.ঢাকা, সোমবার   ২২ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ৮ ১৪২৬,   ১৬ শা'বান ১৪৪০

ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া পেয়েছে রংপুর

 প্রকাশিত: ১৩:২৬ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৩:৩৭ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দ্রুত বদলাচ্ছে রংপুরাঞ্চলের গ্রামীণ জীবন। সৌর বিদ্যুতের কল্যাণে নদীর চরের গ্রামেও চলছে লাইট, ফ্যান, টিভি। হাতে হাতে মোবাইল কিংবা স্মার্টফোন, কম্পিউটারাইজড জন্মনিবন্ধন সনদপত্র ও ভোটার আইডি কার্ড। হাতের নাগালে চলে এসেছে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারের বিভিন্ন দফতরের ফরমসহ ১২০ থেকে ১৫০ ধরনের সেবা। ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়ায় গতি পেয়েছে রংপুরাঞ্চলের মানুষ। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

শহর থেকে শুরু করে গ্রামের সাধারণ কৃষক শ্রমিক মজুর ভোগ করছে তথ্যপ্রযুক্তির নানা সুবিধা। এতে করে প্রতিদিন কর্মঘণ্টা বেঁচে যাচ্ছে মানুষের। এই কর্মঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে উৎপাদন খাতে। ফলে রংপুরাঞ্চল ক্রমাগত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচী সঞ্জিবিত ভুমিকায় থেকে বদলে দিচ্ছে রংপুরাঞ্চলের সকল শ্রেনি পেশার মানুষের জীবন। যা চিৎকার করে বলা যায়।

পূর্বের চিত্রপট ছিল কষ্টকর। মোবাইল ফোন এসেছিল ঠিকই। কিন্তু তৎকালিন সরকারের বেঁধে দেয়া আইনের কারণে সহজলভ্য ছিল না মোবাইল ফোন, সিম কার্ড কিংবা ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তির সেবা। মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য লাইন ধরে অপেক্ষা করতে হতো। সেই দিন বদলে দিয়েছে আওয়ামীলীগ সরকার।

সংশ্লিষ্ট সুত্রমতে, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল তথ্যপ্রযুক্তি-ভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার। ওই সময় আওয়ামীলীগ সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, এটা শুধু শহরভিত্তিক নয়, প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের মানুষও যাতে সমান সুযোগ, সমান সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা অর্জন করার অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার। সেই স্বপ্ন এখন অনেকটা পূরণ হওয়ার পথে। ডিজিটাল বাংলাদেশে বিনির্মাণের স্বপ্ন শতভাগ পূরণের পথে হাঁটছে।

রংপুর বিভাগীয় কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের আট জেলার একটি সিটি কর্পোরেশন, ২৯টি পৌরসভা এবং ৫৩৬ টি ইউনিয়ন পরিষদে ডিজিটাল তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকগণ এখন সহজে, কম খরচে ও ঝামেলাহীনভাবে জমির পর্চা, জীবন বীমা, পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ, সরকারী ফরম, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, অনলাইন জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভিজিএফ-ভিজিডি তালিকা, নাগরিক সনদ, নাগরিক আবেদন, কৃষি তথ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শসহ প্রায় ২০০ ধরনের সরকারী-বেসরকারী সেবা পাচ্ছেন। এ ছাড়া মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ল্যাপটপসহ ইন্টারনেট সংযোগ শিক্ষার্থীদের মনে প্রযুক্তির দিক বলয় খুলে দিয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়ায় রংপুরাঞ্চলের মানুষের জীবনধারা বদলে যাবার গল্প শুনতে কথা হয় অনেকের সাথে। ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারনা না থাকলেও সুবিধার কথা বললে স্বীকার করেন প্রযুক্তি ব্যবহারে দিন বদলের কথা। রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার তিস্তা নদীর চরের বাসিন্দা সত্তর বছরের বৃদ্ধা জয়গুন বেগম বলেন, ‘ মোর বেটি গার্মেন্টস থাকে। আগাত কথা কবার জন্য মোবাইলের দোকানে দোকানে ঘুরছুনুং,এলা ঘরত শুতি শুতি কথা কং। হয়রানি নাই, সকাল, বিকাল ও রাইত যখন তকন কথা কওয়া যায়। টাকাও আইসে। হামার এইট্যায় তো সুখ ব্যাহে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পঞ্চগড়ের ছেলে রাহাত বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উন্নয়নের একটি প্রত্যয়, একটি স্বপ্ন। স্কাইপ, ইমো, ফেসবুক, গুগুল ছাড়াও যে কোন মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সকল ধরনের তথ্য ও ভাবের আদান প্রদান করা যায়। দেশ ডিজিটাল হওয়ার ফলেই বর্তমানে প্রায় সবাই ফেসবুকসহ নানা যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। স্কাইপ ব্যবহার করে শুধু বন্ধুদের সঙ্গে নয়, অনেক সময় পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গেও কথা বলি। এর সব কিছুই ডিজিটাল প্রযুক্তির ফলে সম্ভব হচ্ছে। ‘ওয়াও বাংলাদেশ এগিয়ে যাও, পাশে আছি আমরা’ শব্দ উচ্চারণ করে আনন্দ অনুভূর্তি প্রকাশ করে সে।

রংপুর নগরীর এক সময়ের বেকার যুবক সাঈদ আহমেদ নিশাত ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে আয় করে এখন ‘ওয়েভার নেষ্ট আইটি জোন’ নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করেছে। নিজেই পরিচালক। চার শিফটে প্রায় ১২০জন শিক্ষার্থী কম্পিউটার ব্যবহার ও আইটি প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদ জয়ের ছবির নিচেই তার বসার চেয়ার।

তিনি বলেন, রংপুরাঞ্চল উন্নয়নে বদলে দিতে ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের পূর্নাঙ্গরুপ বাস্তবায়নই যতেষ্ট। তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক এই অবিস্মরণীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহানায়ক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। আর উন্নয়নের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেকে স্বপ্নের চেয়ে বড় প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশবাসী শত বছরেও তাদের দু‘জনের ( মা ও ছেলের) ঋণ শোধ করতে পারবে না।

জানা গেছে, রংপুরাঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচী পুরোপুরি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেড়শ' কোটি টাকা ব্যয়ে রংপুরে একটি হাইটেক পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিশাকুড়ি এলাকায় আট একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

রংপুর হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক শফিক উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপুরে পাঁচ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে। এখানে উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাবে। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা এখানে সফটওয়্যার, অ্যাপ, গেমস ও কার্টুন নির্মাণ করবে। কল সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হবে। তরুণ-তরুণীরা এখান থেকে আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান বাড়াতে ক্রমান্বয়ে রংপুরাঞ্চলের প্রতিটি জেলা পর্যায়ে হাইটেক পার্ক, সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইটি ভিলেজ স্থাপন করা হবে। 

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, রংপুরের উন্নয়নের স্বার্থে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে হাইটেক পার্ক নির্মাণে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এটি বাস্তবায়ন রংপুরের অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ