ডাক্তারের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার

ঢাকা, সোমবার   ১৭ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১২ শাওয়াল ১৪৪০

রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল

ডাক্তারের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার

করিম ইসহাক, রাজবাড়ী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৯ ১৩ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৯:২৬ ১৩ জুন ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

‘একশ শয্যা বিশিষ্ট রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এসে ডাক্তারের দেখা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার না দেখিয়েই ফিরে যান।’ এমনই অভিযোগ রোগীদের। 

মিন্টু হাসান নামে এক রোগী জানান, পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে আমাদের। অনেকে আবার চিকিৎসা সেবা না নিয়েই চলে যেতে হচ্ছে।

এলাকাবাসী হারুন অর রশিদ জানান, শুধু চিকিৎসক সংকট নয়, এই হাসপাতালে নিয়মিত ঝাড় দেয়া হয় না। কুকুর আর বিড়াল হাসপাতালের মধ্যে দিয়েই ঘোরাফেরা করে। টয়লেটের দরজা ভাঙ্গা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। ফলে দুর্গন্ধ আর ময়লার ভাগারে পরিনত হয়েছে হাসপাতালটি। 

হাসপাতালে ভর্তি থাকা রাজবাড়ী জেলা সদরের চর লক্ষীপুর গ্রামের মজিদ মল্লিক জানান, আমার হাতের আঙ্গুল কাটা অবস্থায় আজ ১৫ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি কিন্তু অবস্থার তেমন ভাল একটা পরিবর্তন পাচ্ছি না। 

কালুখালী উপজেলার মুরারীখোলা গ্রামের ফারুখ খাঁ জানান, জাম গাছ থেকে পড়ে গিয়ে আমার হাত ভেঙ্গে যায়। আমি আজ ৪ দিন ধরে এ হাসপাতালে ভর্তি আছি। কিন্তু চিকিৎসকেরা আসেন না তেমনটা। যদিও মাঝে-মধ্যে আসেন; তাদের মেজাজ ও ব্যবহার দেখে ভয়ে কিছু বলার সাহস পাই না।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বেড়াডাঙ্গা গ্রামের মোকসেদ মন্ডল বলেন, নাড়ে প্যাঁচ লাগা অবস্থায় আজ চারদিন যাবৎ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। সমস্ত ওষুধ বাহির থেকে টাকা দিয়ে কিনে আনতে হচ্ছে । চিকিৎসা সেবার নামে চলছে অনিয়ম আর হয়রানী।

অপর দিকে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, মাঝে মধ্যেই চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদেরকে চিকিৎসকগণ গালিগালাজ করে থাকেন এবং প্রায় রোগীকেই এখানে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফরিদপুর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। 

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিপক কুমার বিশ্বাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে কিছু ত্রুটি আছে স্বীকার করে তিনি জানান, একশ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে ৪২ জন চিকিৎসকের স্থানে রয়েছে মাত্র ১৮ জন। এছারাও ৮ টি ওয়ার্ডের তিন শিফটে কাজ করার জন্য রয়েছে মাত্র আটজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। প্রতিদিন ইনডোর ও আইটডোর মিলিয়ে ৫ থেকে ৬শ’ রোগীর স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। সেখানে একটু ত্রুটি তো হতেই পারে। আশা করছি দ্রুতই সমাধান করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর