Alexa ডিআইজি পরিচয় দেয়া কে এই রিফাত?

ঢাকা, রোববার   ২৬ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১২ ১৪২৬,   ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

ডিআইজি পরিচয় দেয়া কে এই রিফাত?

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫০ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯  

ছবি- সংগৃহীত

ছবি- সংগৃহীত

কখনো পুলিশের এডিসি আবার কখনো ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রকেট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থগ্রহণ করে আসছে প্রতারক মো. রিফাত আহম্মেদ ওরফে রুবন (৩০)। নিজেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডিআইজি ও সিআইডি অফিসার পরিচয় দেয়ায় ছিল তার প্রতারণার প্রধান হাতিয়ার।

এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ফেসবুকে প্রতারণা করে আসছে তিনি।

রোববার দুপুরে মালিবাগে সিআইডির নতুন ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান সিআইডির মিডিয়া কর্মকর্তা পুলিশ সুপার শারমিন জাহান।

তিনি জানান, শনিবার সিআইডির সাইবার মনিটরিং টিম অভিযান চালিয়ে দিনাজপুর জেলার পাহাড়পুর তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করে।  

সিআইডির মনিটরিং টিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়মিতভাবে সাইবার মনিটরিং করা সময়ে দেখতে পায় যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে Rifat Ahamad নামক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার আইডির প্রোফাইল এবং কভার পিকচারে পুলিশের ছবি ব্যবহার করছে। বিভিন্ন সময়ে ফ্রিলান্সিং করার জন্য তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিচ্ছে। নিজেকে ফেসবুকে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম এর অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার এবং সিআইডির অফিসার পরিচয় দেয়।

বিষয়টি সাইবার মনিটরিং টিম পর্যবেক্ষণে রেখে তাকে সনাক্ত করার চেষ্টা করতে থাকে। এরইমধ্যে সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টার পরিচালিত Cyber Police Centre, CID, Bangladesh Police ফেসবুক পেজে বেশ কিছু ব্যক্তি ওই আইডি সম্পর্কে অভিযোগ করে। Rifat Ahamad নামক ফেসবুক ব্যবহারকারী নিজেকে পুলিশের এডিসি পরিচয় দিয়ে তাদের ফ্রিলান্সিং করার জন্য তাদের কাছ থেকে রকেট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১০ থেকে ২০ হাজার করে টাকা গ্রহণ করেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার মনিটরিং এবং সাইবার ইনভেস্টিগেশন টিম Rifat Ahamad নামক ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য উদঘাটনের কাজ শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের টিম জানতে পারে যে, দিনাজপুর জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানে বসে Rifat Ahamad নামক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার আইডিটি পরিচালনা করছে।

তাকে ধরার জন্য সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সিনিয়র এএসপি জুয়েল চাকমা এবং এএসপি চাতক চাকমার নেতৃত্বে সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি চৌকষ দল অভিযান পরিচালনা করে দিনাজপুর জেলার পাহারপুরে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, বিগত কয়েক মাস ধরে প্রায় ২০-৩০ জনের কাছ থেকে কখনো পুলিশের এডিসি আবার কখনো ডিআইজি পরিচয় দিয়ে রকেট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থগ্রহণ করে আসছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

সিআইডি জানায়, কেউ যদি তাকে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে থাকেন, সাইবার পুলিশ সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এসআই