ঠিকাদারের ব্যর্থতায় দুর্ভোগ

ঢাকা, বুধবার   ১৯ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৫ ১৪২৬,   ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

ঠিকাদারের ব্যর্থতায় দুর্ভোগ

এম. আমান উল্লাহ, কক্সবাজার ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৭:৪৫ ২৩ মে ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের রামুর কাওয়ারখোপ ও রাজারকুল ইউপিতে কয়েক লাখ মানুষের বাস। এসব মানুষরা বহুযুগ ধরে সোনাইছড়ি ছড়াতে গাছের সাঁকো ব্যবহারে পারাপার হতেন। তবে স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার একটি সেতু দিয়েছে। তবে সেই সেতুটি নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ করতে পারেনি ঠিকাদার। এতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই ইউপির মানুষ।

২০১৬ সালে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে সোনাইছড়ি সেতুর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেয়া হয়। সেতু নির্মাণের দুই বছর মেয়াদ থাকলেও তিন বছরে মূল কাজের অর্ধেক হয়নি। এসব জেনে নিশ্চুপ স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অফিস। এখন সেতুটি অর্ধ নির্মিত অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া এর পাশ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কয়েকটি ছোট যানবাহন চলছে। তবে বড় গাড়ি চলাচলের সুযোগ নেই। অথচ সেতুর উভয় পাশেই পাকা সড়ক। শুধু সেতু নির্মাণের পূর্ণতার জন্য দুই পাড়ের মানুষ নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারছেন না।

স্থানীয় বাদশা মিয়া বলেন, বড় ছড়ায় সারা বছর পানি থাকে। তাই বহুযুগ ধরে গাছের সাঁকো দিয়ে মানুষরা চলাচল করতেন। তবে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সেতু নির্মাণ শুরু হয়। তবে প্রায় তিন বছরের বেশি সময় পার হলেও মূল কাজের অর্ধেক শেষ হয়নি। ফলে মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কোনভাবে টমটম গাড়ি চললেও কার-মাইক্রোবাস চলতে পারে না।

নজরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে মা অসুস্থ থাকায় কক্সবাজার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। সুস্থ হলে অ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে নেই। কিন্তু সোনাইছড়ির পর গাড়িটি নিতে পারিনি। আমার মতো কয়েক লাখ মানুষ অসহায় অবস্থায় আছে। এছাড়া গর্ভবতী নারীদের নিয়ে চরম ঝুঁকি। এক প্রভাবশালী ঠিকাদার এক মাস কাজ করলে দুই মাস বন্ধ রাখেন। কাজের মানও অনেক খারাপ।

রামু কাওয়ারখোপ ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহামদ বলেন, মানুষের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার সোনাইছড়ি সেতুটি টেন্ডার করে। ২০১৬ সালে নির্মাণ শুরু হলেও ঠিকাদার এখনো অর্ধেক কাজ শেষ করতে পারেনি। এছাড়া সেতুর কাজের মান ভাল হচ্ছে না। সরকার টাকা দিলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মের কারণে মানুষরা সুফল পাচ্ছে না। তাছাড়া শুনেছি ঠিকাদার আসাদউল্লাহ কাউকে পাত্তা দেন না।

রামু উপজেলা সুজন সভাপতি মাস্টার মোহাম্মদ আলম বলেন, ঠিকাদার কাজ করছে না কিন্তু প্রকৌশলী অফিস কি করছে ? নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারের কাজ বাতিল করার কথা, সেটা করেনি কেন? নিশ্চই তারাই সরকারের উন্নয়নের অন্তরায়। বিষয়টি দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

ঠিকাদার আসাদউল্লাহ বলেন, একটা সেতুর জন্য তিন বছর বেশি সময় না। এখানে অনেক কাজ, মানুষ সেগুলো কি বুঝবে? কাজ ঠিকই চলছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুস উদ্দিন বলেন, কাজ চলমান রয়েছে, কোন সমস্যা নেই, দ্রুত শেষ হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুর কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। তবে ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে শেষ হয়নি। দ্রুত কাজ করলে সেতু নির্মাণ শেষ হয়ে যাবে।

কক্সবাজার সদর-রামু আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, চার মাস আগে দেখেছিলাম, কিছু রড দিয়ে সেতুটি দাঁড় করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই খোঁজ নিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ