ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতির উদ্যোগে চাল-ডাল, সুরক্ষা পণ্য পাচ্ছে দরিদ্ররা

ঢাকা, শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭,   ০৫ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতির উদ্যোগে চাল-ডাল, সুরক্ষা পণ্য পাচ্ছে দরিদ্ররা

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৫৬ ২৯ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৬:১৩ ২৯ মার্চ ২০২০

সংগ্রহ করা চালের বস্তা

সংগ্রহ করা চালের বস্তা

করোনাভাইরাসের কারণে (কোভিড-১৯) ঘরবন্দি এখন সাধারণ মানুষ। কর্মহীন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা। নিজ এলাকা ময়মনসিংহের গৌরীপুরে যুবকদের নিয়ে এসব দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। শনিবার তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেছেন। কিনেছেন খাদ্যদ্রব্য, করোনা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সাবান, স্যানিটাইজার। ডেইলি বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। 

তিনি বলেন, এটি একটি সমন্বিত উদ্যোগ। এই উদ্যোগের প্রথম দিন বিভিন্ন মাধ্যমে কালেকশনের টাকা দিয়ে সাড়ে পাঁচশ কেজি চাল কেনা হয়েছে। অসহায় মানুষদের চাল ডাল, তেল ও সাবান দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিনশ পরিবারকে এই সেবার আওতায় আনার চিন্তা করলেও যেভাবে সাহায্য পাচ্ছি তাতে আমরা আশা করছি প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারকে আমরা সাহায্য করতে পারবো। 

সনজিত বলেন, গৌরীপুরের সচেতন তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে দলমত নির্বিশেষে এই কাজের উদ্যোগ নিয়েছি। সবার সম্মিলিত প্রয়াসে দিনমজুর হতদরিদ্র যে সব পরিবার রয়েছে, যারা এখন ঘর-বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না তাদের কাছে যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া যায় তাহলে এই দুর্যোগের সময় তারাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। 

গ্রামে মানুষের মাঝে কেমন সচেতনতা রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে মানুষ পুরোপুরি সতর্ক বললে ভুল হবে তবে আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড আরও বাড়ানো দরকার। আসলে মানুষ বুঝতেই পারতেছে না এটার (ভাইরাসের) ভয়াবহতা। সেনাবাহিনী ও পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে, পাশাপাশি অযথা ঘোরাঘুরি না করার জন্য মাইকিংও করা হচ্ছে। 

দুর্যোগকে মোকাবিলায় সব পরিকল্পনা গ্রহণ করবো আশ্বাস দিয়ে ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, আমাদের উদ্যোগের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও রয়েছে। এছাড়াও দুর্যোগটি যাতে খুব বেশি সংক্রমিত না হয় সেই লক্ষ্যে আমাদের এলাকার লোকাল গার্মেন্টস থেকে কাপড় দিয়ে মাস্ক তৈরি করে সেটা বিতরণের ব্যবস্থা করা, রাস্তার বিভিন্ন মোড়ো মোড়ে পানি ও হ্যান্ডওয়াশ সাবানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

চাল, ডাল, সাবান, হ্যান্ডওয়াশ ইত্যাদি বিতরণ কবে নাগাদ শুরু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, আমরা এখনও বিতরণ শুরু করিনি, শুধু দ্রব্য সামগ্রী সংগ্রহ করছি। আমি ভাবছি যে পরিস্থিতি যখন আরও খারাপ হবে অর্থাৎ যে পর্যন্ত মানুষ খেতে পারে, চলতে পারে দু-চারদিন দেখে পরে আরও কিছু কালেকশন করে পরে গরিবদুঃখী, অসহায় মানুষদের কাছে সাহায্য পৌঁছে দিব। 

মানুষের মাঝে কি পরিমাণ দ্রব্য সামগ্রী বিতরণ করা হবে সে বিষয়ে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধরে নিয়েছি ২ কেজি করে চাল, আধ-কেজি ডাল, হাফ লিটার তেল ও একটি করে সাবান প্রত্যেক পরিবারের বিতরণ করবো। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম