Alexa টিকে থাকতে পৃষ্ঠপোষকতা চান মৃৎ শিল্পীরা

ঢাকা, বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৬ ১৪২৬,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

টিকে থাকতে পৃষ্ঠপোষকতা চান মৃৎ শিল্পীরা

 প্রকাশিত: ২০:৩৭ ৯ নভেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২০:৩৭ ৯ নভেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ইতিহাসের সঙ্গে মৃৎ শিল্পের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। প্রাচীন সভ্যতা থেকে আধুনিক বিশ্বে রয়েছে এ শিল্পের ছোঁয়া। তবে তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে অনেকটা বেকায়দায় এ শিল্প। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে মৃৎ শিল্পের জন্য ব্যাপক সুনাম রয়েছে বাংলাদেশের। তবে সাম্প্রতিক সারাদেশে মৃৎ শিল্প যখন বিলীন হওয়ার পথে তখন এ শিল্পকে বুকে আগলে রেখেছেন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার মধুমতি পাড়ের কুমারডাঙ্গা গ্রামের মৃৎ শিল্পের কারিগররা।

মৃৎ শিল্পীরা সুনিপুন কারুশিল্প সমৃদ্ধ মৃৎ পণ্য স্থানীয় এলাকার চাহিদা মিটিয়ে গোলাপগঞ্জ, ফরিদপুর, বাগেরহাট ও খুলনা জেলার হাটবাজারে পাঠাচ্ছেন। সেখানেও রয়েছে তাদের পণ্যের চাহিদা। কুমারডাঙ্গা গ্রামের ৭২ পরিবারের মধ্যে ৩২ পরিবার মৃৎ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এ শিল্প থেকে চাহিদা মতো আয় করতে না পারলেও পূর্ব পুরুষের ঐহিত্য আঁকড়ে ধরেছেন অনেকেই।

ঐতিহাসিক এ শিল্প ও পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে বেঁচে থাকতে চান তারা। আবার অনেকে অন্য কোনো কাজ রপ্ত করতে না পারায় চালিয়ে যাচ্ছেন এ ব্যবসা। তবে পেশাটি টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চান মৃৎ শিল্পীরা। 

কামারডাঙ্গা ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের ৩২ বাড়িতে ঘুরছে কুমারের চাকা। কেউ মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে মৃৎ শিল্পের কাঁচামাল কাদা তৈরী করছে। কেউ চাকার উপর কাঁচামাল রেখে হাড়ি, কড়াই, বদনা, ঢাকুন, ফুলের টব, কলস, পিঠার তৈরীর মাটির ছাঁচ, মুড়ি ভাজার সামগ্রী তৈরী করছে। কেউ প্রস্তুত হওয়া মৃৎ দ্রব্য রোদে শুকাচ্ছে। আবার কেউ আগুনে পোড়াচ্ছে শুকানো মৃৎ পণ্য। কেউবা করছে মাটির তৈরী আসবাবপত্রে উপর রং তুলির রঙিন কারুকাজ।

মৃৎ কারিগর অরবিন্দ পাল বলেন, নভেম্বরে কাজ শুরু হয়। এ সময় রোদের তেজ থাকায় কাজের পরিমাণ বেশি হয়। বর্তমানে প্লাস্টিক ও অ্যালমুনিয়াম এবং মেলামাইনের প্রভাবে মাটির তৈরি রান্না কিংবা ঘরের জিনিসপত্রের চাহিদা কমে গেছে। এতে অনেক পরিশ্রম করে পাওয়া যায় না প্রকৃত মুল্য। বেকার হয়ে পড়েছে অনেকে। কেউবা পেশা পরিবর্তন করে শুরু করেছে রিকশা চালক, মাটি কাটাসহ দিন মজুরের কাজ। 

অর্চনা পাল বলেন, এখন কাজের অনেক চাপ। তাই স্বামীকে সহযোগিতা করছি। বেঁচে থাকার জন্য আমাদের কঠিন পরিশ্রম করতে হয়। 

পঞ্চনন পাল অভিযোগের সুরে বলেন, এ পেশায় এখন লাভ নেই। বিকল্প কাজ জানিনা বলে বাপ-দাদার পেশাকে কোনো রকম আঁকড়ে ধরে আছি। 

অনিল পাল বলেন, মৃৎ শিল্পের কাজ এ প্রজন্মের কেউ শিখতে চায় না। আগামীতে কুমারের চাকা ঘুরানোর মত কেউ থাকবে না। এজন্য তিনি দায়ি করছেন প্লাস্টিক- মেলামাইন শিল্পকে । আমাদের ঐহিত্যবাহী পেশায় সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হত।   

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন এবং নড়াইল শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের উপ-ব্যবস্থাপক কামরুল হাসান বলেন, নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় মৃৎ শিল্প বিলীনের পথে হলেও কুমারডাঙ্গার চিত্র ব্যতিক্রম। অনেক মানুষ এখনও পেশাটিকে আঁকড়ে আছেন। তাদের জিনিসপত্রের মান ভাল। মৃৎ কারিগররা যদি আমাদের কাছে লোনের আবেদন করে আমরা সহায়তা করব। তাদের আধুনিকায়নের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। 

ডিইলি বাংলাদেশ/এমকেএ/জেএইচ

Best Electronics
Best Electronics