Alexa টাঙ্গাইলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে তিন লাখ বানভাসি

ঢাকা, শুক্রবার   ২৩ আগস্ট ২০১৯,   ভাদ্র ৮ ১৪২৬,   ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

Akash

টাঙ্গাইলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে তিন লাখ বানভাসি

মো. আবু কাওছার আহমেদ, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৯:২৩ ২৩ জুলাই ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় তিন লাখ বানভাসি। দুর্গম চরাঞ্চলে কোনো ধরনের মেডিকেল সহায়তা কিংবা পানি বিশুদ্ধকরণে ট্যাবলেটের সরবরাহ নেই। নেই সাপে কামড়ানো রোগীর ভ্যাকসিন।

সরকারি দফতর থেকে যদিও বলা হচ্ছে পর্যাপ্ত ওষুধ ও খাবার স্যালাইন রয়েছে কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল অন্য চিত্র। কেবল ইউপিতে মেডিকেল ক্যাম্প করে দায় সারছে সিভিল সার্জন অফিস।

কাকুয়া ইউপি ওমরপুরের পল্লী চিকিৎস ডা. জহিরুল জানান,  প্রতিদিন  ২৫ থেকে ৩০ জন ডায়রিয়া রোগীকে চিকিৎসা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারিভাবে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যবলেট সরবরাহ  করা হলে এই পরিস্থিতি হতো না।  কেবল বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। এরপর পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

হুগড়া ইউপির চর হুগড়ার গ্রামের হাফেজা বেগম জানান, আমার টিউবওয়েল অর্ধেক বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। পানি ফুটিয়ে খাবো সেই অবস্থাও নেই। কোথায় একটু শুকনো জায়গা নেই। পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি খুঁজে পাচ্ছি না। কোথায় গেলে পাওয়া যাবে তাও জানি না। ফলে এই টিউবওয়েলের পানি খাচ্ছি।

হুগড়া ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ধরনের পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট কিংবা খাবার স্যালাইন ত্রাণ সাহায্য হিসেবে পাইনি। আমার ইউপি অত্যন্ত দুর্গম চরাঞ্চল। সেখানেই এমনেতেই খাবার পানির অভাব রয়েছে। এই বন্যার সময় অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।

কাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মহম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, এ ইউপিতে ২৯ হাজার লোকের জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বরাদ্দ। পেয়েঠি ৫০০টি। এছাড়া খাবার স্যালাইন মেলেনি এক প্যাকেটও।

সিভিল সার্জন ডা. শরীফ হোসেন খান জানান, টাঙ্গাইলে সাপে কামড়ানো রোগীর ভ্যাকসিন নেই। এরইমধ্যে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একজনকে সাপে কামড়িয়েছে। তিনি বেঁচে আছেন। তবে পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন মজুত আছে। বন্যায় আত্রান্ত উপজেলা প্রতি ৫০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ২০ হাজার খাবার স্যালাইন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ইউপি পর্যায়ে মেডিকেল টিম কাজ করছে। বন্যা দুর্গতদের কোনো ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা হবে না।

জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যমতে, জেলার ছয়টি উপজেলা, দুটি পৌরসভা, ২৪টি ইউপির পৌনে তিন লাখ মানুষ বন্যা কবলিত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

Best Electronics
Best Electronics