.ঢাকা, শুক্রবার   ২২ মার্চ ২০১৯,   চৈত্র ৮ ১৪২৫,   ১৫ রজব ১৪৪০

টানবাজার ।। গাজী সাইফুল

গল্প

 প্রকাশিত: ১৬:২৩ ৭ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৬:২৩ ৭ জানুয়ারি ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সন্ধ্যার আলো মিলিয়ে গেছে। এরইমধ্যে পূরবী, রামী, রিদিতা, দেবজানীর মত দেহপসারিনীদের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। আসকারদিঘীর এ পূর্ব পাড়ে খদ্দেরের দেখা মিলে হরহামেশাই। খদ্দেরকে কাছে টানার শারীরিক অঙ্গভঙ্গিটা বেশ জানা রিদিতার। এজন্য খুব একটা অপেক্ষা করতে হয় না তাকে।

টানবাজারে চাহিদা আছে বেশ। হৃষ্টপুষ্ট শরীর, যৌনতার অতৃপ্তি সবই আছে। সোম-মঙ্গলবার কাস্টমারের চাপটা একটু বেশি থাকে। বরাবরের মত সেদিনের রেটটা একটু বেশিই চওড়া থাকে তার। যৌন সুখ নিতে আসা খদ্দেরকে আল্লাদ করার একদম সময় নেই রিদিতার। শহরের নামকরা সব বাবুরা আসেন। ওদের জন্য সময়টা একদম আলাদা করে রাখে সে। এ বাবুদের সঙ্গে সম্পর্ক বেশ ভাল মলয় বাবুর। সে আগ্রাবাদে একটি অফিসে ক্লার্কের কাজ করে।   

একটু পরেই সেই মলয় বাবু এসে উপস্থিত। সঙ্গে কোন এক অপরিচিত ভদ্রলোক। এর আগে যারা এসেছে ওরা সবাই রিদিতার বাঁধা কাস্টমার। ওর যৌন সুখ কেউ এড়াতে পারে না। দেখে মনে হচ্ছে, ভদ্রলোক বেশ গম্ভীর স্বভাবের। মলয়ের মুখে একটা চাপা শব্দ গজগজ করছে। শব্দটা ঠিক বুঝা যাচ্ছে না। ভদ্রলোককে রুম পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েই বেরিয়ে গেল। বারান্দায় রাখা ইজি চেয়ারে গা-এলিয়ে বসল সে। এরপর একটা ক্যাপস্টেন সিগারেট ধরাল।

 

  • যা, দূরে যা। কারে লইয়া আইলি মলয় এইডা; হেয় হু পথ থুইয়া কু পথ। রুমের ভেতর থেকে রিদিতার আর্ত চিতকারে সিগারেট ফেলে ছুটে আসে সে।
  • কেন? কি হইছে? ছুটে এসে দেখে সঙ্গে নিয়ে আসা প্রহল্লাদ, সে এক প্রকার বিবস্র অবস্থায় নিচে বসে আছে। মলয়কে আসতে দেখে কামিজের কাপড়টা বুক পর্যন্ত টেনে দেয় রিদিতা।
  • কি আর আইব। কারে লইয়া আইছস দেখ। হেয় পথও চিনে না। খাট্টাইশ একটা, পোলাখোর একটারে ধইরা লইয়া আইছস। প্রহল্লাদ, সে অনেকটা লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে আছে। কি বলবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না।
  • কি সাব, এইটা কি করলেন? আফনের উপর একটা টান আছিল, এর লাইগা হের কাছে লইয়া আইছি, আর আফনে! মুখ দিয়ে অনেকটা আফসোসের শব্দ করে সে। যেন বিষয়টা নিয়ে সে ব্যথিত।  
  • দুঃখিত। আসলে ঠিক হয়নি। কিছুটা ইতস্তত বোধ করছেন প্রহল্লাদ। এরপর বা-হাতে প্যান্টটা টেনে তুলে। শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে হাজার টাকার আধ পুরনো বেশ কয়েকটি নোট রিদিতার কামিজের নিচে গুঁজে দেয়।
  • লাগতনা আফনের টেহা। হাজার টাকার নোটগুলো মুহূর্তেই ছুঁড়ে ফেলে মেঝের উপর। মলয় মনে হল ঠিক কি করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। সে অনেকটা ভাবলেশহীন ভাবে দাঁড়িয়ে রইল। যেন ঘটনার কিছুই আঁচ করতে পারেনি সে।

 

এখন প্রায় ভর সন্ধ্যে। অন্ধকারটা একটু একটু করে দীর্ঘ হচ্ছে। এরমধ্যেই আজ আবার ইলেকট্রিসিটি নেই। আসকারদিঘীর চারপাশটায় ছোট, মাঝারি সাইজের রেস্তোরাঁগুলো জটলা পাকানো। হুলস্তুল রকমের হাঁকডাক চলছে। সাথে পাঁচমিশালি রকমসকম ভোজের আল্লাদি গন্ধটা ভেসে বেড়াচ্ছে।

রেস্তোরাঁগুলোর সামনে ঝুলতে থাকা হ্যাজাকের আলোয় চারপাশটা নিয়নের সোডিয়াম আলোর মত হলুদ হয়ে আছে। ছায়াগুলোও বিবর্ণ। রিদিতা ডালিম হোটেলের রুম থেকে বেরিয়েই বারান্দায় এসে দাঁড়াল। বারান্দায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। প্রহল্লাদ ভদ্রলোক চলে যাবার পর আর বেরোয়নি সে। অনেকক্ষণ চুপচাপ বসেছিল সে। বারান্দায় এসে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। এখান থেকে ছোট্ট এ এলাকাটার ব্যস্ততাগুলো চোখে পড়ে। পুরো শহরে রাতের অন্ধকারগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে। এরপর একটা সিগারেট ধরায় সে;

  • কিলো কি হইছে মাগী; ঢঙ্গ ধরন লইছস নি? কাস্টমারে আইয়া খাড়াইয়া লইছে, তর ভোদাত কি পানি আইছে ল। যাস না কেরে? কিছুটা ইতস্তত বোধ করে সে। এরপর পেছনে ফিরে। রামী কিছুটা নির্লিপ্ত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল।
  • আইজ যামু না ল।
  • কেরে কি হইছে?
  • মলয় বাবু কইত্তে এক মাইঞ্জা ধইরা আনছে; হেয়, এরপর নিজের পেছন দিকের পায়ু পথটা ইশারায় দেখিয়ে মুখে একটা অশ্লিল ভঙ্গি করে।
  • হেই কথা ই ক। কি একটা চিন্তা করল সে। এরপর  কিছু না বলেই চুপচাপ বেরিয়ে গেল।   

ও পাশের রুমটা শুশ্রীর। সে কিছুদিন হল এসেছে। ইউনিভার্সিটিতে পড়ে সে। কি জানি কি হয়েছে, এখানে এসেছে। কেউ অবশ্য যেচে কয়ে আসে না এ পথে। সবসময় একা একা থাকে। খুব একটা পাত্তা দেয় না কাউকে। দেমাগ আছে খানকির। সেখান থেকে একটা গোঙ্গানীর শব্দ আসছে এমুহূর্তে। দু-রুমের মধ্যে ব্যবধান একটা আধ-চিলতে পর্দা। এপিঠ-ওপিঠ পুরোটাই দেখা যায়। এরমধ্যে দ্বিতীয় সিগারেটটি ধরায় সে। কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে জানালা দিয়ে ওদিকটায় চোখ রাখে রিদিতা। টিমটিকে একটা লীল রঙের আলো জ্বলছে। সবকিছু কিছুটা আবছা।

আহ আহ উহ উহ উহ, ফাঁক ফাঁক মি বীচ; কি সব বিলেতী শব্দ বলে গোঙ্গাচ্ছে। কিছুটা মুচকি হাসে সে। এমনসব কিছুটা জানা নেই রিদিতার। শরীরের যৌনতা ছাড়া এর বাহিরে কোন কিছুই নেই। উদোম শরীর, পুষ্ট যোনী যে কোন পুরুষকে ক্ষেপিয়ে ফেলে এই তো ঢের। এর বেশি কিইবা প্রয়োজন। এমন নারী আছে বলেই পুরুষের স্বপ্নদোষ সমঝোতা বুঝে। শুশ্রী মেয়েটি উবু হয়ে আছে দু-পা ফাঁক করে। উহ আহ উহ উহ উহ শব্দগুলোর সাথে সে লক্ষ্য করল পেছনের ছেলেটি উন্মাদের আচরণ করছে। যোনী চেটে, সেই আ-পথেই সঙ্গম করছে। এতে কিছু কিছু খদ্দের সন্তুষ্ট হয়ে রেট বেশ চওড়া দেয়। আজকাল এমন কিছু পছন্দ না রিদিতার। সময়ের সাথে আজকাল অসহ্য লাগে সবকিছু।  

এ ফ্লাটেই কাজ করে অখিল। সে কিছুক্ষণ পর একটা ট্রেতে করে চা-এর কাপ নিয়ে এল। ওর আসার শব্দে একবার শুধু পাঁশ ফিরে দেখল। ওদিকটায় শুশ্রীর উপর থেকে দৃষ্টি ফিরাতে একদম ইচ্ছে করছিল না। অখিল এসেই খুট করে ট্রেটা বারান্দায় থাকা পায়া ভাঙ্গা টি-টেবিলের উপর রাখল।

-চা, দিইয়া গেলাম। খেয়ে নিও।

-হু। রাইক্কা যা। ইলেকট্রিসিটি কহন আইব কিছু জানস অখিল?

-নাহ, আইজগা আর আইত না হুনলাম। অণিক পোদ্দাররে দেখলাম কারেন্টের খাম্বায় উঠছে। হেয় কইল মাইঝ রাত্তির অইব।

-ও আইচ্ছা। বলতে বলতে শরীরের ওড়নাটা দিয়ে বুক ঢাকে সে।

- কি দেহ দিদি? অখিলের চোখেমুখে থমথমে একটা স্পষ্ট হাসি। অখিলের কথায় অনেকটা ইতস্তত হয়ে পাঁশ ফিরে দেখে;

-কেরে?

-না, কিচ্ছু না। এমনেই।

-ও আইচ্ছা। এরপর অখিল বেরিয়ে যায়। রিদিতা এগিয়ে এসে চায়ের কাপটা হাতে নেয়। কাপ হাতে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ায় সে।

 

হোটেলের নিচেই জাম্বো সাইজের একটি জেনারেটর সেই বিকেল থেকে স্টার্ট হয়েছে। শব্দে পুরো পরিবেশটা কেমন ঝাঁঝাঁ করছে। পাশেই একটা আধ চিলতে সাময়ানা টাঙ্গানো সিডি ডিক্সের দোকান। রোগা মতন একটা ছেলে চালায়। দোকানের সামনে নায়ক নাইকাদের অর্ধ নগ্ন সব ছবি ঝুলানো। প্রতি ডিক্স ছ-টাকা দরে ভাড়া দেয়। বেচাকেনা ভালই চলে। সব্ধ্যার পর দুনিয়া রাজ্যের সব লোকে গমগম করে দোকানের চারপাশটা। রঙিন টেলিভিশনে নায়িকা ময়ূরির ছবি লাগায় সে। ব্যবসাও জমজমাট। আজ সেখানে খুব একটা ভিড় নেই। ছোকরা মতন ছেলেটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চায়ের মধ্যে পাউরুটি ভিজিয়ে খাচ্ছে। রিদিতার সঙ্গে চোখে চোখ পড়তেই মুচকি হেসে উঠল। রিদিতা অনেকটা না দেখার ভান করে দাঁড়িয়ে রইল।

নিজের ফ্ল্যাটে আজ যেতে ইচ্ছে করছে না একদমই। গিয়েই কি হবে। কেইবা আছে সেখানে, দু-রুমের বিশাল ফ্ল্যাট। সাথে লাগোয়া বারান্দা। রুপমের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার পর রিদিতা একদমই একা সেখানে। এরপর গেটের সামনেই উপর থেকে মলয় বাবুকে দেখতে পায় রিদিতা। কার সাথে যেন কথা বলছে সে।  উপর থেকেই হাক ছাড়ে রিদিতা।

-মলয় বাবু, কদ্দুর উপরে আইবা? কিছু কওনের আছিলো।

-আইতাছি ল। খাড়ো হেন। চোখ ঘুরিয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে জবাব দেয় মলয় বাবু। এর বেশ কিছুক্ষণ পর মলয় বাবু উপরে আসে। পান খেয়ে ঠোঁট জোড়া টকটকে লাল করে রেখেছে।

-কি কইবি ক?

-আইজ এইহানে থাহুম। শইলডা জুইত লাগতাছে না মলয় বাবু।

-কেরে ল, কি অইছে? জ্বরটর আইছে নি। বলেই কিছুটা সামনে এগিয়ে এসে রিদিতার কপালে হাত রাখে সে। কই হেমুন কিছু ত না।

-এমনে অই। কইতারি না কি অইছে।

-এক কাম কর আমগোর শ্যামল দারে একবার দেহাইয়া আই ল। হেয় ভাল হুমুপ্যাতিক দেয়।

-না থাউক। এক কাম কর, অখিলরে কইও রাইতের খাওনডা জানি চৌরঙ্গী রেস্তোরাঁর তেনে দিয়া যায়।

-আইচ্ছা, কমুনে। তুই এক কাম কর, গাও গোত্তর  ধুইয়া জিরাইয়া ল। কাইল কইলাম মেলা দাও আছে। বলেই কিছুটা হাসার চেষ্টা করল মলয়। সেদিকে অবশ্য ভ্রূক্ষেপ করেনি সে। এরপর বেশ কিছুক্ষণ বসে রইল। উঠতে একদম ইচ্ছে করছে না। মলয় অনেকক্ষণ হল বেরিয়ে গেছে। এরমধ্যে অখিল এসেছিল। চৌরঙ্গী রেস্তোরাঁ থেকে রাতের খাবার দিয়ে গেছে।

পাশের রুমে এখনও আলো জ্বলছে। খুব সম্ভবত আজ ফুল নাইট কন্ট্রাকে কাস্টমার ভিড়িয়েছে শুশ্রী। সোম-মঙ্গল এ দুটো দিনেই বেশ হাই রেটে দীর্ঘ সময়ের জন্য কাস্টমার নেয় সে। কথাবার্তাগুলো স্পষ্ট শুনা যাচ্ছে সেখান থেকে। ইউ লুক সো হট হানি, কান অন লেটস হ্যাভ সেক্স, এরপর দুটো শরীর সাপের মত জড়াজড়ি করছিল। রিদিতা বেশ খানিকটা কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে রইল। উরুসন্ধিতে অনেকক্ষণ আটকে রইল ছেলেটি। ব্যথায় শুশ্রীর গোঙ্গানীর শব্দটা রুমের পরিবেশটাক কোথাও আটকে রেখেছিল। মেয়েটি একবারের জন্যও নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করেনি।

কখনো মেয়েটি ছেলেটির উপর উঠে এসেছিল, কখনো কখনো ছেলেটি। মধ্যরাত পর্যন্ত দুটো সম্পর্কহীন দেহ কিছুটা সময়ের জন্য সম্পর্কে জরিয়েছিল। এখানে রুপমের অবয়বে কেউ নেই। এরপর দক্ষিণ দিক থেকে একটা গা সিরসিরে লিরলিরা হাওয়া আসে। হাওয়ায় এক মুহূর্তের জন্য পর্দাটা সরে যেতেই শুশ্রীর চোখে চোখ পড়ে রিদিতার। কিছুটা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে চোখ সরিয়ে নেয় সে।

এরপর ও মাগো বলে শুশ্রী নিজের উরুসন্ধি চেপে ধরতেই, ফ্যাকাশে অবয়বে কিছুটা সময় আগে উরুসন্ধিতে মগ্ন যৌন সুখ নিতে থাকা ছেলেটি বলছে, আই এম সরি; আই এম সরি। মুহূর্তেই ফিনকির মত বেরিয়ে আসছিল রক্তের একটা সরু স্রোত। কিছুটা অচেতন হয়ে পড়ে আছে সে; রিদিতা কিছু বুঝে উঠার আগেই পরের বারের জন্য এগিয়ে গেল ছেলেটি।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর