Alexa তরুণদের মন জয় করতে চায় প্রধান দুই দল

ঢাকা, রোববার   ২১ জুলাই ২০১৯,   শ্রাবণ ৭ ১৪২৬,   ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০

তরুণদের মন জয় করতে চায় প্রধান দুই দল

এহসানুল হাবিব, চবি

 প্রকাশিত: ১৬:১৬ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৬:১৬ ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটার আছে দুই কোটির উপরে। বলা হচ্ছে এবার তরুণ ভোটাররা হয়ত নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।  

তাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি এই দুই দলই তাদের ইশতেহারে তরুণদের দিকে বাড়তি মনোযোগ দিয়েছে। 

আসুন জেনে নিই, তরুণদের জন্য আওয়ামী লীগের ইশতেহারে কি প্রতিশ্রুতি রয়েছে?

মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকে, বিশেষ করে তরুণদের মেধা, সৃজনশীল ক্ষমতা কাজে লাগানোর জন্য অধিকতর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উপরে বিশেষ জোর দেয়ার কথা বলছে আওয়ামীলীগ।

ইশতেহারে তরুণদের জন্য যে অংশটি রয়েছে সেখানে আওয়ামী লীগ আবারো 'ডিজিটাল' শব্দটি গুরুত্বের সাথে ব্যবহার করেছে। যে শব্দটি গত দুই বারের সংসদ নির্বাচনে তাদের প্রচারণায় ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে।

সরকারি চাকরীতে শুধুমাত্র অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা ছাড়া আর কোনও কোটা থাকবে না।

তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে বিনা জামানতে ও সহজ শর্তে জনপ্রতি দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা আরো বিস্তৃত করা হবে।

আগামী তিন বছরের মধ্যে সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা। ব্যাপক সংখ্যক নন-গ্রাজুয়েটের কর্মসংস্থান হবে কৃষি উৎপাদন এবং বিপন্ন সমবায়ে।

আগামী পাঁচ বছরে এক কোটে ২৮ লাখ কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা।

ত্রিশোর্ধ শিক্ষিত বেকারের জন্য বেকার ভাতা চালু করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা পরীক্ষা করে তা বাস্তবায়ন করার জন্য একটি কমিশন গঠন করা।

সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা।

তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী দেশের প্রতিটি জেলায় প্রসারিত করা হবে।

এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে।

এবার জেনে নিই, তরুণদের জন্য বিএনপির কি প্রতিশ্রুতি?

প্রথম তিন বছরে দুর্নীতি মুক্ত ব্যবস্থায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে দুই লাখ মানুষকে চাকরী দেয়া।

এক বছর অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষিতদের বেকার ভাতা প্রদান। এদের যৌক্তিক অর্থনৈতিক উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা করা।

শিক্ষার্থীদের উপর সকল ভ্যাট বাতিল করা।

ভ্যাট বিরোধী, কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের বিরুদ্ধে আনা সকল মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া।

তরুণ দম্পতি ও উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য ২০ বছর মেয়াদি ঋণ চালু করা।

আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এবং বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের সুবিধার্থে মেধাবীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করার কথাও রয়েছে বিএনপির ইশতেহারে।

কোন দল সরকার গঠন করবে এবং তরুণদের নিয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি কতটুকুন বাস্তবায়িত হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। সেজন্য আমাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ