Alexa টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের পথচলার ১৮ বছর

ঢাকা, শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯,   কার্তিক ২ ১৪২৬,   ১৮ সফর ১৪৪১

Akash

টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের পথচলার ১৮ বছর

 প্রকাশিত: ১৬:২৬ ১০ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ১৬:২৬ ১০ নভেম্বর ২০১৮

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

হাটি হাটি পা পা করে টেস্ট ক্রিকেটে আজ ১৮ বছরপূর্ণ করল টাইগাররা। ২০০০ সালে আজকের দিনেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশের।

পরিসংখ্যানে সাফল্যের থেকে ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি ভারী বাংলাদেশের। তবে আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন এগিয়ে যাচ্ছে। সঠিক পথে হাঁটছেন টাইগাররা।

বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ম্যাচের অধিনায়ক ছিলেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। সে সময়কার বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর হাত ধরে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস অর্জন করে।

১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটের গতিপথ হঠাৎ করেই বদলে যায়। এই ট্রফি জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।  প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে স্কটল্যান্ড ও শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের আগমনী বার্তা ঘোষণা করে।

এরপর বাংলাদেশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০০ সালের ২৬ জুন আইসিসি বাংলাদেশকে টেস্ট মর্যাদা প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট আঙ্গিনায়।

অভিষেক ম্যাচটা রাঙিয়ে নেয়ার সব আয়োজনই প্রায় করে ফেলেছিল বাংলাদেশ দল। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসেই ৪০০ রান। চাট্টিখানি কথা নয়। দেশের অভিষেক, নিজেদেরও অভিষেক ম্যাচ। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান আমিনুল ইসলাম দেশের সঙ্গে নিজেকেও ঢুকিয়ে ফেললেন রেকর্ডের পাতায়। যে রেকর্ড ইচ্ছা করলেই কোনোভাবে কেউ মুছে দিতে পারবেন না। দেশের প্রথম ম্যাচেই সেঞ্চুরি। ৩৮০ বল খেললেও ১৪৫ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন তিনি। হাবিবুল বাশার সুমন খেলেন ৭১ রানের ইনিংস।

অবিস্মরণীয় এই ব্যাটিংয়ের পর ভারতকেও খুব বেশিদুর এগুতে দেয়নি বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় দেশের অভিষেক টেস্টেই নিলেন ৬ উইকেট। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পর ইতিহাসের পাতায় প্রবেশ করলেন দুর্জয়ও।

 

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ১০৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ১০ ম্যাচে। হেরেছে ৮৩টিতে। আর ড্র করেছে ১৬ ম্যাচ। সিরিজ জিতেছে ৩টি, ড্র করেছে ৭টি এবং হেরেছে ৪৫টি।

দেশের মাটিতে ছয়টি ও দেশের বাইরে চারটি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট খেলার পাঁচ বছর পর ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জিতে বাংলাদেশ।

আর দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়, ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে ঘরের মাঠে প্রথম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। এরপর ২০১৭ সালের আগস্টে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

এখনও পর্যন্ত টেস্টে বাংলাদেশ হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে ৫বার, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২ বার, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কাকে ১বার করে। এর মধ্যে তিনবার বাংলাদেশ জিতেছে রান তাড়া করে। সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড, ২১৭/৬, ২০০৯ সালে গ্রানাডায় স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

এর মধ্যে বেশ কিছু স্মরণীয় রেকর্ডও রয়েছে বাংলাদেশের। ২০০১ সালেই টেস্ট ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ট সেঞ্চুরিয়ানের (১৭ বছর ৬৩ দিনে) খেতাব জয় করে নেন মোহাম্মদ আশরাফুল। মুত্তিয়া মুরালিধরনের মত বোলারের বিপক্ষে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেন তিনি। এছাড়া একই ম্যাচে সেঞ্চুরি এবং ১০ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েন সাকিব আল হাসান। সোহাগ গাজী একমাত্র ক্রিকেটর যিনি একই ম্যাচে হ্যাটট্রিকও করেছেন আবার সেঞ্চুরিও করেছেন। দশ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সর্বোচ্চ ১১৩ রানের ইনিংস খেলেন আবুল হাসান রাজু।

২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ৬৩৮। ওই ইনিংসেই দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। সাদা পোশাকে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। চলতি বছর বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ৪৩ রানে।

মুশফিকুর রহীমের পর ডাবল সেঞ্চুরি এসেছে তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসানের ব্যাট থেকে।

দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট রান তামিম ইকবালের (৫৬ ম্যাচে ৪০৪৯ রান)। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিও তামিমের (৮টি)। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস সাকিব আল হাসানের (২১৭, ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)।

সেরা গড় মুমিনুল হকের, ৪২.১২ করে। সেরা বোলিং, তাইজুল ইসলামের। ৩৯ রানে ৮ উইকেট, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৪ সালে, মিরপুরে।

সবচেয়ে বেশি উইকেট সাকিবের (৫৬ ম্যাচে ১৯৬ উইকেট)। দেশের হয়ে ১০০ বা এর বেশি উইকেট আছে আর মাত্র একজনের, মোহাম্মদ রফিক। ৩৩ টেস্টে রফিকের উইকেট ঠিক ১০০টি।

দেশকে সবচেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম (৩৪টি)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন হাবিবুল বাশার। সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন মুশফিকুর রহিম (৬৩টি)।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএস