ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার পথেই ডাস্টবিন

.ঢাকা, শুক্রবার   ২৬ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১৩ ১৪২৬,   ২০ শা'বান ১৪৪০

অস্বস্তিতে শিক্ষার্থী ও জনগণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার পথেই ডাস্টবিন

 প্রকাশিত: ১৮:০৩ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:২৫ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথের ডাস্টবিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ পথের ডাস্টবিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার পথে ডাস্টবিন পড়ায় শিক্ষার্থী ও জনগণ অস্বস্তি ভোগ করছেন। বিষয়টি খুবই বিরক্তিকর জানিয়ে তারা কর্তৃপক্ষের কাছে এর যথাযথ সমাধান চেয়েছেন। 

শাহবাগ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিতরে ঢুকতেই এক উৎকট গন্ধ নাকে আসে। মুখে হাত দিয়ে কোনোভাবে জায়গাটা পার হতে  পারলেই যেন বাঁচা যায়। রিক্সা, মটর সাইকেল আরোহী বা গাড়ীর যাত্রীরা গতি বাড়িয়ে কোনরকম পার পেলেও পথচারী ও শিক্ষার্থীদের ময়লার গন্ধ সহ্য করতেই হয়।নীলক্ষেত, পলাশীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢোকার কয়েকটি রাস্তা থাকলেও প্রধান পথ মূলত শাহবাগ সাইডেই। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী যাতায়ত করা এ রাস্তায় ঢুকতেই শাহবাগ থানা পেরিয়ে দেখা মিলে বিশাল বড় আকৃতির এক ডাস্টবিনের।

রাস্তার অর্ধেক জুড়ে দখল করা এ বিনে আশে পাশের এলাকার সব ময়লা-আবর্জনা জমা হয়। এছাড়া বাক্সটির চারপাশে ময়লার স্তুপ খোলা পড়ে থাকতেও দেখা যায়। যদিও প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বড় ট্রাকে করে আবর্জনা নিয়ে যাওয়া হলেও গন্ধ থেকে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বরাবরই এই নিয়ে খুব বিরক্ত হতে দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, কতৃপক্ষ চাইলেই এটি অপসারণ করতে পারে। অথচ দিনের পর দিন এটাকে এভাবে রেখে যেমন শিক্ষার্থী ও পথচারীদের অসুবিধা তৈরি করছে, তেমনি ঐতিহাসিক এ এলাকায় ঘুরতে আসা মানুষের কাছে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করছে সিটি করপোরেশন। 

স্যার এ এফ রহমান হলের একজন শিক্ষার্থী আফসার বলেন, এটা কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা ছাড়া আর কিছুই না। একটা ডাস্টবিনের কারণে দেশের ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট হবে এটা কেমন কথা। সব জেনেও কর্তৃপক্ষ তা সরাচ্ছে না কেন- সে প্রশ্ন সকলের। জিয়া হলের আরেক শিক্ষার্থী জুয়েল বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আভিজাত্যের জন্য হুমকি। বাইরের কোন অতিথি এসে এমন পরিস্থিতি দেখলে প্রথমেই নেগেটিভ ইমেজ তৈরি হবে। শুধু কি আভিজাত্য আর সৌন্দর্য্যের ব্যাপার? না, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি পরিবেশের জন্য যেমন ক্ষতিকর, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের জন্যও তেমন হুমকি। 

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সাইন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, এখানে যে ময়লা ফেলা হয় তাতে অনেক দুর্গন্ধ ও জীবাণু ছড়ায়। এর ফলে শিক্ষার্থী ও পথচারীদের হাঁপানি বা কাশির মত রোগ হতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিৎ। 

এদিকে দায়িত্বরত শাহবাগ থানার কয়েকজন পুলিশ কন্সটেবলও বিরক্তি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের একজন বলেন, তারাও ভুক্তভোগী। কেননা এই ডাস্টবিনের ফলে ব্যারাকের জানালা খোলা যায় না। আর দুর্গন্ধ তো আছেই। এত কিছুর পরও এই ডাস্টবিন এখানে কেন? 

ডেইলি বাংলাদেশ ডটকমের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী বলেন, এটা সিটি করপোরেশনের আওতায়। তিনি বলেন, “পরিবেশ নিয়ে কথা হলে সিটি করপোরেশনকে আমরা বিষয়টি নিয়ে বলি। তারা দেখবে বলে আশ্বস্ত করেছে।” অধ্যাপক রাব্বানী আশা রাখেন, শিগগিরই সমস্যাটির সমাধান হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/আরআই