.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

টেস্ট মেজাজে মাহমুদউল্লাহর পুনর্জন্ম

মেরাজ মেভিজ

 প্রকাশিত: ১৯:৪৩ ১ ডিসেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৯:৫৮ ১ ডিসেম্বর ২০১৮

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

ক্যারিয়ারের শুরুতেই জানান দিয়েছিলেন নিজের প্রতিভার। সাদা জার্সি আর লাল বলের মহারণে উইলো হাতে খুব একটা সময় নেননি। ম্যাচের অঙ্কটা ডাবল ফিগারে পা রাখার আগেই, দেখা পেয়েছিলেন তিন অংকের ম্যাজিকাল ফিগারের। কিন্তু এরপর প্রতিক্ষার দীর্ঘ সফর। টেস্ট দলে তাকে বিলাসিতা বলতেও দ্বিধা হয়নি অনেকের।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিদেশ বিভূইয়ে ১১৫ রানের প্রথম সেঞ্চুরিটাই যে হয়েছিল ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ। এরপর অধরা ছিল আরাধ্য সেঞ্চুরিটাই। প্রতিক্ষার প্রহর গুনে পাক্কা বছর সাড়ে আট...

ইতিহাস হয়তো ধ্বংস স্তুপের ওপর বিজয় কেতন ওড়ানোর অপেক্ষায় ছিল। আর ভাগ্যদেবীরা সবসময়ই যে সাহসীদের পক্ষে তা আর নতুন কী? সাকিবের অবর্তমানে লাল-সবুজের নেতৃত্ব দিতে নেমে ভাঙালেন গাল ফুলিয়ে থাকা প্রেয়সীর মান। খেললেন মাত্র ১২২ বলে ১০১ রানের ক্যাপ্টেনস নক।

প্রথম টেস্টের লজ্জার পর জিম্বাবুয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরির পর তাই তার উদযাপনটাও ছিল দেখার মতো। নেতৃত্বের আলতো ছোঁয়াই তার জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছিল হয়তো। আর মান ভাঙা ব্যাটের সঙ্গে তার সম্পর্কটা যে মধুর হয়েছে তা বলাইবাহুল্য।

মাত্র দুই ম্যাচ আর তিন সপ্তাহর ব্যবধানে আবারো হেসেছে ব্যাট। শুধু তাই নয়, প্রায় এক দশকের টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের সেরা ইনিংসটাও খেলে ফেলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

তবে এবারের ম্যাজিকাল ফিগার, দ্বিতীয় সেঞ্চুরির ঠিক উল্টো রথে। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে যেটা খেলেছিলেন ওয়ানডে ঢংয়ে আজ সেটা খেললেন টেস্ট মেজাজে। কিন্তু শুরুটা করেছিলেন নিজের মতো করেই। ৮৮ বলেই ছুঁয়েছিলেন পঞ্চাশের স্কোর। এরপর সাকিবের বিদায়ের পরই পাল্টে ফেললেন খেলার ধরণ। পরের পঞ্চাশে ব্যয় করেছেন ১১৫ বল।

নার্ভাস নাইনটিতে পা রেখেছিলেন ১৬৩ বলে। মিরাজের বিদায়ের পর খেলাটাকে খেললেন আরও ধীরলয়ে। ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক হয়ে বাইশগজে যেন শিকড়ই গজিয়ে ফেললেন। স্কয়ারের ওপর দিয়ে দৃষ্টনন্দন কাট শটে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে যখন সেঞ্চুরিতে পা রাখলেন তখন তার নামের পাশে ২০৩ বলের এক আদর্শ ইনিংস।

দীর্ঘ রান খরার পর যখন ব্যাটে ধরা দিচ্ছে সাফল্য তখন রিয়াদও দুই হাতে হৃদয় এঁকে জানিয়ে দিলেন এ ইনিংসটিও উৎসর্গ তার ভালোবাসার মানুষদের।

তবে সাকিবের সঙ্গী হয়ে গতকাল যে লড়াইটা শুরু করেছিলেন লোয়ার অর্ডারদের নিয়েও সে লড়াই আর থামেনি। দলের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন ফিরলেন ততক্ষনে নিজের সেরা ইনিংসটাকে নিয়ে গেছেন ১৩৬ রানে।

৫৬.১৯ স্ট্রাইক রেটে ১০ চারে সাজিয়েছেন নিজের তৃতীয় সেঞ্চুরির ইনিংসটি। আর খেলেছেন ২৪২ বল। তবে শেষ দিকে সময়োপযোগী দ্রুত রান তুলেছেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ ৩৬ রান এসেছে মাত্র ২৯ বলে। আর তার উইলোতে চেপেই প্রথম ইনিংসে ৫০৮ রানের শৃঙ্গে চড়েছে বাংলাদেশ।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ