ঢাকাফেরত রিকশাচালকের মৃত্যু, আতঙ্কে প্রতিবেশীরা

ঢাকা, শনিবার   ০৬ জুন ২০২০,   জ্যৈষ্ঠ ২৪ ১৪২৭,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ঢাকাফেরত রিকশাচালকের মৃত্যু, আতঙ্কে প্রতিবেশীরা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১০:৪৪ ২৯ মার্চ ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ঢাকাফেরত রিকশাচালক আজিজুল ইসলামের শ্বাসকষ্টে মৃত্যুর খবরে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন তার প্রতিবেশীরা।

রোববার সকালে আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে ওই রিকশাচালকে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার দুপুরের পর উপজেলার ভাদাই ইউপির হেলিপ্যাড এলাকার নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। মৃত আজিজুল ইসলাম ওই গ্রামের নান্দু মিস্ত্রীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বুড়িরহাটের নৈশ্য প্রহরী আজিজুল ইসলাম দীর্ঘ দিন অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নৈশ প্রহরীর চাকরি ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে দীর্ঘদিন রিকশা চালিয়ে ৮-১০ দিন আগে জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে বাড়ি ফিরেন।

প্রতিবেশীরা জানান, শ্বাসকষ্টের জন্য আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসাপত্র গ্রহণ করেন। চিকিৎসকরা তাকে বাড়িতে অবস্থান করে সতর্কতার সঙ্গে চলতে পরামর্শ দেন। খবর পেয়ে, থানা পুলিশও তাকে বাড়ির বাইরে না যেতে নিষেধ করেন।

এদিকে, তার মৃত্যুর খবরে করোনা সন্দেহে মুহূর্তে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান প্রতিবেশীরা। তাদের ধারণা মরণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দাফনের নির্দেশ দেন। তবে আত্মীয়রা ওই বাড়িতে ভিড়লেও প্রতিবেশীরা জনসমাগম কম করার জোর তাগিদ দিলেও মানছে না আত্মীয়রা।

পরে তড়িঘড়ি করে রাতেই আদিতমারী কেন্দ্রীয় কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়।

একাধিক প্রতিবেশী বলেন, আজিজুল অসুস্থতা নিয়ে ঢাকা থেকে ফিরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা করিয়েছেন। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সন্দেহে তার জানাজায় যাইনি। তাদের বাড়ির লোকদের বাইরে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে আত্নীয়-স্বজনরাই তার দাফন করেন।

আজিজুলের ভাতিজা ফজলুর রহমান বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে তি‌নি অ্যাজমায় ভুগছিলেন। ঢাকা থেকে অসুস্থতা নিয়ে বাড়ি ফিরে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। শনিবার দুপুরে মারা যান তি‌নি। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে দ্রুত দাফন করা হয়েছে।

ভাদাই ইউপি চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান রোকন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ পালন করতে মৃতের পরিবারকে মোবাইলে বলা হয়েছে। তারা দ্রুতই দাফন সম্পন্ন করেছেন।

আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুর আরেফিন প্রধান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ পিপিই না থাকায় মৃতের নমুনা নেয়া সম্ভব হয়নি। পরিবারের দাবি দীর্ঘ দিন অ্যাজমায় ভুগছিলেন তি‌নি। সম্প্রতি সময় হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও তার পরিবার দাবি করেছে।

তবে, প্রতিবেশীরা করোনা সন্দেহ করলেও পরীক্ষা ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না। পিপিইসহ সরঞ্জাম সংকট পুরণে ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

আদিতমারীর ইউএনও মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রতিবেশীর সন্দেহের কারণে মৃত ব্যক্তিকে দ্রুত ও কম জনসমাগমে সামাজিক দূরত্ব বজয় রেখে দাফন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রবাসী বা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন না বলেই তার নমুনা সংগ্রহের সরকারি নির্দেশনাও নেই।

তবে, দাফন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ