Alexa ট্রেনের অনলাইন টিকেটে ভোগান্তি

ঢাকা, মঙ্গলবার   ২১ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৭ ১৪২৬,   ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

ট্রেনের অনলাইন টিকেটে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:১৯ ২ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৫:২৩ ২০ জানুয়ারি ২০২০

সংগৃহীত

সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বিরতিহীন ট্রেন সুবর্ণ এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করছিলেন মৃত্যুঞ্জয় জুয়েল নামে এক যাত্রী। টিকেট কেটেছিলেন অনলাইনে। কিন্তু ট্রেনে উঠার আগে ভুলঃবশত প্রিন্টেড টিকেট বাসায় ফেলে আসেন। এরপরই ঘটে যতো বিপত্তি। রেলের আইন অনুযায়ী টিকেট প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে গন্তব্য স্টেশন পর্যন্ত মোট ভাড়ার দ্বিগুণ জরিমানা দিতে হয়। তার মানে ৩৮০ টাকা দিয়ে টিকেট কাটার পরও তাকে জরিমানা দিতে হয়েছে ৭৬০ টাকা।

জুয়েলের অভিযোগ, বর্তমানে রেলের টিকেট ৫০ শতাংশ যদি অনলাইনে বিক্রি করা হয়, তবে কেন টিকেট প্রিন্ট করার এই মান্ধাতা আমলের সিস্টেম এখনো চালু রয়েছে? টিকেট যদি প্রিন্টই করতে হবে, তাহলে অনলাইনে কেনার মানেটাই বা কী? আইন অনুযায়ী, যাত্রীকে অবশ্যই অনলাইনের টিকেটের পিডিএফ কপি প্রিন্ট করে ট্রেনে উঠতে হবে, অথবা কাউন্টার থেকে প্রিন্ট করাতে হবে। এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক। কোনো যাত্রী যদি টিকেটের পিডিএফ কপি প্রিন্ট করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাকে দ্বিগুণ জরিমানা করা হয়। যদিও উন্নত বিশ্বে ডিজিটাল টিকেটই গ্রহণযোগ্য।

এরইমধ্যে রেলের অ্যাপে কিছু ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। পিডিএফ সফট কপিতে কিউআর কোড বসানো হয়েছে, যা স্ক্যান করলেই সেই টিকেট আসল না নকল সেটা বোঝা যায়। তাছাড়া রেলের অ্যাপে টিকেট ভেরিফাই করার নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, ফটোশপ দিয়ে টিকেট নকল করার সুযোগ শতভাগ বন্ধ হয়েছে। যাত্রী নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং রেলসেবা অ্যাপ দিয়ে নিজের টিকেটের বৈধতা প্রমাণ করতে পারেন।

অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইট থেকে টিকেট কাটা গেলেও এখন পর্যন্ত অনলাইনে টিকেট ফেরত দেয়ার সুবিধা যুক্ত করেনি রেল কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ কোনো যাত্রী অনলাইনে টিকেট কেটে ফেরত দিতে চাইলে তাকে স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ফেরত দিতে হবে।

এদিকে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে টিকেট ব্লকিং বন্ধ ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এর ফলে এখন থেকে ট্রেনের সব টিকেট উন্মুক্ত।

রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় রেলওয়ের টিকেটের অপ্রতুলতা দীর্ঘদিনের। এরপরও বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে যে পরিমাণ টিকেট থাকে সেগুলোর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অনুরোধে ও ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষণ (ব্লক) করে রাখা হয়। তবে টিকেট সংরক্ষণ পদ্ধতি তুলে নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত টিকেট ৪৮ ঘণ্টা আগে উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মিয়া জাহান বলেন, কোটার টিকেটগুলো ব্যক্তি বিশেষ হিসেবে কত ঘণ্টা আগে রিলিজ করা হবে সেটারও নির্দেশনা দেয়া হবে। তবে টিকেট কালোবাজারিসহ নানা বিষয়ে রেল প্রশাসন কঠোর নজরদারি করছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস