Alexa ডাক্তারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২১ ১৪২৬,   ০৮ রবিউস সানি ১৪৪১

রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল

ডাক্তারের অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়

করিম ইসহাক, রাজবাড়ী ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৩৮ ১৫ জুন ২০১৯   আপডেট: ১৭:৪১ ১৫ জুন ২০১৯

১০০ শয্যার রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ৪২ জন চিকিৎসকের কথা থাকলেও আছেন মাত্র ১৮ জন। এই হাসপাতালের আটটি ওয়ার্ডে তিনটি শিফটে পরিচ্ছন্ন কর্মী আছেন ৮জন। ইনডোর ও আইটডোর মিলিয়ে প্রতিদিন ৫ থেকে ৬শ’ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থাকার কারণে ময়লার ভাগাড় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।   

জেলার ১৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২০০৮ সালে এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু জনবল বাড়েনি। ৫০ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে এই হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম।

চিকিৎসক না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। অনেকবার চিকিৎসা সেবা না নিয়েই চলে যেতে হচ্ছে। বলেন শহরের ডেরাডাঙ্গা এলাকার মিন্টু হাসান।   

একই এলাকার হারুন অর রশিদ জানান, শুধু চিকিৎসক সংকট নয় এই হাসপাতালে নিয়মিত ঝাড়ু দেয়া হয় না। কুকুর আর বিড়াল হাসপাতালে ঘোরাফেরা করে। টয়লেটের দরজা ভাঙা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। যে কারণে দুর্গন্ধ আর ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে হাসপাতালটি।

হাতের আঙ্গুল কাটা নিয়ে হাসপাতালে ১৫ দিন ধরে আছেন মজিদ মল্লিক। এসেছেন সদর উপজেলার চর লক্ষীপুর গ্রাম থেকে। তিনি বলেন, ১৫ দিন ধরে আছি। নার্সরা আসে আর যায়। ঠিকমতো ওষুধও দেয় না। অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

জাম গাছ থেকে পড়ে হাত ভেঙেছেন কালুখালী উপজেলার মুরারীখোলা গ্রামের ফারুখ খাঁ। তিনি বলেন, চারদিন ধরে হাসপাতালে আছি। চিকিৎসকরা হাসাপাতালে আসার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। যদিও কোনো সময় আসেন, তাদের মেজাজ ও ব্যবহার দেখে ভয়ে কিছু বলার সাহস পাই না।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বেড়াডাঙ্গা গ্রামের মোকসেদ মণ্ডল বলেন, নাড়ে প্যাচ লাগা অবস্থায় চারদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। সমস্ত ওষুধ বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে। সেবার নামে এখানে চলছে অনিয়ম আর হয়রানি। মাঝে মধ্যেই রোগী ও তাদের স্বজনদের চিকিৎসকগণ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে থাকেন। প্রায় রোগীকেই এখানে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফরিদপুর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিপক কুমার বিশ্বাস জানান, হাসপাতালের এমন দুরাবস্থার কথা এমপি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বারবার বলার পরও কোন কাজ হচ্ছে না। চারজন চিকিৎসকের যোগ দেয়ার কথা থাকলেও তারা কেউ যোগ দেননি। এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে হাসপাতালটি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম