Exim Bank
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৪ মে, ২০১৮
iftar

ডায়াবেটিস: ভুল ধারণা ও সঠিক তথ্য

 নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৪৯, ১৬ মে ২০১৮

১০৪৭৬ বার পঠিত

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ডায়াবেটিস– যা বাংলাতে বহুমূত্র রোগ নামে পরিচিত।

আমাদের শরীরে ইনসুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সংগে বেরিয়ে আসে।

এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ বলে। ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক কোনো রোগ নয়।

চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক, ডায়াবেটিস সম্বন্ধে কিছু ভুল ধারণা এবং সঠিক তথ্য-

ভুল ধারনা:
অতিরিক্ত পরিমাণ মিষ্টি জাতীয় খাবার ডায়াবেটিসের কারণ।

সঠিক তথ্য:
সাধারণত দু ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের কারণ বংশগত এবং টাইপ টু ডায়াবেটিসের কারণ লাইফ স্টাইল এবং পরিবেশগত। মিষ্টি জাতীয় খাবারের সাথে ডায়াবেটিসের কোনো সম্পর্ক নেই। যাদের ডায়াবেটিস হয় তাদের রক্তে সুগারের পরিমাণ বেশি থাকে যার জন্য মানব দেহের ইনসুলিন হরমোনের ঘাটতি বা অনুপস্থিতি দায়ী।
ইনসুলিন হরমোন রক্তে সুগারের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে অসুখের জন্যই সুগার বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার ইনসুলিনের অনুপস্থিতি বা কার্যকারিতার অভাবে রক্তে সুগার আরো বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু এই মিষ্টি জাতীয় খাবার ডায়াবেটিসের কারণ নয়।

ভুল ধারনা:
যাদের ওজন বেশি তাদেরই শুধু ডায়াবেটিস হয়। পরিবারে কারো ডায়বেটিস না থাকলে ডায়াবেটিস হবে না।

সঠিক তথ্য:
অতিরিক্ত ওজন ছাড়া টাইপ টু ডায়াবেটিসের অন্যান্য ঝুঁকি হচ্ছে, নূন্যতম কায়িক পরিশ্রম না করা, শরীরে মেদ জমা বিশেষ করে সেন্ট্রাল অবেসিটি বা পেটে মেদ জমা, পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস থাকা, ৪৫ বা তদূর্ধ বছর বয়স, অন্যান্য অসুখ যেমন: গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, পলি সিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম। অন্য দিকে টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের সাথে অতিরিক্ত ওজন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের ডায়াবেটিস থাকার কোন সম্পর্ক নেই।

ভুল ধারনা:
ডায়াবেটিস হলে ইনসুলিন নিতে হবে।

সঠিক তথ্য:
টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসের মূল চিকিৎসা ইনসুলিন। কিন্তু টাইপ টু ডায়াবেটিসে পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুশৃংখল জীবন যাপনের পাশাপাশি ওষুধের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নিয়ম মেনে ওষুধ খাওয়ার পরেও টাইপ টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে সময়ের সাথে সাথে মানবদেহে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমতে থাকে। সেক্ষত্রে ইনসুলিন নেয়া লাগে কিন্তু তার মানে এই নয় যে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বা ডায়াবেটিস আরো খারাপ হয়েছে।

ভুল ধারনা:
শারীরিক উপসর্গ দেখেই ডায়াবেটিস রোগী বুঝতে পারেন রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়েছে বা কমেছে।

সঠিক তথ্য:
শরীরে সুগার কমে গেলে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমনঃ শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মাথা ঘুরানো বা হালকা লাগা, বুক ধড়ফড় করা, ঝাপসা দেখা, হাত পা কাঁপা, মনযোগের ঘাটতি, বিরক্ত লাগা, দুর্বল লাগা, ঘুম ভাব এমনকি খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। তবে শরীরে সুগার বেড়ে গেলে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। শরীর খারাপ লাগার সাথে সুগার বেড়ে যাবার কোনো সম্পর্ক নেই।

ভুল ধারনা:
মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে গর্ভের শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ হয় না।

সঠিক তথ্য:
মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত চেক আপ, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পরিশ্রম, সঠিক ও নিয়মিত মাত্রায় ইনসুলিন সেবনের মাধ্যমে সুস্থ সন্তান জন্মদান সম্ভব।

তথ্য: doctorola

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে

সর্বাধিক পঠিত