Alexa ঠ্যালার নাম বাবাজি, গুনে গুনে টাকা ফেরত দিলেন এসআই

ঢাকা, সোমবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ১৪ ১৪২৬,   ০২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

Akash

ঠ্যালার নাম বাবাজি, গুনে গুনে টাকা ফেরত দিলেন এসআই

নোয়াখালী প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:৫৭ ৫ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০২:০২ ৬ ডিসেম্বর ২০১৯

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

প্রবাসীকে ভয় দেখিয়ে ১২ হাজার টাকা নিয়েছিলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার এসআই শিশির কুমার বিশ্বাস। কর্মকর্তাদের চাপে পড়ে সেই টাকা গুনে গুনে ফেরত দিলেন অভিযুক্ত সেই এসআই।

সোমবার রাত ৯টায় অভিযোগকারী প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তার শ্বশুরকে ওই টাকা ফেরত দেন তিনি। 

ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, একেই বলে ঠ্যালার নাম বাবাজি।

বুধবার ভুক্তভোগী আরব আমিরাতের দুবাই প্রবাসী ফাতেমা বেগম এসআই শিশির কুমার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছে বলে নোয়াখালীর সদর সার্কেলের অ্যাডিশনাল এসপি কাজী আবদুর রহিমের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। 

লিখিত ওই অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর সোমবার রাত ৯টায় ফাতেমা বেগমের অনুপস্থিতিতে তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তার শ্বশুর মো. ইলিয়াছকে অভিযুক্ত এসআই শিশির কুমার বিশ্বাস হাতিয়ে নেয়া ১২ হাজার টাকা ফেরতসহ আরো অতিরিক্ত ২০হাজার টাকা দিতে চায়।

কিন্তু বৃদ্ধ ইলিয়াছ টাকা রাখতে না চাইলে শিশির কুমার বিশ্বাস টেবিলের ওপর গুনে গুনে ১২ হাজার টাকা রেখে চলে যায় এবং যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে বলে, অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে তোমাদের অবস্থা ভালো হবে না। 

ওই রাতে ফাতেমা বেগম তার ভিসার বিষয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিল। এসআই শিশির কুমারের টাকা রেখে আসার বিষয়ে তার বোনের শ্বশুর মো. ইলিয়াছ তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে ফাতেমাকে জানায়। 

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী প্রবাসী ফাতেমা বেগম আরো উল্লেখ করে বলেন, এসআই শিশির কুমার বিশ্বাস ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া ১২হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আসলেও এখনো তিনি ও তার সহযোগী স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য নানা ধরনের ভীতি সৃষ্টি করছে। এছাড়া পুলিশের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে করা অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে নানা ধরনের মামলায় জড়ানোর হুমকি দিচ্ছে। । 

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী আলী আহম্মদ আবদুল্লাহ শেখের  অধীনে চাকরি করেন। একইভাবে তার দুই ভাইসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন একই মালিকের অধীনে দুবাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আসছেন। গত ৩ নভেম্বর আরব আমিরাতের নাগরিক আলী আহম্মদ শেখ তাদের সঙ্গে আরব আমিরাত থেকে কোম্পানীগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর তিনি তার থাকার সুবিধার্থে বসুরহাটে একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে তারা পুরো পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে তাদের বাসায় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই শিশির কুমার বিশ্বাসসহ কয়েকজন বহিরাগত যান। তিনি ঘরে ঢুকে নানা অশ্লীল কথাবার্তা বলেন পরিবারটিকে। একপর্যায়ে তাদেরকে থানার ওসি পরিচয় দিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে দুজনকে গ্রেফতারের হুমকি দেন। এ সময় তিনি শিশিরকে ‘ভাই’ ডেকে তার হাতে-পায়ে ধরে এ বিষয়ে কোনো কিছু না করার আকুতি জানান। পরে এসআই শিশিরের হাতে ১২ হাজার টাকা তুলে দিলে তিনি চলে যান। 

এ ঘটনায় গত ৩০ নভেম্বর রাতে নোয়াখালীর এসপি আলমগীর হোসেনের নির্দেশে অভিযুক্ত এসআই শিশিরকে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করে নোয়াখালী পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।  

নোয়াখালীর সদর সার্কেলের অ্যাডিশনাল এসপি কাজী আবদুর রহিমের সঙ্গে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসআইয়ের টাকা ফেরত দেয়া এবং প্রবাসী ফাতেমা বেগমের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লিখিত অভিযোগটি আমার হস্তগত হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ছাড়াও ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় যারা জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলমান রয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি’কে ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্থানীয়দের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া আছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ/আরএম