তবে একলা চলো রে

ঢাকা, বুধবার   ২৭ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭,   ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

তবে একলা চলো রে

 প্রকাশিত: ১৮:০৮ ২ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৮:১৯ ২ এপ্রিল ২০২০

পেশাগত পরিচয়ে আহসান ইমাম শিক্ষক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। করেন লেখালেখি এবং গবেষণা। বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম বিভাগে রয়েছে তার নিয়মিত অংশগ্রহণ

কয়েকদিন আগেও বাংলাদেশের মানুষ শঙ্কিত ছিলো। সঙ্কট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। যদিও পুরো বিশ্বের চিত্র (করোনা ভাইরাস কেন্দ্রিক) এখনো যথেষ্ট শঙ্কার। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকার এবং জনগণের সমন্বয়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম (সংবাদপত্রের তথ্য এবং আইইডিসিআর মতে)। যদি তাই হয় বা নাও হয়, আমাদের আরো কিছুদিন বিগত দিনের মতোই আচরণ করতে হবে। বলা যায়- একলা চলার নীতি। যদিও এই একলা চলার নীতি, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে আমরা জানি। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন-

         যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে
          তবে একলা চলো রে’

এখনকার একলা চলা যদিও একটু ভিন্নতর। তবে কয়েকদিনে আমরা অনেকটাই বুঝে গিয়েছি, বাঙালি পারে অর্থাৎ আমরা পারি। কারণ এই ভয়ঙ্কর অদৃশ্য ভাইরাসকে রুখতে, সংক্রমণ রোধ করতে আমরা এখন পর্যন্ত অনেকটা সফল। এই সংক্রমণ ঠেকানোর পদক্ষেপগুলো আয়ত্বে আনা সহজ নয় বা সহজও ছিলো না। বাঙালির সংস্কৃতিতে ঠিক খাপ খায় না এমন আচরণ এই কঠিন সময়ে আমরা পালন করতে পেরেছি, এখনো পারছি।

বাঙালি আড্ডাপ্রিয়, সমালোচনাপ্রিয়, উৎসবপ্রিয়, ভোজনপ্রিয়, ভ্রমণপ্রিয়, বন্ধুবৎসল, সাহায্যকারী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাহসী যা অনেকক্ষেত্রে নিয়মপালনের পরিপন্থী, বাঙালি কখনো কখনো অসচেতন (অবশ্য মানুষ মাত্রই এমন)। এই বিষয়গুলো দীর্ঘদিন আমাদের শাসন করছে। হঠাৎ করেই এসব থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হচ্ছে আমাদের। আমরা সেটা পারবো এমনটা ধারনার বাইরে ছিলো (কিছু ঘটনা ছাড়া)।

চায়ের আড্ডা, অফিসের আড্ডা, স্কুল-কলেজের আড্ডা, বিভিন্ন বয়সী বন্ধুদের আড্ডা, প্রেমিক-প্রেমিকার আড্ডা, মালিকের আড্ডা, শ্রমিকদের আড্ডা, পথশিশুদের আড্ডা, ভাবিদের আড্ডা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আড্ডা, ড্রাইভার-হেলপারদের আড্ডা, বুয়াদের আড্ডা, ভিক্ষুকদের আড্ডা, এরকম আরো শত ধরনের আড্ডা বিগত বেশ কিছু দিন হয়নি। উদ্দেশ্য, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো। এরমধ্যে বায়ুদূষণের মাত্রাও কমে এসেছে।

এরমাধ্যমে আমরা সুন্দর, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়তেও সহায়তা করছি। প্রকৃতি প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। বিশুদ্ধ বাতাস অনুভব করতে শুরু করেছি। হয়তো আমাদের  খানিক হতাশা, বিষণ্নতা, অবসাদ ঘিরে রেখেছে এমন বন্দী জীবনে। কিন্তু এও ঠিক একটি ভারসাম্যহীন পরিবেশকে ভারসাম্যের দিকে নিতে পারছি। সামাজিক যোগাযোগ হয়ত সরাসরি হচ্ছে না তবে ভার্চুয়ালি আমরা কাছাকাছি রয়েছি। আর যারা দুস্থ, অসহায়, খেটে খাওয়া মানুষ, উদয়াস্ত যারা কাজ করেন, দিন এনে দিন খান, তাদের সাহায্যে সরকার এবং অন্যান্য সংগঠন, এমনকি অনেক মানুষ ব্যক্তিগত সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। সরকার ৯ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন অফিসের ছুটি বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছে, এমনো শোনা যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ত আগামী ঈদুল ফিতরের পর খুলে দেয়া হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, এমন পরিস্থিতিতে আরো বেশকিছু দিন আমাদের একলা চলার নীতিতে চলতে হবে। এটিও আমাদের জন্য কঠিন হবে না বোধকরি। আমরা পারি, আগামী দিনেও পারবো। আমাদেরকে পারতেই হবে, বৃহৎ স্বার্থে ধৈর্য্যের বিকল্প কিছু নেই। এমন সংকট হয়ত থাকবে না। আবার আমরা সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে প্রবেশ করবো। শুধু আর কটা দিন করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে দেশের সব মানুষকে। ঘরে থাকতে হবে আনন্দ বিনোদনের সঙ্গে। তবে বজ্রানলে আপন বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে, একলা জ্বলো রে। সব মানুষের জন্য শুভ কামনা।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর