টাঙ্গাইলে নদী উদ্ধার অভিযান, ভাঙা পড়ছে বহুতল ভবন

ঢাকা, রোববার   ২৯ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৫ ১৪২৬,   ০৪ শা'বান ১৪৪১

Akash

টাঙ্গাইলে নদী উদ্ধার অভিযান, ভাঙা পড়ছে বহুতল ভবন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ২০:১৭ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

লৌহজং নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

লৌহজং নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)

টাঙ্গাইল শহরের উপর দিয়ে প্রবাহিত লৌহজং নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বেড়াডোমা সেতু থেকে হাউজিং সেটেলমেন্ট সেতু পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

এর আগে এই অংশে নদী পরিমাপ করে ২৬০টি অবৈধ স্থাপনা চিহিৃত করা হয়। এ অবৈধ দখলদারতের নামের তালিকা বিল বোর্ড করে নদীর বিভিন্ন স্থানে টাঙানো হয়েছে। বিকেলে টাঙ্গাইলের ডিসিকে সঙ্গে নিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত সচিব ও আশ্রয়ন প্রকল্প পরিচালক মাহবুব হোসেন।

উচ্ছেদ উপলক্ষে সকালে ডিসি কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি নদীর পার ধরে বেড়াডোমা এলাকা পর্যন্ত যায়। সেখানে নদী দখলমুক্ত করণ উপলক্ষে ডিসি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক, পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি, টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাব সভাপতি জাফর আহমেদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম, জেলা তথ্য কর্মকর্তা কাজী গোলাম আহাদ প্রমুখ। সমাবেশ শেষে দুপুরে নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠা স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু হয়।

ডিসি মো. শহীদুল ইসলাম জানান, হাইকোর্ট সারাদেশে নদ-নদী উদ্ধারের জন্য আদেশ দিয়েছেন। যারা নদ-নদীর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন তাদের নিজ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করতে হবে। তা না করলে সরকার অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে তার খরচ আদায়ের জন্য দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে। 

বিকেলে কাগমারা, বেড়াডোমা, জেলা সদর হাউজিং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক তলা থেকে সাত তলা পর্যন্ত অন্তত ২০টি ভবন ভাঙার কাজ চলছে। কোনো কোনো ভবনের মালিক নিজ উদ্যোগে তাদের ভবন ভেঙে নদীর জায়গা ছেড়ে দিচ্ছেন। আবার কোনো কোনো ভবনে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়োজিত কর্মীরা ভাঙার কাজ করছেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য একাধিক ভেকু প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

লৌহজং নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদের অংশ (ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ)স্টেডিয়াম এলাকার বাসিন্দা জমসের আলী জানান, তিনি সব নিয়মনীতি মেনে প্রায় চারকোটি টাকা ব্যয়ে সাত তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। পৌরসভার নকশা অনুমোদনসহ জমির উপযুক্ত কাগজপত্র তার রয়েছে। এখন নতুন করে নদীর জায়গা পরিমাপ করে তাকে দখলদার হিসেবে চিহিৃত করা হচ্ছে। এতে তার বিশাল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

নদী উদ্ধার আন্দোলনের কর্মী জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ তারেক পুলু জানান, লৌহজং নদী উদ্ধার অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের মানুষ। এ নদী দখলমুক্ত করা দীর্ঘদিনের দাবি ছিল টাঙ্গাইলবাসীর। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, ৭৬ কিলোমিটার দীর্ঘ লৌহজং নদীর প্রথমপর্যায়ে টাঙ্গাইল শহরের ভেতর তিন কিলোমিটার অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। পর্যায়ক্রমে পুরো নদী দখলমুক্ত করা হবে। এরমধ্যেই ৭৬ কিলোমিটার নদী খননের জন্য ২২৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলেই এর টেন্ডার করে পুরো নদী খনন করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম