.ঢাকা, সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৮ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪০

ডিসেম্বর থেকে ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’

 প্রকাশিত: ১৯:১৯ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:১৯ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ইট-পাথরের বসবাসরত নগরবাসী বিনোদনের চিন্তা করে ২০০৪ সালে সিলেটের দক্ষিন সুরমার আলমপুরে পার্ক নির্মানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রচেষ্টায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কের জমি অধিগ্রহন থেকে শুরু করে, চারপাশের দেয়ার তৈরি করা হয়। পাশাপাশি আনা হয় পার্কের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। কিন্ত ২০০৭ সালে তত্ত্বাবদায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে পার্কের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। সঙ্গে প্রকল্পের ১২ লাখ ফেরত চলে যায়। এরপর ‘এম সাইফুর রহমান পার্ক’ হিসেবে পরিচিত পাকর্টির কাজ আর শুরু করা হয়নি।

ক্ষমতার পালাবদলে আওয়ামী লীগ সরকার এক মেয়াদ শেষ করলেও পার্কের নির্মাণ কাজের কোনো উদ্যেগ নেয়নি। অবশেষে গত বছর পার্কের নাম পাল্টে আবারো পার্কটি চালুর উদ্যেগ গ্রহণ করা হয়। ‘সিলেট ন্যাচারাল পার্ক’ নামে বাকি কাজ শেষ করার জন্য প্রায় সাত কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এরপর পুরোধমে শুর হয় পার্কের কাজ। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে কাজ শুরুর সময় জুলাই মাসে পার্কটি উদ্বোধনের কথা ছিলো। কিন্তু জুলাই মাস পেরিয়ে আরো দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

পার্কের সীমানা প্রাচীর থেকে শুরু করে সৌন্দর্য বর্ধনের কোনো কাজই শুরু হয়নি। বর্তমানে শুধু মনো রেলে ডিভাইডার বসানো কাজ চলছে। যদিও সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে পার্কের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এর ধারাবাহিকতা আগামী ডিসেম্বর এর মধ্যে পার্কটি চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পার্কের ভেতরে মনো রেলের স্টেশন আর ডিভাইডার বাসনোর কাজ চলছে। পাশাপাশি প্যারুসুটের কাজও রয়েছে শেষ পর্যায়ে। তবে পার্কের সীমানা প্রাচীরের কাজ বাকি রয়েছে। এছাড়া পার্কের ভেতরের অংশের নিচে কোনো কাজই এখন শুরু হয়নি। পুরো পার্কের মাট জুড়েই রয়েছে আগাছা আর বন জঙ্গল। এছাড়া সীমানা প্রাচীরের অংশে অতিরিক্তি আগাছা রয়েছে। এসব আগাছার কারণে দিনের বেলাও সাপের দেখা মেলে বলে জানিয়েছেন পাহারাদার আনু মিয়া।

সুশাসনের জন্য নাগরিক সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী ডিসেম্বর অর্থমন্ত্রীর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তিনি নির্বাচনে আগে আমাদেরকে আলোকিত সিলেটের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু অর্থমন্ত্রীর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি বেশীর ভাগ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেন নি। এছাড়া ২০০৪ সালে একটি পার্কের কাজ শুরু হয়েছে। সেই পার্কের কাজ এতো বছরে শেষ না হওয়া, আমাদের জন্য হতাশার। এরদায় কোনোভাবেই সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারেন না। তবুও আমরা আশা করি, পার্কের জন্য যে প্রকল্প বর্তমানে চালু রয়েছে সেই প্রকল্প যেন দ্রুত শেষ হয়। এবং পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, বৃষ্টি জন্য পার্কটির কাজ কিছুটা ধীরগতিতে করতে হচ্ছে। বৃষ্টি শেষ হলেই পার্কের বাকী কাজ পুরোধমে শুরু করা হবে। আমরা আশা করছি ডিসেম্বরের মধ্যে পার্কটির কাজ শেষ করতে পারবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর