ডিএনসিসির চিরুনি অভিযানে মিললো ৯১টি স্থাপনায় এডিসের লার্ভা
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=191978 LIMIT 1

ঢাকা, বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

ডিএনসিসির চিরুনি অভিযানে মিললো ৯১টি স্থাপনায় এডিসের লার্ভা

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫১ ৪ জুলাই ২০২০   আপডেট: ২০:২২ ৪ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৯১ স্থাপনায় এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ১২টি মামলায় মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া  অন্য বাড়ি ও স্থাপনার মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে।  

শনিবার রাজধানীর ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত ৬-১৫ জুন প্রথম পর্যায়ের সফল চিরুনি অভিযান শেষ হয় ডিএনসিসি। ৪ জুলাই থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে ১০ দিনের চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে আজ।

দ্বিতীয় পর্যায়ের অভিযান সফল করতে গতকাল শুক্রবার রাত ৮টায় ঢাকার দুই মেয়রের সভাপতিত্বে একটি অনলাইন সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ডিএনসিসির সব বিভাগীয় প্রধান, ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা ও কীটতত্ত্ববিদরা অংশগ্রহণ করেন। ডিএনসিসি মেয়র এবার চিরুনি অভিযান চলার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত আরো জোরদার করার নির্দেশ দেন। যেসব ক্ষেত্রে ভবন বা স্থাপনার মালিক পাওয়া যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনে নিয়মিত মামলা করা হবে। এছাড়াও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে শিগগিরই সমন্বিত মশক নিধন ব্যবস্থাপনা বা আইভিএম অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে যার মাধ্যমে সারাবছরের মশক নিধন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। এছাড়াও ৭ জুন ঘোষণা অনুযায়ী গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গে সংক্রামক বর্জ্য পাওয়া গেলে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বিবেচনায় সেখানেও জরিমানা করা হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি বর্জ্য পৃথকীকরণের দীর্ঘমেয়াদি যে পরিকল্পনা সেটি বাস্তবায়ন শুরু হবে। 

দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের প্রথম দিনে সকাল ১০টা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে মোট ১২ হাজার ৬১৯টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ৯১টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৮ হাজার ৭৬৪টি বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এসময়ে ১২ টি মামলায় মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যান্য বাড়ি ও স্থাপনার মালিককে সতর্ক করা হয়েছে।  

উত্তরা অঞ্চল-১ এর অধীনে মোট ৬৭২টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৭টিতে এডিস মশার লার্ভা লার্ভা পাওয়া গেলে ২টি মামলায় মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ৫২০টি বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। সেখানে ১০টি বাড়িতে নোটিশ দেয়া হয়েছে। 

মিরপুর অঞ্চল-২ এর অধীনে মোট দুই হাজার ৬১৮টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১টিতে এডিস মশার লার্ভা লার্ভা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ১ হাজার ৩০৯টি বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭টি মামলায় মোট এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

মহাখালী অঞ্চল-৩ এর অধীনে মোট ১ হাজার ৫৩০টি বাড়ি বা স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩১টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৯৫০টি বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

মিরপুর ১০, অঞ্চল-৪ এর অধীনে মোট ১ হাজার ৬০৪টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৯টিতে এডিস মশার লার্ভা লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকদেরকে সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ১ হাজার ১৭১টি বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। 

কারওয়ান বাজার, অঞ্চল-৫ এর অধীনে মোট ২ হাজার ১৯টি বাড়ি বা স্থাপনা পরিদর্শন করে ১২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এসময়ে ৩টি মামলায় মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আরেকটি খালি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ের ভেতরে লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার ৫৮২টি বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। সেসব স্থানে কীটনাশক ছিটানো হয়েছে।

হরিরামপুর, অঞ্চল-৬ এর অধীনে মোট ১ হাজার ৪৩৪টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৭টিতে এডিস মশার লার্ভা লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ১ হাজার ১৩১ টি বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। 

দক্ষিণখান অঞ্চল-৭ এর অধীনে মোট ৯৩৭টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ৭৯৫টি বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। 

উত্তরখান অঞ্চল-৮ এর অধীনে মোট ৭৫৩টি বাড়ি বা স্থাপনা পরিদর্শন করে ২টি স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। তবে ৪৮২টি বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। 

ভাটারা অঞ্চল-৯ এর অধীনে মোট ৪৮৬টি বাড়ি বা স্থাপনা পরিদর্শন করে ৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া  যায়। বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ৩৬৪টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। 

সাঁতারকুল অঞ্চল-১০ এর অধীনে মোট ৫৬৬টি বাড়ি বা স্থাপনা পরিদর্শন করে ৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ির মালিকদের সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এছাড়া ৪৬০টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। উল্লেখিত সব সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজন স্থলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক কীটনাশক ছিটানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে এবিষয়ে পরবর্তীতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে এবারও প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করে প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডের ১টি সেক্টরে অর্থ্যাৎ ১০টি সাব-সেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

চিরুনি অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ৬জন চিকিৎসক, ৯জন কীটতত্ববিদ, ডিএনসিসির ৩জন কীটতত্ববিদ এবং ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন। দীর্ঘমেয়াদী আধুনিক ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে গতবারের মতো এবারও এডিসের লার্ভা প্রাপ্তির স্থানসমূহ এবং প্রজনন উপযোগী পরিবেশসমূহের তথ্য অ্যাপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। 

উল্লেখ্য, প্রথম পর্যায়ের ১০ দিনের (৬-১৫জুন) চিরুনি অভিযানে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৩৫টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ১ হাজার ৬০১টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৮৯ হাজার ৬২৬টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এসময়ে মোট ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে ডিএনসিসির চিরুনি অভিযান আগামীকালও অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস.আর/এমআরকে