Alexa ঢাকার বায়ুদূষণ চিন্তার কারণ

ঢাকা, রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯,   পৌষ ১ ১৪২৬,   ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১

ঢাকার বায়ুদূষণ চিন্তার কারণ

 প্রকাশিত: ১৩:৪০ ১৬ নভেম্বর ২০১৯  

পেশাগত পরিচয়ে আহসান ইমাম শিক্ষক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। করেন লেখালেখি এবং গবেষণা। বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম বিভাগে রয়েছে তার নিয়মিত অংশগ্রহণ

‘শীতের আগেই ঢাকার বাতাসে বিপদ’ শিরোনামে একটা প্রতিবেদনে চোখ আটকে গেল।

একটা অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে জানিয়েছে, নভেম্বর মাসের ২ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত বাতাসে ভাসমান বস্তুকণার পরিমাণ (পিপিএম) যথাক্রমে ১৭৩, ২৬৪, ২৩২, ১৮৪, ৩০৫, ৬০, ৪৩, ৮৪, ১৮৪, ২৩০। গণমাধ্যমের কল্যাণে আরো জেনেছি, ঢাকা শহরের অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, গাড়ির ধোঁয়া ও আশপাশের ইটের ভাটাগুলোর কারণে প্রতিবছর এ সময় বায়ুদূষণ বেড়ে যায়।Dhaka is the second most air pollution city in the world নামে গ্রিনপিস এবং ভিস্যুয়ালের এই প্রতিবেদনটিও এখনো ডেইলি স্টারের অনলাইন সংস্করণে রয়েছে।

সাধারণত পিএম ২.৫ নামে বাতাসের দূষিত ভাসমান কণার মাত্রা দিয়ে বায়ু দূষণের পরিমাণ নির্ণয় করা হয়।এরকম মাত্রার পরিমাণে প্রথম স্থানে রয়েছে দিল্লি (প্রতি কিউবেক মিটারে ১১৪ মাইক্রোগ্রাম) এবং এর কাছাকাছি রয়েছে ঢাকা (৯৭ মাইক্রোগ্রাম)।এবং এর পরের শহরটি কাবুল।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসতন্ত্রের রোগ যেমন হাঁপানি, নানা ধরনের এলার্জি বেশি হয়।এই ঝুঁকিতে শিশুরা এবং বয়স্করা রয়েছেন সবার আগে। এমনকি বায়ুদূষণের কারণে মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে। শীতের পুরোটা সময় এদেশে বিভিন্ন ধরনের উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে।ঢাকা শহরকেন্দ্রিক উৎসবগুলোতে ঢাকার বাইরের শহর এবং বিভিন্ন দেশ থেকে লোকসমাগম হয়ে থাকে। এই সময় এই দূষণও ভিড় করে বা প্রকট হয়ে ওঠে ঢাকায়।

বায়ুদূষণ সম্পর্কে কিছু অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। এছাড়া গণমাধ্যমের কল্যাণে জেনেছি, বিশেষকরে ঢাকা শহরের বায়ুদূষণের অন্যতম কারণগুলো। ইটের ভাটা, কল-কারখানা, নির্মাণকাজ এবং যানবাহনের ধোঁয়া। আমরা যারা জাহঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে থাকি তারা অনেকটা নিরাপদ এই বিষয় এবং অন্যান্য নানাদিক থেকে।তবে এই পরিসরের বাইরের চিত্র রীতিমত আঁতকে ওঠার মত।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাবতলী যাওয়ার পথেই ইটের ভাটাগুলো চোখে পড়ে।অনেকক্ষেত্রে রাস্তার দু’পাশে ফসলের জমি নষ্ট করে ইট ভাটা তৈরি করা হয়েছে।ইট পোড়ানোর সময় চিমনি দিয়ে কালো ধোঁয়া বেরোয়।অনবরত সেই কালো ধোঁয়া বেরুতে দেখা যায়। শুধুমাত্র বর্ষাকালে ভাটাগুলো বন্ধ থাকে।এই কালো ধোঁয়া বায়ুদূষণের মাধ্যমে মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক হুমকি।সরকার চাইলে ভিন্নপন্থায় পরিবেশবান্ধব ইটভাটা তৈরির কোনো পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ নিতে পারে কিনা?

প্রতিনিয়ত কলকারখানার ধোঁয়া এবং বর্জ্য বায়ুদূষণ করে যাচ্ছে। ঢাকা শহরকে চারদিকদিয়ে ঘিরে রেখেছে কলকারখানা। পরিবেশ রক্ষার জন্য এগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেয়া যায় কিনা?অন্যথায় ঢাকা শহরে বসবাসরত ২০ কোটি মানুষ (সূত্র:world population review) আরো হুমকির মুখে পড়বে।

এই মুহূর্তে ঢাকার উন্নয়নের নিদর্শনস্বরূপ মেট্রোরেইলের কাজ চলছে। নিঃসন্দেহে এই উন্নয়নের জন্য খানিক অস্বস্তি স্বাভাবিক।তবে ঢাকা শহরের কোথাও না কোথাও সবসময় নির্মাণ কাজ চলতেই থাকে। নির্মাণকাজের সঙ্গে যে বায়ুদূষণ তা রোধ করার ব্যবস্থাও পাশাপাশি জরুরি। অনেক উন্নত দেশ এক্ষেত্রে অনুকরণীয়।

বায়ুদূষণের আরেকটি বড় কারণ যানবাহন। এটি শুধু ঢাকা নয় সারা পৃথিবীর বড় শহরের সমস্যা। তবে এর থেকে সমাধানের পথ তৈরি করেছে পৃথিবীর অনেক দেশ। এক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব যানবাহন তথা সাইকেল একটি সমাধান হতে পারে। এরজন্য প্রয়োজন নগরপরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত গাড়ি কমিয়ে টাউন সার্ভিসের মান উন্নত ও পরিমাণ বাড়িয়েও সমাধানের করা যেতে পারে। ভুটানের দিকে তাকালেও আমরা এসকল সমাধানের রাস্তা বের করতে পারি।পরিবেশ রক্ষার জন্য তারা নানা ধরনের নিয়ম চালু রেখেছে বহুকাল হতে।

এই পরিস্থিতিতে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অর্থাৎ শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণ রোধে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এধরনের পদক্ষেপ না নিলে বায়ুদূষণের কারণে গোটা জাতির স্বাস্থ্যগত, বুদ্ধিগত ও এই ভূখণ্ডের পরিবেশগত অবস্থা মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর