গাম পাঠালেন যে, ‘আপনি সম্মত হলে আপনার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে দিতে চাই।’ এভাবে তাকওয়ার বদৌলতে মেয়েটি আমীরুল মুমিনীনের পুত্রবধু হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করল। এই বরকতময় ঘরের তৃতীয় পুরুষে জন্মগ্রহণ করলেন খলিফা ওমর বিন আবদুল আজীজ (রহ.), যাকে প্রথম খলীফায়ে রাশেদ বলা হয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে