টয়া–শাওনের জীবনে যা ঘটার ছয় মাসেই ঘটে গেল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০,   চৈত্র ১৯ ১৪২৬,   ০৮ শা'বান ১৪৪১

Akash

টয়া–শাওনের জীবনে যা ঘটার ছয় মাসেই ঘটে গেল

নাজমুল আহসান ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৮:২৭ ১২ মার্চ ২০২০   আপডেট: ২০:০৬ ১২ মার্চ ২০২০

মুমতাহিনা টয়া ও সৈয়দ জামান শাওন

মুমতাহিনা টয়া ও সৈয়দ জামান শাওন

দীর্ঘদিন ধরেই লাক্স সুন্দরী ও ছোট পর্দার অভিনেত্রী মুমতাহিনা টয়ার সঙ্গে পরিচয় অভিনেতা সৈয়দ জামান শাওনের। তবে সে পরিচয় ছিল সহকর্মী হিসেবে, এরপর বন্ধুত্বের। গেল বছর শাওনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে টয়ার। মাস তিনেক আগে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের সিদ্ধান্ত পরিবারকে জানালে তারাও মত দেন। অবশেষে দুই পরিবারের সিদ্ধান্তে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। বিয়ের পর নতুন জীবনের অভিজ্ঞতা, হানিমুনের পরিকল্পনা ছাড়াও নানা বিষয় নিয়ে এ নব-দম্পতি ডেইলি বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের ভালোবাসার টুকরো গল্প তুলে ধরেছেন নাজমুল আহসান

নতুন জীবনের শুরু, কেমন অভিজ্ঞতা?

শাওন: মনে হচ্ছে একটা রেসের মধ্যে আছি। খুব দ্রুত সময় চলে যাচ্ছে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে একের পর এক দাওয়াত। সবাই আমাদের এখানে এসেও অভিনন্দন জানাচ্ছেন। সবকিছু মিলিয়ে নতুন জীবনে এই কয়েকটা দিনে বেশ ভালোই অভিজ্ঞতা বলতে পারি। 

টয়া: সত্যি কথা বলতে বুঝে উঠতে পারছি না। শুটিং করতে হচ্ছে, আবার একইসঙ্গে দাওয়াতেও যোগ দিতে হচ্ছে। এসব করে কিভাবে যে সময় পার হয়ে যাচ্ছে বুঝে উঠতে পারছি না। 

বিয়ের প্রস্তাব প্রথম কে কিভাবে  দিয়েছিলেন?

শাওন: ঘটনাটা বেশ মজার। আমার জন্মদিনে টয়া সারপ্রাইজ পার্টির আয়োজন করে। আমি বুঝতে পারছিলাম আমার জন্মদিনে ও (টয়া) কিছু একটা করবে। এতো সহজে ছেড়ে দেয়ার মেয়ে সে না। যদিও এর আগে টানা তিন-চারদিন আমাদের তুমূল ঝগড়া হয়। আমি যেহেতু এয়ারলাইন্সে চাকরি করি, চিন্তা করলাম সে যদি কিছু না বলে ফ্লাইটে চলে যাবো। ঝগড়ার কারণে কথাও হচ্ছিল না, টয়াও পার্টির বিষয়ে বলতে পারছিল না। যায় হোক রাগ ভেঙে কথা বলে। তখন চিন্তা করলাম আমার সারপ্রাইজ পার্টিতে আমিও তাকে সারপ্রাইজ দেবো। 

সেই জায়গা থেকে আমার প্ল্যান- টয়া যেখান থেকে কেক অর্ডার করে সেখানে বলে কেকের ভেতরে রিং রেখে দেবো। পরে আমাদের ফ্রেন্ড সানজানাকে বলে ম্যানেজ করি। একটা পর্যায়ে কেক কাটার পর টয়া ভাবছে পার্টি প্রায় শেষ। এমন সময় রিংটা নিয়ে প্রপোজ (প্রস্তাব) করি। 

প্রোপোজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল সেই প্রশ্নে টয়া বলেন: আমি আয়োজন করলাম সারপ্রাইজ পার্টি, কিন্তু দেখলাম ও (শাওন) সব জানতো। সেই আয়োজনে সে উল্টা প্রপোজ করে আমাকে সারপ্রাইজ করলো। যখন আংটি পরিয়ে দিলো তখন প্রথম পাঁচ মিনিট আমি কিছু বুঝতেই পারিনি কি হচ্ছে আমার সঙ্গে। 

কথা কেড়ে নিয়ে শাওন বলেন, আমি নি ডাউন (হাটু গেড়ে প্রেমের প্রস্তাব) হয়ে টয়াকে বললাম- ইউল ইউ ম্যারি মি? সে সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠে- না!
 
টয়া: আমি বুঝতে পারিনি। ভাবছি শাওন আমার সঙ্গে দুষ্টামি করছে। পরে বুঝলাম এতো মানুষের মাঝে যেখানে ওর পরিবারের লোকজন আছে এখানে নি ডাউন হয়ে তো দুষ্টামি করতে পারে না। 

বাঁশি বাজাচ্ছেন শাওন আর মুগ্ধ হয়ে শুনছেন টয়া

সম্মতিতে এলেন কখন?

টয়া: পার্টিতেই শাওনকে ইয়েস বলেছিলাম। যদিও এর আগ থেকেই পরিকল্পনা করেছিলাম আমরা বিয়ে করবো। আর আমাদের সম্পর্কও ওই রকম ছিল। দুই পরিবারের মধ্যেও জানানো হয়েছিল। প্রথমে শাওন তার মাকে জানায় পরে আমি আমার পরিবারকে জানাই। এরপর সবাই যখন রাজি হয়, তখনই বিয়ের তারিখ ঠিক করা হয়। 

শাওন: ২৯ ফেব্রুয়ারি, বিয়ের জন্য এই তারিখটাও হুট করে ঠিক করা। জন্মদিনে যে প্রপোজ করা হয় সেটা ছিল আন-অফিশিয়ালি অ্যানগেজমেন্ট। এরপর থেকে পুরো ব্যাপারটা দুই পরিবারের মনিটরিংয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়াল। তারা মিলে আবার আংটি পরানোর ব্যবস্থা করে এবং বিয়ের তারিখ ঠিক করে।  

দু’জনের প্রতি দু’জনের ভালোলাগা শুরু কবে থেকে?

টয়া: আমাদের পরিচয় ছয় বছরের। কিন্তু একজন অন্যজনকে ঠিকঠাকমতো চিনি ছয় মাস ধরে। আর এই ছয় মাসেই যা ঘটার ঘটছে।  এমন না একজন আরেকজনের বিষয়ে অনেক আগে থেকেই জানি। একটা কাজের সুত্র ধরেই আমাদের বন্ধুত্ব হয়। এরপর থেকে হ্যাঙ্গ-আউট করা শুরু করি। আমার বন্ধুদের সঙ্গে এবং তার বন্ধুদের সঙ্গে আমি মিশতে শুরু করি। একসঙ্গে ঘুরতে যায়। কিন্তু দু’জন যখন কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি তখন বুঝতে পারি আমারা একজন অন্যজনকে মিস করছি। তখন বুঝতে পারি আমরা আসলে বন্ধু না। এর চেয়েও বেশি কিছু ভাবছি। সেই জায়গা থেকে একদিন শাওন এসে বললো- দেখো টয়া, আমি আসলে দুই এক বছর প্রেম করবো তারপর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিয়ে করবো, এসবের মধ্যে যেতে চাই না। একদম সরাসরি বলছি- আমি তোমাকে বিয়ে করবো। তুমি কি আমার সঙ্গে থাকবে? তখন আমিও সায় দিলাম। বললাম, আমার পরিবারও চাচ্ছে-এখন বিয়ে করি। যতদূর দেখেছি, দারুণ মনের মানুষ শাওন। 

শাওন: সবতো টয়া বলেই দিলো। যা ঘটার ছয় মাসেই ঘটছে।

শাওন স্বামী হিসাবে কেমন?

টয়া: মাত্র কয়েকদিন চলছে আমাদের বিয়ে হলো। এরপও যদি বলি, ছেলেটা ভীষণ কেয়ারিং। প্রতিটা মেয়ে চায় তার বাবার মতো কেউ তার লাইফে আসুক। আমার বাবা আমাকে যেভাবে টেক-কেয়ার করেছে। শাওনের মাঝে আমি সেই ব্যাপারটি দেখেছি। এখন আমার বাবা আর ও একটা টিম হয়ে গেছে। দু’জনে বকাঝকা করে, আবার টেক-কেয়ার করে। 

রোমান্টিক মুহূর্তে শাওন ও টয়া

টয়া বউ হিসেবে কেমন?

শাওন: প্রাথমিকভাবে সত্যি কথা হচ্ছে টয়ার খুব ইগো। 

মুহূর্তেই টয়া: চুপ করো। 

শাওন: দেখলেন রি–অ্যাকশন চুপ করো! ও আমাকে খুব ভালোবাসে। ওর একজন মানুষকে আপন করে নেয়ার ক্ষমতা প্রবল। মাঝে মাঝে ছেলে মানুষী করে, কখনো ম্যাচিউরড বিহ্যাব করে। সবচেয়ে বড় কথা যেটা- মানুষটা আমাকে খুব ভালোবাসে, খুব কেয়ার করে।

আমার কী কী পছন্দ সব ও জানে। যেমন আমি ঝাল খেতে পারি না। তাই কখনো কিছু অর্ডার করলে ঝাল ছাড়া করে। আবার কোন খাবারে আমার এলার্জি আমার চেয়ে এখন টয়া বেশি মনে রাখে। 

রান্না করে কখনো খাওয়ানো হয়েছে?

শাওন: সত্যি কথা বলতে আমাদের দু’জনের সেই সুযোগটাই হয়নি। 

টয়া: এতো দ্রুত সব হয়েছে, সেই সুযোগটাই পাইনি। 

হানিমুনে কবে কোথায় যাচ্ছেন?

টয়া: ঈদের পরে। 

শাওন: ইনশাআল্লাহ

দুজনে একসঙ্গে: আমাদের ইচ্ছা হানিুমুনে ভুটানে যাব।

টয়া: এর মাঝে আমাদের একটা মিনি হানিমুন হয়েছে। বিয়ের চারদিন আগে আমার শুটিং শেষ হয় আর তিনদিন আগে শাওনের। এই সময়ের মধ্যে বিয়ের সব শপিং, বাসা গোছানো সব করা হয়েছে। এই কারণে আমার মা বললো এতো আত্মীয়-স্বজনের মাঝে থাকলে তোমরা রেস্ট নিতে পারবে না। শাওনের মাও বললো হ্যাঁ, তোমরা কোথাও ঘুরে আসো। সেই জায়গা থেকে বিয়ের পরদিন সিলেটের লালাখালে গিয়েছিলাম। সেখানে দু’দিন কাটিয়েছি। আর ঈদের পর ভুটানে যাব এখন পর্যন্ত এটাই প্ল্যান। 

শাওন-টয়ার দুষ্টু মিষ্টি সময়

একজন অন্যজনকে কখন বেশি মিস করেন?

শাওন: ঝগড়ার পরের সময়টায়। 

ঝগড়া হলে কার অভিমানের পাল্লা ভারী?

টয়া: শাওনের রাগ বেশি। 

শাওন: আমি একটু শর্ট ট্রেম্পার। তাই খুব দ্রুত রি-অ্যাক্ট করি, আবার একইভাবে ঠান্ডা।

টয়া: আমি আস্তে আস্তে রাগ করি। রাগ করলে সেটা দীর্ঘক্ষণ হয়। 

মান-অভিমান কিভাবে ভাঙান? 

শাওন: টয়া রাগ করলে খুব চুপ চাপ থাকে। তখন ঘুরেত যেতে বললে বা ডিনারে যেতে বললে কোনো রিপ্লাই দেয় না। দেখা যায় পাঁচবার বলার পর- হ্যাঁ, বলো, আচ্ছা, চলো, ওকে, ঠিক আছে এভাবে বলছে। আর মোবাইলে সিরিজ দেখেই যাচ্ছে। ভদ্র মহিলার মনোযোগ পাওয়া তখন খুব কঠিন ব্যাপার। আবার যখন স্বাভাবিক থাকে তখন আমার এটেনশন নেয়ার জন্য যা যা করার দরকার সব করে। 

টয়া: আমি খুব একটা রাগী না। শাওন রাগে, আমি কথাই বলি না। 

শাওন: ব্যাপারটা হচ্ছে টয়া ঝগড়া করে-আমি সাফার করি। 

টয়া: না, রাগ ওর বেশি। মাঝে মাঝে যখন আমি রেগে যাই, তখন শাওন অনেকভাবে রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করে কিন্তু সেই সুযোগটা সহজে দেই না। শাওন রাগ করলো, চিৎকার করলো, চলে গেলো এরপর ঠান্ডা হয়ে গেল। 

গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবিতে শাওন আর মেহেদি রাঙা হাতে টয়া

তিনটা করে কারণ বলবেন, যে কারণে ভালোবাসার পর মনে হলো ঘর বাঁধা যায়।

টয়া: শাওন মাঝে মাঝে বলে তোমার বাবা-মা, আমরা পরিবার সবাই একসঙ্গে থাকি। এতে তুমি দুই পরিবারকেই দেখতে পাবে। জানি না তেমন হবে কিনা! ও যে বলে এটাই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। 

শাওন ভীষণ কেয়ারিং একজন মানুষ। আগেও বলেছি সে বাবার মতো আমাকে কেয়ার করে।

শাওন আমাকে ছাড়া থাকতে পারে না। বুঝতে পারি তার কাছে আমি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। 

শাওন: টয়া যেকোনো বিষয় আমার সঙ্গে শেয়ার করে। আমাকেও বেশ কেয়ার করে।

টয়া নিজের পরিবারকে খুব ভালোবাসে। সে জায়গা থেকে মনে হয়েছে- আমার পরিবারকেও নিজের করে নেবে। আর আমার মায়ের সঙ্গে ওর সম্পর্কটা অনেক ভালো। 

টয়া একেবারে সিম্পল একটা মেয়ে। আমি এয়ারলাইন্সেও চাকরি করি অভিনয়ের পাশাপাশি। ডেইলি লাইফে অনেক সমস্যা সমাধান করতে হয়। ওর মাঝে একটা জিনিস দেখেছি নিজেদের মাঝে কোনো সমস্যা হলে সেটার সমাধান আগে করার চেষ্টা করে। অনেকে আছে একটা সমস্যার মাঝে আরো চারটা সমস্যা দাঁড় করাচ্ছে, এরকম ও না।  যদি এরকম হতো তাহলে ঘরে গিয়েও শান্তি পাবো না। সেই জায়গা থেকে মনে হয়েছে- আমার এবং আমার পরিবারের জন্য টয়া পারফেক্ট একজন মানুষ। 

এবার একজন অন্যজনের তিনটি করে আপনাদের দেখা বদ-অভ্যাস বলবেন?

শাওন: তিনটা মাত্র, আরো বেশি বলতে পারবো। প্রথমত ইগো, দ্বিতীয়ত ইগো, তৃতীয়ত ইগো।

আমি আশেপাশে থাকলে সে নিজের টেককয়ার করবে না। 

মাঝে মাঝে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করবে ঠিকমতো খাবে না। অবশেষে বিরক্ত হয়ে খাবার মুখে তুলে বলতে হয় খাবা না কেন? খাও। 

টয়া: প্রথম শর্ট ট্রেম্পার। এতো দ্রুত রেগে যায় ছেলেটা।

শাওন: কী বললে তুমি?

টয়া: দেখেছেন, প্রমাণ পেলেন তো। এরকমই। 

দ্বিতীয়ত, যখন খেতে বসে তখন মোবাইলে ভিডিও দেখতে থাকে। 

শাওন: এটা কিন্তু বদ-অভ্যাস না, মাল্টি কাস্টিং। 

টয়া: আর তেমন বদ-অভ্যাস নেই। 

ডেইলি বাংলাদেশ পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের নতুন জীবনের শুভেচ্ছা...

শাওন-টয়া: আমাদের জন্যও দোয়া করবেন। আর আমরা চাইবো চলার পথে সব-সময় ডেইলি বাংলাদেশকে পাশে পাবো। ডেইলি বাংলাদেশের জন্যও শুভ কামনা...

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ/এমআরকে