Alexa ডার্ক ওয়েব: হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মার্কিন অস্ত্র চলে যাচ্ছে ইউরোপে

ঢাকা, শুক্রবার   ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৮ ১৪২৬,   ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

ডার্ক ওয়েব: হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মার্কিন অস্ত্র চলে যাচ্ছে ইউরোপে

 প্রকাশিত: ১১:২৭ ২৩ জুলাই ২০১৭  

সম্প্রতি ডার্ক ওয়েবে অস্ত্র বিক্রির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন মার্কিনিরা; এমনকি বিক্রি করা সমস্ত অস্ত্রের সত্তর শতাংশ ইউরোপে চোরাচালান করা হচ্ছে। আমেরিকার সমরনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণী বা থিঙ্কট্যাঙ্ক নিয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান র‍্যান্ড কর্পোরেশন তাদের এক গবেষণায় এই দাবি করেছে। সিল্ক রোড-এস্কিওর মার্কেটগুলিতে ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির সাহায্য ও সহযোগিতায় র‍্যান্ড কর্পোরেশন এই গবেষণা চালায়। গবেষণা প্রথমে শুরু হয় আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক এবং গোলাবারুদের অবৈধ বাণিজ্যের ওপর। পরবর্তীকালে যৌথ এই গবেষণায় বের হয়ে আসে যে, বন্দুক ক্রেতারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বন্দুক কিনে প্রথমে হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবং পরে ইউরোপে বেশি মূল্যে ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে পুনরায় বিক্রি করে দেয়। গবেষণায় আরও বেড়িয়ে আসে যে,  অস্ত্রগুলি অনেক নতুন এবং অনেক বেশি ভালো মানের হয়। সাধারণ কালো বাজারে যেগুলো পাওয়া যায় না, সেগুলো এখানে পাওয়া যায়। নিউ সায়েন্টিস্ট হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের কঠোর আইন মেনে চলার নিয়মকে হ্রাস করছে, বিশেষত ইউরোপে। তাই এই ওয়েবে বন্দুক এবং গোলাবারুদ ছাড়াও, বোমা তৈরি বা রূপান্তরিত এবং নিষ্ক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র পুনরায় সক্রিয় করতে পারার টিউটোরিয়ালও সহজে কিনতে পারা যায়। কারণ ডার্ক ওয়েব থেকে কিছু ক্রয় করতে বা বিক্রয় করতে কোনো নাম দিতে হয় না, তাই কাউকে ট্রেস করে বের করাটাও খুব কঠিন হয়। তাই উদ্বেগের বিষয় একটাই যে, এই সকল অস্ত্রসস্ত্র সন্ত্রাসী, গ্যাং এবং শিকারীদের  হাতে সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১১ সালে মিউনিখ হত্যাকাণ্ডে এই ডার্ক ওয়েব থেকে এক সন্ত্রাসী অস্ত্র ও গোলাবারুদ কিনেন। সে সময় তিনি ১০ ​​জনকে হত্যা এবং ৩৬ জনকে গুলি করে আহত করেন। র‍্যান্ড কর্পোরেশনের দাবি তারা বন্দুকের এই নীতিমালা নিয়ে শঙ্কিত। এই ব্যবসা প্রতিরক্ষা শিল্পের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং সশস্ত্র বাহিনী ও সামরিক ঠিকাদারদের থেকে তার নগদে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র ক্রয় করে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করে হয় যে, সাধারণ মানুষের হাতে এক বা দুটি অস্ত্র থাকা গুরুতর পরিণাম ডেকে আনতে পারে। গবেষণার শেষ অংশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অস্ত্রপাচারের বর্তমান এই পদ্ধতি ট্র্যাক ও ট্রেস করার নতুন নিয়ম সঠিকভাবে কার্যকর করলে উপকৃত হতে পারে সাধারণ জনগণ। এটাকে এখনো ইস্যু করা যায় না কারণ  থ্রিডি-মুদ্রিত আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ, বিক্রয় এবং তৈরি এখন বাড়িতে বসেই করা যায়। ডার্ক ওয়েবের বাণিজ্য নিয়ে গবেষণার সাথে সাথে এটি ব্যবহার করা পদ্ধতির দিকেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণায়, গবেষকরা ১৯ থেকে ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৬ এর মধ্যে তথ্য সংগ্রহ করে। তার মধ্যে আমেরিকার ১২টি বন্দুকের বাজার বিশ্লেষণ থেকে তালিকাটি করা হয়। প্রসঙ্গত, প্রশ্ন জাগতে পারে ডার্ক ওয়েবটা কী? ইন্টারনেটের গভীরতায় লুকোনো এক অজানা জগতের নাম ডিপ ওয়েব। এই ডিপ ওয়েবের ছোট একটা অংশকে বলা হয় ডার্ক ওয়েব। এটা হলো ইন্টারনেটের সেই অংশ যেখানে আপনি সাধারণ নিয়মে ঢুকতে পারবেন না। প্রচলিত ব্রাউজারগুলো সেখানে প্রবেশ করতে পারে না। সেখানে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে বিশেষ সফটওয়্যার ও কনফিগারেশনের সাহায্য নিতে হবে। অপরাধের সাথে জড়িত হওয়ার জন্য যা কিছু প্রয়োজন তা এই ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে অপরাধীরা নিয়ে থাকেন। ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ