ট্রেনিং নিয়ে, ট্রেনিং শিখিয়েছেন অনু

ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ মে ২০১৯,   জ্যৈষ্ঠ ৮ ১৪২৬,   ১৭ রমজান ১৪৪০

Best Electronics

ট্রেনিং নিয়ে, ট্রেনিং শিখিয়েছেন অনু

নাদিম হোসাইন,মুন্সিগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:০১ ১১ মার্চ ২০১৯   আপডেট: ১৫:৪০ ১২ মার্চ ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের অবস্থা খুব খারাপ। পাকিস্তানিতারা পাখির মতো গুলি করে এদেশের মানুষে মারছে। আর বসে থাকার অবসর নেই। আমার দিন ক্ষণ মনে নেই। আগরতলা দিয়ে চলে গেলাম ভারতে। ট্রেনিং নিয়ে আসার পর আমাকে মুন্সিগঞ্জে পাঠিয়ে দিল। আমি আর এসপি আনোয়ার মিলে সুখবাসপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দেয়ার জন্য একটা সেন্টার খুলি। সেখানে একটা জঙ্গলে মুক্তিযোদ্ধারদের ট্রেনিং দেই। কতদিন যুদ্ধ চলবে জানিনা। ভারত যাওয়া আশা অনেক কঠিন। অনেক সময় লাগে। আর পথেও অনেক বিপদ তাই আমরা ট্রেনিং সেন্টার খুলি। সেখানে ট্রেনিং দিয়ে যোদ্ধা তৈরি করি। আমাদের সঙ্গে ছিলেন ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরী।

পরে ট্রেনিং দিতে আমাদের সঙ্গে বেঙ্গল রেজিমেন্টের এক লোক দিয়ে যায়। বয়স হয়েছে তার নাম মনে নেই। তখন ছিল অক্টোবর মাস। ধলাগাও বাজারে আমাদের সঙ্গে পাক বাহিনীর যুদ্ধ হয় দুই ঘন্টা। যুদ্ধে তিন পাকিস্তানি নিহত হয়। পরে ৪ নভেম্বর আমরা টঙ্গিবাড়ি থানা দখল করি। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জ সদর থানা অপারেশনের পরিকল্পনা করি। সেদিন ছিল শবেবরাত। ৭-৮টি দল করি প্রত্যেক গ্রুপে ৮জন করে। আমি ৮জন নিয়ে থানার পাশে ছিলাম।  আমাদের মধ্য একজন  সংকেত দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আসাদ নামের একজন ফাঁকা গুলি ছোড়ে। আমরা একযোগে আক্রমণ করি। সে যুদ্ধে পাকিস্তানিরা রাতেই পালিয়ে যায়। আমরা তখন উল্লাসে ফেটে পড়ি। থানার অস্ত্রগার লুট করি। পাকিস্তানিদের চারদিক থেকে কোনঠাসা করে ফেলি। আর ১১ ডিসেম্বর মুক্ত হয় মুন্সিগঞ্জ। মুন্সিগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যায় পাক বাহিনী।  

যুদ্ধকালীন সময়ে অস্ত্র হাতে মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন অনু (বাম পাশের শুরুতে)মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন আনু বর্তমানে শহরের কোর্টগাঁও এলাকার বয়েজ ক্লাব সংলগ্ন নিজ বাড়িতে একাকী জীবন যাপন করছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ে তার। ছেলে-মেয়েরা বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। সন্তানরা যে যার মতো সংসার করছেন। এখন এ মুক্তিযোদ্ধার সময় কাটে মসজিদে নামাজ পড়ে। বাকী সময় বিছানায় শুয়ে-বসেই থাকতে হয়। এ মুক্তিযোদ্ধা এখন নিজের হাতেই রান্না করেন। 

মুক্তিযোদ্ধা আনুর স্বাধীন বাংলাদেশে চাওয়া বলতে তেমন কিছুই নেই। তিনি বলেন- মুন্সিগঞ্জে এখন অনেক মুক্তিযোদ্ধা দেখা যায়। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় এ সব মুক্তিযোদ্ধা কোথায় ছিলেন। তাই জীবনের শেষ সময়ে একটাই চাওয়া মুন্সিগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা করা হোক।  

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ

Best Electronics