Alexa ট্রাম্প-কিমের বৈঠক হচ্ছে সিঙ্গাপুরের যে দ্বীপে

ঢাকা, রোববার   ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৬,   ১০ রবিউস সানি ১৪৪১

ট্রাম্প-কিমের বৈঠক হচ্ছে সিঙ্গাপুরের যে দ্বীপে

 প্রকাশিত: ১৫:৪৬ ৬ জুন ২০১৮   আপডেট: ১৬:০৬ ৬ জুন ২০১৮

পাঁচ তারকা এ হোটেলটিতে ট্রাম্প-কিমের শীর্ষ বৈঠক হবে

পাঁচ তারকা এ হোটেলটিতে ট্রাম্প-কিমের শীর্ষ বৈঠক হবে

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১২ জুন বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। উত্তর কোরীয় নেতা এবং কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে এটিই হবে প্রথম বৈঠক।

স্বভাবতই বহুল প্রত্যাশিত বৈঠকটি নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কিন্তু এ বৈঠকের অনেক বিষয়ই এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু বলেছেন, পরিকল্পনা সুন্দরভাবে এগোচ্ছে।

তবে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ঐতিহাসিক এ শীর্ষ বৈঠকটি সিঙ্গাপুরের সেনতোসা দ্বীপের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারা স্যান্ডার্স এক টুইটার বার্তায় জানান, শীর্ষ বৈঠকটি সিঙ্গাপুরের সেনতোসা দ্বীপের পাঁচ তারকা কাপেল্লা হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। 

পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে সেনতোসা দ্বীপটিকে

যে ৬৩টি দ্বীপের সমন্বয়ে সিঙ্গাপুর দেশটি গঠিত হয়েছে সেনতোসা দ্বীপ সেগুলোর অন্যতম। এই দ্বীপটি ৫০০ হেক্টর জায়গার উপর গড়ে উঠেছে। মূল ভূখণ্ড থেকে এ দ্বীপটি কাছে। এখানে প্রচুর বিলাসবহুল হোটেল এবং অভিজাত গলফ কোর্স রয়েছে।

উনিশ শতকে ব্রিটেনের অধীনস্থ একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সিঙ্গাপুরের আবির্ভাব ঘটে। ভারত এবং চীনের মধ্যে যে সমুদ্র পথ আছে সেটির মাঝখানে সিঙ্গাপুরের অবস্থান। ফলে সিঙ্গাপুরের আলাদা একটি গুরুত্ব রয়েছে।

ব্রিটিশ শাসনের আগেই সিঙ্গাপুর একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছিল। এখানে ব্যবসায়ীদের আসা-যাওয়া যেমন ছিল, তেমনি দস্যুদের আনাগোণাও ছিল। 

শান্ত এ সৈকতের কালো অধ্যায়ও রয়েছে, এক সময় এখানে অনেক রক্তপাত হয়েছে

তবে সেনতোসা দ্বীপের একটি কালো অধ্যায় রয়েছে। দস্যুতা, রক্তপাত এবং যুদ্ধের ইতিহাস রয়েছে এ দ্বীপের। সেনতোসা দ্বীপটি ‘মৃত্যুর দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত ছিল।

১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের আত্নসমর্পণের পর সিঙ্গাপুর জাপানের হাতে চলে যায়। তখন জাপানিরা দ্বীপটিকে ‘সায়োনান’ অর্থাৎ ‘দক্ষিণের বাতি’ নামে নতুন নামকরণ করে।

দ্বীপটিতে নৃ-তাত্ত্বিক চীনা সম্প্রদায়ের বসবাস ছিল। ফলে সেসময় জাপান-বিরোধীদের সেখান থেকে সরানোর নামে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী চীনা পুরুষদের বিভিন্ন জায়গায় ডেকে নিয়ে মেশিনগান দিয়ে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে সাগরে ফেলে দেয়া হয়।

যেসব জায়গায় হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে বর্তমানে কাপেল্লা হোটেলের সামনের সমুদ্র সৈকত অন্যতম। 

পর্যটনের নানা আকর্ষণীয় দিক আছে দ্বীপটিতে

১৯৭০ সালে সিঙ্গাপুর সরকার দ্বীপটির নামকরণ করে সেনতোসা, যার অর্থ ‘শান্তি’। এরপর দ্বীপটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়।

এ দ্বীপে গড়ে উঠেছে অনেক ব্যয়বহুল আবাসন প্রকল্প। এখানে একেকটি বাড়ির দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার। সেই সাথে রয়েছে বিলাসবহুল, গলফ কোর্স এবং নানা ধরনের অভিজাত রেস্টুরেন্ট।

মূল ভূখণ্ডের কাছে হওয়ায় স্যান্টোসা দ্বীপ বেশ নিরাপদ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সে কারণেই বৈঠকের জন্য এ দ্বীপটিকে বেছে নেয়া হয়েছে। এ দ্বীপে যাওয়ার জন্য যেসব প্রবেশ পথ আছে সেগুলোকে খুব সহজেই নিরাপদ রাখা যায়। সেখানে যাওয়ার জন্য একটি ক্যাবল কার লাইন, একটি মনোরেইল লাইন এবং যানবাহন চলাচলের একটি টানেল রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা আলোচনায় যদি কোনো বিরতি নিতে চান, তাহলে সেখানে গলফ কোর্সও রয়েছে। দুই দেশের নেতা একসঙ্গে গলফ খেললে ইতিহাস হয়তো ভিন্নভাবেই লিখতে হবে। সূত্র: বিবিসি

ডেইলি বাংলাদেশ / নিশি