Alexa ঠান্ডা মাথায় প্রোটিয়াদের বিদায় ঘন্টা বাজালেন উইলিয়ামসন

ঢাকা, শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৯ ১৪২৬,   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

ঠান্ডা মাথায় প্রোটিয়াদের বিদায় ঘন্টা বাজালেন উইলিয়ামসন

রুশাদ রাসেল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ০৩:২৩ ২০ জুন ২০১৯   আপডেট: ০৩:২৫ ২০ জুন ২০১৯

আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ঠান্ডা মাথায় কে প্রতিপক্ষকে অনায়াসেই হারিয়ে দিতে পারবে? সবার আগেই হয়তো আপনার মাথায় মহেন্দ্র সিং ধোনির নাম চলে আসবে, যে কি না দিনের দিন এটাই করে আসতেছেন। কিন্তু বর্তমান সময়ের ধোনির পাশে আরো একজনের নাম আশা উচিত। সেটা আর কেউ নন, নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের নাম। একটা দলকে কতটা ঠান্ডা মাথায় হারানো যায় এবং সেই ম্যাচে পাহাড়সম চাপ নিয়ে সেঞ্চুরি করাও যায় তার অনন্য নজির স্থাপন করলেন কেন উইলিয়ামসন। প্রোটিয়াদের বাঁচা-মরার ম্যাচে তাদেরকে ৪ উইকেটে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমির স্বপ্ন অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলল কিউইরা।

অকল্যান্ডে যেভাবে শেষ করেছিল নিউজিল্যান্ড বার্মিংহ্যামেও ঠিক একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি ঘটালো তারা। ২০১৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে শেষ ওভারে ৪ উইকেটে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ২০১৯ সালে এসে দু’দলের মোকবেলাতে সেই শেষ ওভারেই ম্যাচের নিষ্পত্তি ঘটে এবং নিউজিল্যান্ড জেতে ৪ উইকেটের বিনিময়ে।

ম্যাচের শুরুতে দেড় ঘণ্টা বৃষ্টি হওয়ায় ম্যাচের পরিধি দুই দলের জন্য ১ ওভার কমিয়ে আনা হয়। ৪৯ ওভারের খেলাতে প্রোটিয়াদের দেয়া ২৪২ রানের লক্ষ্য শুরুতে মনে হচ্ছিল অনায়াসেই পার করে ফেলবে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু তাদের ভালো পরীক্ষা নিয়েছেন লুঙ্গি এঙ্গিডি, কাগিসো রাবাদা, ক্রিস মরিস ও ইমরান তাহির। টুর্নামেন্টের বাজে ফর্ম এই ম্যাচেও ধরে রেখেছিলেন ওপেনার কলিন মুনরো। মাত্র ৫ বলে ৯ রান করে রাবাদার বলে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।

ওয়ান ডাউনে খেলতে নামা কেন উইলিয়ামসনের সঙ্গে তখন দলের হাল ধরেন গাপটিল। প্রথম দশ ওভারে দলের রান ওঠে ৪৩। এরপর কিছুটা মেরে খেলতে থাকেন গাপটিল। কিন্তু ১৫তম ওভারের শেষ বলে ফেহলুকায়োর বলে ৩৫ রান করে আউট হন গাপটিল। ভাঙে ৬০ রানের জুটি। এরপর কিছু সময়ের ভেতরেই পথ হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। ৭২/১ থেকে চোখের পলকে ৮০/৪ এ পরিণত হয় কিউইরা। রস টেলর ও টম ল্যাথাম দুজনকেই ব্যক্তিগত ১ রানে ফেরান ক্রিস মরিস।

৮০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কা উঁকি দিচ্ছিল কিউই শিবিরে। ২০ ওভারে দলের রান গিয়ে দাঁড়ায় ৮৬। তখনো ৪৩ বলে ৩৩ রান করে ক্রিজ আগলে ছিলেন উইলিয়ামসন। জেমি নিশাম নেমে তাকে কিছুটা সঙ্গ দেন। নেশামের সঙ্গে তার ৫৩ রানের জুটি কিছুটা আলোর পথ দেখায়। ২৮ তম ওভারের শেষ বলে ইমরান তাহিরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ম্যাচে নিজের অর্ধশতক পূরণ করেন উইলিয়ামসন। কিন্তু দল যখন ভালো কিছু আশা করছিল তখনই আবার কিউই শিবিরে আঘাত হানেন মরিস। ৩৩তম ওভারে নেশামকে ২৩ রানে আউট করে আবারো নিউজিল্যান্ডের বিপদ ডেকে আনেন এই অলরাউন্ডার। কিন্তু এরপরেই দৃশ্যপট নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সায় দিতে থাকে।

নেশামের আউটের পর ক্রিজে আসেন অলরাউন্ডার কলিন দি গ্রান্ডহোম। তিনি এসেই পুরো ম্যাচটাকে পালটে দেয়ার মিশনে নামেন। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে উইলিয়ামসনের সঙ্গে মিলে গড়েন ৯১ রানের জুটি যার ভেতর গ্রান্ডহোমেরই ছিল ৬০ রান। এক পাশ দিয়ে গ্রান্ডহোম ছক্কা আর চারের ফুলঝুড়ি ছড়াচ্ছিলেন আর অন্যপাশে কেন উইলিয়ামসন সিঙ্গেল নিয়ে প্রোটিয়া ফিল্ডারদের ব্যতিব্যস্ত রাখছিল। ৪৭ বলে ৬০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে এনগিডির বলে যখন আউট হন তখন নিউজিল্যান্ড জয় থেকে মাত্র ১৪ রান দূরে। অথচ তিনি ক্রিজে এসেছিলেন তখন দলের রান ছিল ১৩৭! কিন্তু এত দূরে আসতো পারতো না নিউজিল্যান্ড যদি না দক্ষিণ আফ্রিকা ৩৭তম ওভারে ও ৪০তম ওভারে উইলিয়ামসনকে সুযোগ না দিত। ইমরান তাহিরের করা ৩৭তম ওভারের প্রথম বলে ক্যাচ দেন উইলিয়ামসন কিন্তু সেটা লুফে নিতে পারেননি মারকরাম। চতুর্থ বলে এবার গ্রান্ডহোম ক্যাচ দেন মারকরামের কাছে, এবারো তিনি ক্যাচ মিস করেন। ষষ্ঠ বলে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে। ইমরান তাহিরের বল কেন উইলিয়ামসের ব্যাট ছুঁয়ে পেছনে থাকা ডি ককের তালুবন্দী হলেও আফ্রিকান অধিনায়ক ডূ প্লেসিস রিভিউ নেননি। কেননা, ডি কক কিংবা ইমরান তাহির আবেদনই জানাননি আম্পায়ারের কাছে। অথচ টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল উইলিয়ামসনের ব্যাট ছুঁয়েছিল। তখন তিনি আউট হলে হয়তো ম্যাচটাই প্রোটিয়াদের হয়ে যেত। ৪০তম ওভারের প্রথম বলে উইলিয়ামসনকে রান আউটের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা কিন্তু তারা আউট করতে ব্যর্থ হন। ৪৬ তম ওভারে বাউন্ডারির কাছে গ্রান্ডহোমের আরো একটি ক্যাচ মিস করেন ডেভিড মিলার। এমন ছন্নছাড়া ফিল্ডিংয়ের যথাপযুক্ত ব্যবহার করে নিউজল্যান্ড।

দলকে জয়ের বন্দরে রেখে গ্রান্ডহোমের আউট হলে সব দায়িত্ব চলে আসে উইলিয়ামসনের উপর। তখনো তিনি ১৩৩ বল খেলে ৯১ রান করে ক্রিজে রয়েছেন। ৪৮তম ওভারের শেষ বলে এনগিডিকে থার্ড ম্যান দিয়ে অসাধারণ ভঙ্গিমায় চার মেরে দলকে খুব কাছে নিয়ে আসেন তিনি। শেষ ওভারে দলের যখন দরকার ছিল ৮ রান তখন প্রথম বলে মিচেল সান্টনার সিঙ্গেল নিয়ে উইলিয়ামসনকে দেন। দ্বিতীয় বলেই মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে ম্যাচ টাই করে ফেলে নিউজিল্যান্ড। এরপরের বলে চার মেরে দলের জয়ের পাশাপাশি নিজে সেঞ্চুরি করে ১০৬ রানে অপরাজিত থাকেন উইলিয়ামসন।

বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম সেঞ্চুরি। রান তাড়া করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে মাত্র ৬ জন অধিনায়কই আছেন যারা সেঞ্চুরি করে দলকে জিতিয়েছেন। তাছাড়া ইংল্যান্ডের মাটিতে দ্রুততম ১৭ ইনিংসে হাজার রান করার রেকর্ডও গড়েন। বিশ্বকাপে এটি নিউজিল্যান্ডের টানা দশমবারের মত রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। তবে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ১৯ থেকে এখনো অনেক দূরে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও কিউইদের বিশ্বকাপ ভাগ্য বেশ সুপ্রসন্নই বলা চলে। শেষ পাঁচবারের পাঁচটিতেই জিতেছে নিউজিল্যান্ড।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়া উইলিয়ামসন পুরস্কার নিতে এসে বলেন, শেষ পর্যন্ত খেলে আসাটা বেশ ভালো লাগাচ্ছে। উইকেটটা বেশ কঠিন ছিল। বল নরম হয়ে যাচ্ছিল। আমার মনে হয়, প্রথমার্ধে আমাদের বোলাররা দারুণ করেছে। আমরা এক অর্ধ্ব শেষ হওয়ার পর বুঝেছিলাম বল হাতে আমরা ভালো করেছি। আমরা তারপর ব্যাটিংয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করি কিন্তু উইকেট হারাচ্ছিলাম। গ্রান্ডহোম বোলিংয়ের পাশাপাশি আজকে ব্যাটিংয়েও নিজের জাত চিনিয়েছে। আমরা জানতাম, অনেক ডট বল খেলতে হবে আমাদের। আমি আমার সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলছিলাম যাতে দ্রুত সিঙ্গেল নিয়ে খেলতে পারি যাতে ফিল্ডাররা ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে। দলের অন্যান্যদের পারফরম্যান্সও আজ ইতিবাচক ছিল। এভাবে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ জেতাটা সত্যিই দলের সবাইকে ভালো কিছু উপহার দিবে সামনে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএ

Best Electronics
Best Electronics