ডাকাতির নাটক সাজিয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগ কর্মীকে হত্যা!

ঢাকা, সোমবার   ২৪ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ১২ ১৪২৬,   ১৯ শাওয়াল ১৪৪০

ডাকাতির নাটক সাজিয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগ কর্মীকে হত্যা!

সিলেট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৯ ১৩ জুন ২০১৯  

ডাকাতি নয় পরিকল্পিতভাবে সিলেটে স্বেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী দুদু মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার ভাই জুয়েল খান।

তিনি বলেন, বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে সাদিয়া টেলিকম নামক দোকানে দুদু মিয়ার উপর হামলা চালায় ১০-১২ জন লোক। এই দোকানটির মালিক দুদু মিয়া নিজেই। হামলার পূর্বে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে হামলাকারীরা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার জন্য বলে। হামলায় যখন দুদু মিয়া মৃত্যুর মুখে তখন তারা তাকে টেনে দোকান থেকে গোলপামিয়া পয়েন্টে নিয়ে যায় এবং মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় সাদিয়া টেলিকমে ডাকাত পড়েছে। ডাকাতের খবর শুনে এলাকাবাসী বের হয়ে দেখেন দুদু মিয়াকে মেরে ফেলে রাখা হয়েছে।

জুয়েলের দাবি, মসজিদের মাইকে ডাকাত পড়েছে ঘোষণার আগেই নিহতের দোকানের ভেতরে তাকে হত্যা করা হয়। বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে দোকানের ভেতর থেকে তাকে টেনে হেচড়ে কলাপাড়া গোলাপমিয়া পয়েন্টে গণপিটুনি দেয়া হয়। এ হত্যার সঙ্গে কাউন্সির আফতাব হোসেন খানও জড়িত বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুদু মিয়ার ময়নাতদন্তের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।  

এছাড়া এ ঘটনা মিমাংসা করতে সিলেট এয়ারপোর্ট থানা থেকে তাদের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের তিন ভাই ও এক বোন। এসময় তারা ঘটনা ধামাচাপা না দিয়ে সঠিক বিচারের জন্য উল্টো পকেট থেকে টাকা মাটিতে ফেলে পুলিশকে নেয়ার প্রস্তাব জানান। তাদের দাবি, স্থানীয় কাউন্সিলর পুলিশের মাধ্যমে এ ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। এদিকে এ হত্যার ঘটনায় এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হয়নি।

দুদু মিয়ার বড় ভাই হাসেম খান বলেন, আমার ভাই এক সময় মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি ও স্থানীয় কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খানের অনুসারী ছিল। তবে বছর খানেক আগে আফতাব হোসেনের সঙ্গে বিরোধ হলে তারা আমাদের বাসায় হামলা করে। ওই সময় হামলায় আমরা ৬ ভাইয়ের মধ্যে চারজন গুলিবিদ্ধ হই। এরপর থেকে আফতাবের সঙ্গে দুদুর সম্পর্ক ভালো ছিল না। আজ তারা ছাত্রদল, জামায়াত ও আওয়ামী লীগ সবাই মিলে ভাইটারে মেরে ফেলল।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা বলেন, নিহতের ময়না তদন্ত শেষ হয়েছে। এখন তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো কাইকে আটক করা হয়নি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম