ঢাবি শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন ‘সংকটকালীন বৃত্তি’

ঢাকা, শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪২৭,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ঢাবি শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন ‘সংকটকালীন বৃত্তি’

ঢাবি প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৩:৪৫ ৭ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৫:২৩ ৭ এপ্রিল ২০২০

ঢাবি শিক্ষার্থীদের জন্য ডিইউডিএসের ব্যতিক্রমী ‘সংকটকালীন বৃত্তি’

ঢাবি শিক্ষার্থীদের জন্য ডিইউডিএসের ব্যতিক্রমী ‘সংকটকালীন বৃত্তি’

 

দেশের স্বনামধন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। দেশের যেকোনো দুর্যোগ কিংবা ক্রান্তিলগ্নে সবসময় এগিয়ে এসেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সবসময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একজন শিক্ষার্থীর সমস্যা কিংবা অধিকার আদায়ে সবসময় ঐক্যবদ্ধ এই শিক্ষার্থীরা। এখানে অধ্যয়নরত অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মধ্যবিত্ত কিংবা গ্রাম থেকে উঠে আসা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীই টিউশন করিয়ে কিংবা আশেপাশে ছোট কোনো কাজ করে নিজে চলে এমনকি পরিবারকেও আংশিক সাহায্য করার চেষ্টা করে। মাসের শুরুতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী টিউশনির টাকা পেয়ে নিজে পুরো মাস চলত এবং পরিবারের খরচও দেয়ার চেষ্টা করতো। কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে তাদের এই আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে অনেকেই নিজে এবং পরিবার নিয়ে রয়েছেন সংকটে।

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি’ (ডিইউডিএস) এসব শিক্ষার্থীদের তারা সাময়িক কিছু আর্থিক সহায়তা ‘সংকটকালীন বৃত্তি’ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আর্থিক সহায়তা নেয়া শিক্ষার্থী আবার সেই টাকা ফেরত দিতে পারবে। আর যদি এই টাকা ফেরত দেয়ার সক্ষমতা কারো না থাকে তাহলে ফেরত দিতে হবে না। শিক্ষার্থী চাইলে এ প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। উদ্যোগ ও সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে ডেইলি বাংলাদেশকে এসব তথ্য জানান ‘ডিইউডিএস’ এর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল। 

উদ্যোগের বিষয়ে ডিইউডিএস সভাপতি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে ডিইউডিএস দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোকে তাদের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করেছে।

উদ্যোগটির শুরুর গল্প জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ৩ এপ্রিল থেকে এ উদ্যোগ নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আমাদের সাবেকদের সাথে কয়েকদিন আগে এই বিষয়ে কথা হওয়ার পর এ বিষয়ে আমরা চিন্তা করতে শুরু করি। সে লক্ষ্যে পরবর্তীতে আমরা টাকা উঠাতে শুরু করি। প্রথমে আমরা চিন্তা করেছিলাম, যেহেতু আমরা দেশের অনেক জায়গায় ছড়িয়ে আছি তাই আমাদের সদস্যদের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে অসহায় মানুষদের মাঝে খাবার পৌঁছে দিব। পরে দেখলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েরই অনেক শিক্ষার্থী কষ্টে আছে। তাই তাদেরকেই সাহায্য করা বেশি প্রয়োজন। তারপরই আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে, আমরা বাইরে সাহায্য না করে আমাদের শিক্ষার্থীদের সাহায্য করব। যা এককালীন একটা সাহায্য হবে। যাকে আমরা সংকটকালীন বৃত্তি বলছি।

কারা এই বৃত্তি পাবে এবং এটার পুরো কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল বলেন, যারা প্রতিমাসে নিজেদের টিউশনির টাকায় চলে কিংবা নিজের পরিবারকে সাহায্য করে তাদের সাহায্যের লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। সেই লক্ষ্যে আমরা অনলাইনে আবেদনও সংগ্রহ করছি। গত তিন দিনে প্রায় ১৩০টির মতো আবেদন আমাদের কাছে জমা পড়েছে। এদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে ৪৩ জনকে টাকা প্রদান করেছি। যার পরিমাণ ৫০ হাজার ৩৫৫টাকা। বাকিদেরকেও যাচাই-বাছাই করে আমরা সাহায্য দেব। যারা আবেদন করেছে তাদের তথ্য আমি (সভাপতি), সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ হোসেন ও চিফ মডারেটর ব্যতিত আর কাউকে জানানো হচ্ছে না। 

তিনি আরো বলেন, আমরা এই টাকা সাহায্যের উদ্দেশ্যে দিচ্ছি। এদের মধ্যে যাদের অবস্থা খুব খারাপ তাদের টাকা নেয়া হবে আর যাদের অবস্থা একেবারেই খারাপ তাদের টাকাটা আমরা নেব না। মূলত যারা টাকা ফেরত দিতে ইচ্ছুক তারা দিতে পারবে এবং বাকি যারা অপারগ তাদেরকে টাকা দিতে হবে না এরকমই ভাবছি৷

এই কার্যক্রম কতদিন চলবে? এমন প্রশ্নে আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, এটা আসলে আমরা সংকটকালীন পুরো সময় জুড়েই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। আমরা আমাদের সাবেকদের থেকে সহযোগিতা নিচ্ছি। যদি তাদের ফান্ড শেষ হয়ে যায় তাহলে বর্তমানে আমরা যারা সংগঠনের সাথে যুক্ত রয়েছি তাদের থেকে টাকা সংগ্রহ করব। আশা করি যিনি এ সময়ে সংকটে ভুগছেন, তিনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে বিন্দুমাত্র সংকোচবোধ করবেন না।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম/টিআরএইচ