Alexa ডিএনসিসির সেবায় হটলাইন ৩৩৩

ঢাকা, সোমবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৬,   ১১ রবিউস সানি ১৪৪১

ডিএনসিসির সেবায় হটলাইন ৩৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২১:৩২ ১২ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

নাগরিক সেবা হটলাইন ৩৩৩ নম্বরে কল করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তথ্য ও অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। 

এর মাধ্যমে নাগরিকরা ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন ধরনের সেবা ও সেবার তথ্য পাবেন মুঠোফোনেই বছরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা। দেশের ১১টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে ডিএনসিসি প্রথম এ ধরনের ডিজিটাল সেবার উদ্যোগ নিয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সেবার উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘তথ্য সেবা সবসময়’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রধামন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ৩৩৩ এর উদ্বোধন করেন। দেশের একাধিক মন্ত্রণালয় ও দফতরসমূহ এরই মধ্যে সফলতার সঙ্গে এ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

তিনি বলেন, ডিএনসিসির মেয়র এ জন্য বারবার যোগাযোগ করেছেন। তার নিরলস কর্মপ্রচেষ্টার জন্যই আজ সিটি কর্পোরেশনের সেবাগুলো একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম পেলো। আমরা আমাদের ‘এক সেবা’ প্লাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি প্রায় ১৬৪টি সেবা ডিজিটালভাবে দিচ্ছি। কেউ যদি নিরক্ষরও হয় তিনিও সহজেই সেবা পাবেন ৩৩৩ এর মাধ্যমে। ফোন দিয়ে সেবা চাইলে সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রতিনিধি সেবাগ্রহীতার কাছে গিয়ে তাকে সেবা দেবেন, ফরম পূরণ করে দেবেন। ডিএনসিসির মাধ্যমে এই শহরের দেড় কোটি মানুষকে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বিশ্বের আধুনিকতম সেবা দিতে চায় সরকার।

অন্যান্য হেল্পলাইনগুলোর সঙ্গে ৩৩৩ কে যুক্ত করা হবে বলেও জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। এলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে অন্যান্য সংস্থাগুলোর সেবাও এক জায়গা থেকেই নাগরিকদের দেয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ প্রতিমন্ত্রীর।

সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা এ ৩৩৩ সেবা চালু করলাম কিন্তু এর মাধ্যমে যথাযথ সেবা প্রদান নিশ্চিত করাই এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। 

তিনি বলেন, সময় এসেছে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। মেয়র থেকে শুরু করে সব কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রত্যেককেই নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে, জনগণের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

তিনি বলেন, মানুষ জানে না কোথায়, কার কাছে, কীভাবে, কত টাকায়, কি সেবা পাওয়া যাবে। তাই সিটি কর্পোরেশনের সব সেবা ও তথ্য যাতে জনগণ একই জায়গা থেকে পায় সেজন্যই এই আধুনিক তথ্য সেবা চালু করছে ডিএনসিসি।

আমরা এরইমধ্যে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস থেকে জম্মসনদ দেয়ার ব্যবস্থা করেছি, শিগগিরই জনগণ এর সুফল পাবেন। আমাদের পরিকল্পনা আছে ৫৪টি ওয়ার্ড থেকেই জন্ম সনদ দেয়ার। এরপর পরিকল্পনা আছে জন্ম সনদ, ট্রেড লাইসেন্সের মতো দলিল ঘরে বসেই ডেলিভারি নিতে পারবেন নাগরিকরা। এখন খাবার যেমন ঘরে বসেই অর্ডার করে পাওয়া যায়, তেমনি সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ধরনের সেবা ঘরে বসেই নাগরিকেরা পাবেন এমন উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

মেয়র বলেন, আগে কোনো সময় নাগরিকেরা আমাদের ফোন করতে পারতো না। এখন থেকে ফোন করতে পারবেন, প্রশ্ন করতে পারবেন; সেবা ও হয়রানি নিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন। জনগণের কাছে জবাবদিহিতার চ্যালেঞ্জ এটি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনই প্রথম ৩৩৩ এর মাধ্যমে সেবা প্রদান শুরু করলো। ক্রমান্বয়ে আমরা সবগুলো সিটি কর্পোরেশনে এই সেবা চালু করবো।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ডিএনসিসির কাউন্সিলর, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) এর প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মান্নানসহ এটুআই, মন্ত্রণালয় ও ডিএনসিসির ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই