ট্রাকবন্দি হয়ে ফিরছে প্রাণ গোপালের ১৯ বছরের স্বপ্ন

ঢাকা, শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০,   আশ্বিন ১১ ১৪২৭,   ০৮ সফর ১৪৪২

ট্রাকবন্দি হয়ে ফিরছে প্রাণ গোপালের ১৯ বছরের স্বপ্ন

মো: ইদ্রিস আলম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:০৩ ৯ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১৫:৫৮ ১৯ আগস্ট ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের আসায় ১৯ বছর আগে মাদারিপুর থেকে ঢাকা এসেছিলেন প্রাণ গোপাল। স্ত্রী রীমাকে নিয়ে একটু একটু করে সাজিয়েছিলেন স্বপ্নের সংসার। করোনার ছোবলে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে তার। তাইতো তিনি এতদিনের সাজানো সংসার আর হাজারো স্বপ্ন ট্রাকবন্দি করে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রামে।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা কেড়ে নিয়েছে চাকরি। আবার অনেকের চাকরি থাকলেও ঠিকমতো পাচ্ছে না বেতন। কারো ব্যবসা বন্ধ চারমাস ধরে। ফলে একদিকে ঘরে খাবার সংকট, অন্যদিকে বাড়ি ভাড়া। এমন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখী দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা। তাইতো সম্মান বাঁচাতে স্বপ্ন ভাঙার কষ্ট বুকে চেপে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছে মানুষ। গ্রামে গিয়েও শেষ রক্ষা হবে কিনা তাও অজানা অনেকের। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রাণ গোপাল ওরীমা বলেন, ব্যবসার অবস্থা এখন খুবই খারাপ। তাই ঢাকাতে থাকাটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ঠিকমতো তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করতে পারছি না। সেইসঙ্গে বাসা ভাড়ার চাপ রয়েছে, তাই বাধ্য হয়ে গ্রামে চলে যাচ্ছি।

রাজধানীর অলিগলি আর সড়কে এখন শুধু ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের গল্প। কারণ একটাই, করোনাভাইরাস। এর কারণে সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে উপার্জনের পথ, কঠিন হয়ে পড়ছে জীবন-যাবন ব্যবস্থা। তাইতো সম্মান বাঁচাতে যে যেভাবে পারছে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছে। আবার যেখানে যাচ্ছেন সেখানেও কী করে পরিবার নিয়ে থাকবেন সেটিও অজানা তাদের। গ্রামে গিয়ে কোনো ব্যবসা বা কর্ম করবে সেটিও এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চাকরি করে মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবেন এমন বুক ভরা আশা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন কুষ্টিয়ার মোস্তফা জামান তোতা। কিন্তু করোনার প্রাদুর্ভাবে থমকে গেছে সবকিছুই। কাঁথা-বালিশ আর বইপত্র নিয়ে গাঁয়ের পথে যাত্রা করেছেন। 

মোস্তফা জামান তোতা বলেন, আমি তো এখন বেকার, কোনো চাকরি নাই। যেহেতু আমি বেকার তাই এই শহরে আমাকে মানায় না। কোনো ইনকাম সোর্স না থাকলে এই শহরে টেকাটা কঠিন। বাধ্য হয়ে শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছি গ্রামে। 

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আবার অনেকেই স্বপ্ন আকড়ে ধরে জীবিকার তাগিদে বাসা ছেড়ে মেসে উঠছেন। আর পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়ে দিচ্ছেন গ্রামে। আদরের সন্তানদের ছেড়ে একা থাকতে হবে ভেবেই বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে কান্নায়। নিয়তির পরিহাস বাধ্য করছে অনেককে এই পথ বেছে নিতে। যাবার বেলায় কিছুটা হলেও মনকে শান্তনা দিচ্ছেন- দেশ আবার একদিন শান্ত হবে। বেঁচে থাকলে সেদিন না হয় আবার রাজধানীর বুকে সাজানো হবে স্বপ্নের সংসার!

চাকরি হারানো মানুষগুলো ঢাকা ছাড়তে শুরু করার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর বাড়িগুলোতে। অলিগলি আর বাসা-বাড়ির গেটগুলোতে এখন শুধু টু-লেট আর টু-লেট। করোনার প্রভাব শুধু নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের মাঝেই পড়েনি। পড়েছে রাজধানীর বহুতল ভবনের মালিকদেরও। যাদের বাড়িভাড়াই শেষ সম্বল তারা পড়েছে মহাবিপাকে।

ডেইলি বাংলাদেশ/ইএ/এসআই