ডাকাত-পুলিশ প্রেম!

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

ডাকাত-পুলিশ প্রেম!

নওগাঁ প্রতিনিধি

 প্রকাশিত: ১৭:৪০ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৮:৩৯ ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

চোর ও পুলিশে প্রেম। কাব্য-গল্পের ভাষায় এমন কিছু মাঝে মধ্যে শুনে থাকলেও ডাকাত-পুলিশে প্রেম সচারাচর কোথাও শোনা যায়না বললেই চলে। এক ডাকাতের সঙ্গে প্রেম করেছেন নারী পুলিশ কনস্টেবল। নাটকীয় মনে হলেও ঘটনা কিছুটা এমনই। তবে তা শুধু ওই ডাকাতকে কব্জাই আনার জন্যই এর বেশি কিছু না। 

রোববার গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ডাকাত সদস্যদের গ্রেফতারে কৌশল প্রকাশ করেন নওগাঁ সদর থানার ওসি (অপারেশন) এমএম ফয়সাল আহম্মেদ।

তিনি বলেন, গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গার নুরনগর গ্রামের ট্রাকচালক লিটন আলী ট্রাকভর্তি মুরগি নিয়ে রংপুরে যাচ্ছিলেন। নাটোর-বগুড়া সড়কে রাতে ১০-১২ জনের ডাকাত দল লিটনের ট্রাককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা ১৩ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল নেয়। এরপর ডাকাতদের একটি মিনিট্রাকে লিটন ও তার সহযোগীকে উঠিয়ে ডাকাত সদস্যরা মালবাহী ট্রাক নিয়ে চলে যান। পরের দিন ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে নওগাঁ শহরের বাইপাস বরুনকান্দি মোড়ে তাদের ফেলে চলে যায়। পরে ট্রাকচালক লিটন আলী বাদী হয়ে ওইদিন নওগাঁ সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটির দায়িত্ব পড়ে আমার(ওসি -অপারেশন) এমএম ফয়সাল আহম্মেদ) উপর। ডাকাত মেহেদী হাসানকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ইসলামপুরে। স্ত্রী ও সংসার আছে। এরপর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিত্বে সহযোগীদের গ্রেফতার করা হয়। সোর্সের মাধ্যমে মেহেদীর ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়। এরপর কলেজছাত্রীর পরিচয়ে এক নারী পুলিশ কনস্টেবল ডাকাত মেহেদীর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় শুরু করেন। এতে টোপ গিলে মেহেদী। একে অপরকে না দেখে বিয়ে করার কথাও চলতে থাকে। এরপর প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে চান মেহেদী। ওই নারী পুলিশও তার সঙ্গে দেখা করতে চান। অবশেষে গত ২২ অক্টোবর ওই নারী পুলিশ বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরে সিএনজিস্ট্যান্ডে প্রেমিক মেহেদীর সঙ্গে দেখা করতে যান। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে মেহেদীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও ১২ জন ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। মেহেদীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। এরআগে একই কায়দায় আরেক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখন দীর্ঘ সময় লেগেছিল। তবে এ মামলায় দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা যাবে তা কল্পনাও করতে পারিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম