টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘোরার সেরা সময় এখনই
SELECT bn_content.*, bn_bas_category.*, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeInserted, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeInserted, DATE_FORMAT(bn_content.DateTimeUpdated, '%H:%i %e %M %Y') AS fDateTimeUpdated, bn_totalhit.TotalHit FROM bn_content INNER JOIN bn_bas_category ON bn_bas_category.CategoryID=bn_content.CategoryID INNER JOIN bn_totalhit ON bn_totalhit.ContentID=bn_content.ContentID WHERE bn_content.Deletable=1 AND bn_content.ShowContent=1 AND bn_content.ContentID=115572 LIMIT 1

ঢাকা, রোববার   ০৯ আগস্ট ২০২০,   শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭,   ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Beximco LPG Gas

টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘোরার সেরা সময় এখনই

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৩৫ ২৯ জুন ২০১৯   আপডেট: ১১:৫৩ ২৯ জুন ২০১৯

টাঙ্গুয়ার হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওর

নীল আকাশে সাদা মেঘের খেলা। কখনো জমাট হয়ে আছে। আবার কখনো দলছুট হয়ে পাগলা ঘোড়ার মত দাঁড়ানো আকাশছোঁয়া বিশাল খাসিয়া পাহাড়ে গিয়ে আঁছড়ে পড়ছে। আর তারই প্রতিবিম্ব যখন টাঙ্গুয়ার হাওরে ফুটে উঠে, তখন বিস্মিত হতে হয় যে কাউকেই। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য পাহাড় ও হাওরের জলরাশি দেখতে হাজারো পর্যটক ছুটে চলেছেন, ঘুরছেন টাঙ্গুয়ায়।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব দিগন্তে অবস্থিত ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা। দেশের এই প্রান্তিক জনপদে স্রষ্টা যেন প্রকৃতি-অকৃপন হাতে বিলিয়ে দিয়েছে অফুরন্ত সম্পদ, সম্ভাবনা আর অপরুপ নৈসর্গিক সৌন্দর্য। সারি সারি হিজল, করছসহ বিভিন্ন জাতের গাছ-পালা আর নানা জাতের মাছ ও পাখির এক নিরাপদ আবাস্থল টাঙ্গুয়ার হাওর। শুধু তাই নয়, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মূল্যবান সম্পদের কারণে টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের মানচিত্রে এক উজ্জল নক্ষত্র হয়ে রয়েছে।

টাঙ্গুয়ার হাওরকে ২০০০ সালের ৬ জানুয়ারি 'রামসার সাইট' ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক রামসার কনভেশনে স্বাক্ষর করেন কর্তৃপক্ষ। এতে রামসার তালিকায় বিশ্বের ৫৫২টি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যের মধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওরের নাম উঠে আসে। ফলে দেশের মানুষ হাওরটিকে নতুন করে জানার সুযোগ পান। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ হাওরে ভিড় জমাতে শুরু করেন এর পরিবেশ-প্রকৃতি দেখার আশায়।

টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো বর্ষাকাল। বছরের অন্য সময় সাধারণত এর পানি অনেক কম থাকে। তবে পাখি দেখতে চাইলে শীতকালেই যেতে হবে। বর্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের সঙ্গে যোগ করতে পারেন ছোট-ছোট সোয়াম্প ফরেস্ট, শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রি লেক), বারিক টিলা, যাদুকাটা নদী ও লাউড়ের।

হাওর ভ্রমণের উপযুক্ত সময় বর্ষাকাল

যাতায়াত নিয়ে বিস্তারিত

দেশের যে কোনো জায়গা থেকেই বাস  যোগে সুনামগঞ্জ যাওয়া যায়। যারা ঢাকা থেকে যাবেন তারা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড ও মহাখালী থেকে বাসে উঠতে পারেন। এস নন-এসি বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৫৫০ টাকা। জেনে রাখা ভালো, সুনামগঞ্জ পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৬ ঘণ্টা।

এরপর সুনামঞ্জের সুরমা নদীর উপর নির্মিত বড় ব্রীজের কাছে লেগুনা/সিএনজি/বাইক করে তাহিরপুরে সহজেই যাওয়া যায়। তাহিরপুর ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে ঘুরে আসুন টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে। তবে শীতকালে পানি কমে যায় বলে আপনাকে লেগুনা/সিএনজি/বাইক যোগে যেতে হবে সোলেমানপুর। সেখান থেকে নৌকা ভাড়া করে নিতে পারবেন।

ভাড়া করার আগে নৌকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা জেনে নেবেন। নৌকায় বাথরুম আছে কিনা, মোবাইল চার্জ দেয়া, লাইট ও ফ্যানের ব্যবস্থা আছে কিনা ইত্যাদি জেনে নেবেন। ভাড়া করতে দরদাম করে নিন। নৌকা ভাড়া মূলত ৩টি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। নৌকায় ধারণ ক্ষমতা, নৌকার সুযোগ সুবিধা এবং মৌসুমের উপর। সাধারণত ছোট নৌকা ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা, মাঝারি নৌকা ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা এবং বড় নৌকা ৩৫০০ থেকে ৬০০০ টাকায় সারাদিনের জন্য ভাড়া করা যায়। ১ রাত নৌকায় কাটাতে চাইলে ছোট নৌকা ৩৫০০-৫০০০ টাকা এবং বড় নৌকা ভাড়া করতে ৭০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মতো লাগবে। রান্নার জন্য নৌকার মাঝিকে খরচের টাকা দিলে সে বাবুর্চি নিয়ে যাবে কিংবা নিজেই রান্নার ব্যবস্থা করবে।

টাঙ্গুয়ার হাওরের জীবন!

ভ্রমণে পরামর্শ

টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যাওয়ার আগে কিছু জিনিস ব্যাগে অবশ্যই রাখবেন। সেগুলো হলো- টর্চ ব্যাকআপ ব্যাটারিসহ, পাওয়ার ব্যাংক, ক্যাম্পিং মগ, চাদর, রেইনকোর্ট বা ছাতা, টয়লেট পেপার, ব্যাগ ঢেকে ফেলার মতো বড় পলিথিন, প্লাস্টিকের স্যান্ডেল, সানগ্লাস, ক্যাপ বা হ্যাট, ২টি গামছা ও খাবার পানি।

একসঙ্গে গ্রুপ করে গেলে খরচ কম হবে। ৪-৫ জন বা ৮-১০ জনের গ্রুপ হলে ভালো। হাওর ভ্রমণকালে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট সঙ্গে নিন। হাওরে বজ্রপাত হলে নৌকার ছৈয়ের নিচে অবস্থান করুন। খাবারের অতিরিক্ত অংশ/উচ্ছিষ্ট, প্যাকেট ইত্যাদি হাওরের পানিতে ফেলা থেকে বিরত থাকুন। উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী মাইক বা যন্ত্র পরিহার করুন। শুধু তাই নয়, মাছ, বন্যপ্রাণী কিংবা পাখি ধরা বা এদের জীবন হুমকির মধ্যে পড়ে এমন কাজ থেকে বিরিত থাকুন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে