টেকনাফে ১০হাজার জেলের মানববন্ধন    

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

টেকনাফে ১০হাজার জেলের মানববন্ধন    

টেকনাফ(কক্সবাজার) প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:৫১ ২৩ মে ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের টেকনাফে জেলেদের ৬৫দিন সাগরে মাছ শিকার  বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ মানববন্ধন হয়।  

টেকনাফ উপজেলা নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি মো. বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে উপজেলা স্বেচ্চাসেবক লীগের সভাপতি সরওয়ার আলমের সঞ্চালনায় এ মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নুরুল আলম।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন,বাহার ছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাও. আজিজ উদ্দিন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাংবাদিক জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, সদর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. নুর মোহাম্মদ গণি, বাহার ছড়া ইউপি যুবলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোছাইন, সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতি  মাও. সাইফুল ইসলাম সাইফী প্রমুখ।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০হাজার জেলে শ্রমিক ও মালিক সকাল থেকে গাড়ি ও মিছিল যোগে এসে দাবি জানান, বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন জেলে পরিবার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান  নুরুল আলম বলেন, নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ থাকায় অর্ধাহারে অনাহারে জীবন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার জেলে পরিবার। এরপরও ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একটানা মাছ শিকার বন্ধ থাকার ফলে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদ নির্ভর জেলে পরিবারগুলোতে নেমে আসে দুর্দশা। জীবন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে। বিকল্প কোনো আয়ের উৎস না থাকায় জেলে পরিবারের মধ্যে চলছে হাহাকার। অনেকেই দু’বেলা খাদ্য যোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য কমকর্তাকে নিয়ে এ বিষয়ে উচ্চ পযার্য়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করেন। 

বক্তারা আরো বলেন, দীর্ঘ দুই মাস যদি তাদের একমাত্র জীবিকা মাছ ধরা চালিয়ে না যেতে পারেন তাহলে তাদের পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, পাশ্ববর্তী বাজারগুলোতে মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া টেকনাফে মিঠাপানির মাছ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে নাফ নদী ও সাগরের মাছের উপর পুরো উপজেলা নির্ভরশীল। সমুদ্র ও নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধের ফলে আয় রোজগার নেই। ফলে এক বেলা খেতে পারলেও আরেক বেলা খেতে খুব কষ্ট হচ্ছে। নদীতে টানা জাল ও কাঁকড়া শিকার করে সংসারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানো হতো। এভাবে নাফ নদীর উপর নির্ভর টেকনাফ উপজেলার প্রায় ১০ হাজার জেলে ও তাদের পরিবার প্রায় এক বছর ধরে অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। 

টেকনাফ উপজেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে জেলেদের পুর্নবাসনের কথা বলা হলেও এপর্যন্ত কোনো সাহায্য তারা পায়নি বলে বলে জানিয়েছেন জেলেরা। শিগগিরই ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান জেলে পরিবারগুলো।

টেকনাফের ইউএনও বলেন, জেলেরা একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। সেটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হবে। এদিকে ইয়াবা পাচার ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকারি নির্দেশে নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ রয়েছে। নতুন কোনো নির্দেশনা না আসায় এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এছাড়া এ সময়ের জন্য তালিকাভুক্ত জেলেদেরকে বিশেষ কর্মসূচিরর আওতায় আনা হয়েছে ।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ