ঢাকা বারের পর সুপ্রিম কোর্টেও আশাবাদি আওয়ামীপন্থিরা

ঢাকা, সোমবার   ২০ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৬,   ১৪ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

ঢাকা বারের পর সুপ্রিম কোর্টেও আশাবাদি আওয়ামীপন্থিরা

আহমেদ ছিদ্দিকী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:৪৬ ১১ মার্চ ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (২০১৯-২০) নির্বাচন শুরু হচ্ছে আগামী বুধবার। দুইদিনের এ নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী প্রধান দুই জোট আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে জয়ের আশায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (বার) ২০১৯-২০ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত আইনজীবীদের সাদা প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৭ পদের মধ্যে ১৮টিই পেয়েছে সাদা প্যানেল। ঢাকা বারের নির্বাচনের পর এবার আলোচনায় উঠে এসেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। এর আগে নিজেদের মধ্যে বিভেদ ও অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বের কারণে সমিতির নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। অতীতের বিভেদ ভুলে এবারের নির্বাচনে ফল ঘরে তুলতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সরকার সমর্থিত আইনজীবী প্যানেলের নেতারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগের নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল চরম আকারের। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ নামে দুটি পৃথক সংগঠন থাকায় এক প্যানেলে নির্বাচন করলেও পরস্পরবিরোধী আচরণ করায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন থাকলেও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। এরপর কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে নির্বাচনে হারের বেশ কিছু কারণ। কারণগুলো ছিল, আওয়ামী লীগের সিনিয়র আইনজীবীদের বিরোধিতা, নতুন আইন কর্মকর্তা নিয়োগে বিরূপ প্রভাব, অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইন কর্মকর্তাদের অতিমাত্রায় প্রচারণা, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী দুজনের ব্যক্তিগত সমস্যা ও নির্বাচনী প্রচারণায় থাকা আইনজীবী নেতাদের সক্রিয় না থাকা।

নিজেদের মধ্যকার সে বিভেদ কাটিয়ে উঠে আসা সম্ভব হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, আমাদের মধ্যে যে মতানৈক্য আছে তা হলো আর্টিফিসিয়াল মতানৈক্য। কিছু লোক থাকেন যারা নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করেন না। আমাদের মাঝে এ ধরনের মানসিকতা ছিল। কিন্তু আমি নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছি।

অপরদিকে, এবারের নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা। এ বিষয়ে সমিতির বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানান, এই নির্বাচনটিকে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি। আগে মানুষের ভোটের অধিকার ছিল, এখন সব ভোট সরকারের ওপর নির্ভর করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে আইনজীবীদের পরিধি বাড়ায় তাদের বসার জায়গা দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। তবে আইনজীবীদের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের নকশা পাস হয়ে থাকলেও সমিতিতে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বাজেট বরাদ্দ হচ্ছে না। তাই আইনজীবীদের জন্য ভবন নির্মাণ, কোর্টের সার্বিক উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করাসহ অ্যাটর্নি অফিসে নতুন আইন কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করে অনেকেই এবার আওয়ামী সমর্থিত আইনজীবীদের বিজয়ী করতে চান।

সাদা প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী আবদুন নুর দুলাল বলেন, অতীতে আমাদের মধ্যে কোনও মতানৈক্য ছিল কিনা তা নিয়ে আমার কোনও ধারণা নেই। তবে এবার আমাদের মধ্যে কোনও মতানৈক্য প্রত্যক্ষ হয়নি। আশা করছি এবারের নির্বাচনে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত হতে পারবো। আর আমি নির্বাচিত হলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিকে অবশ্যই দলীয় রাজনীতিমুক্ত রাখার চেষ্টা করবো।

তফসিল অনুসারে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৯-২০২০ সেশনের নির্বাচন আগামী ১৩ ও ১৪ মার্চ ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৮ হাজার ৮৮ জন। কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস

Best Electronics