টাকায় নিজের ছবি ছাপানোর সুযোগ

ঢাকা, সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২০,   চৈত্র ১৬ ১৪২৬,   ০৫ শা'বান ১৪৪১

Akash

টাকায় নিজের ছবি ছাপানোর সুযোগ

ভ্রমণ প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১১:৪৬ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

এক লাখ টাকার স্মারক নোট। ফাইল ছবি

এক লাখ টাকার স্মারক নোট। ফাইল ছবি

টাকায় নিজের ছবি ছাপিয়ে বিজয়ের হাসি হাসতে চান? তাও আবার লাখ টাকার নোটে! তাহলে যেতে পারেন টাকা জাদুঘরে। এ জন্য আপনাকে খসাতে হবে ৫০ টাকা। তবে নোটটি অবশ্যই স্মারক, বিনিময়-অযোগ্য।

টাকার জাদুঘরটি মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেনিং একাডেমির দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত। জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা মিলবে মুদ্রার এক বিশাল সংগ্রহশালার। প্রাচীন মুঘল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমলের দুর্লভ সব মুদ্রা এ জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। বাদশাহি আমলের রৌপ্য ও স্বর্ণ মুদ্রাও আছে এখানে।

জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে দুটি গ্যালারি দিয়ে। প্রথম গ্যালারিতে আছে এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরোনো ছাপা মুদ্রা। এ মুদ্রার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, কতগুলো প্রতীকের ছাপ। সাধারণ রুপা দিয়ে তৈরি এ মুদ্রার প্রচলন শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে। বাংলাদেশের মহাস্থানগড় ও নরসিংদী জেলার উয়ারী-বটেশ্বরে পাওয়া গেছে এ ধরনের অনেক মুদ্রা। টাকা জাদুঘরে স্থান পেয়েছে এসব মুদ্রা। আরেকটি গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও ফটো কিয়স্ক।

টাকা জাদুঘর

২০১৩ সালে এই মুদ্রা জাদুঘরটি নির্মাণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও সংসদের স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এই জাদুঘরের উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী, ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর, জাতীয় জাদুঘরের শতবর্ষ পূর্তি, বিশ্বকবির সার্ধশত জন্মবার্ষিকী, বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, দিবস এবং কালজয়ী ব্যক্তিদের স্মরণে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ১২টি স্মারক মুদ্রা এবং ৪টি স্মারক নোট প্রকাশ করেছে। স্বর্ণ, রৌপ্য এবং নিকেলের তৈরী অসাধারণ এসব স্মারক মুদ্রা দেখা যাবে জাদুঘরটিতে।

অনেক মুদ্রা সংগ্রাহকদের উপহার দেয়া মুদ্রা ও কিছু মুদ্রা ক্রয় করে এ জাদুঘর সমৃদ্ধ করা হয়। সবচেয়ে বেশি মুদ্রা উপহার দিয়েছেন মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী নামের একজন। তার নামেই করা হয়েছে বিশেষ একটি প্রদর্শনী। তিনি ১ হাজার ১৮০টি মুদ্রা উপহার হিসেবে দিয়েছেন জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে। তার উপহার দেয়া মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৬টি স্বর্ণমুদ্রা, ২০৭টি রৌপ্যমুদ্রা, ৭৯২টি তামার ও অন্যান্য ধাতব মুদ্রাসহ ১৭৫টি কাগুজে মুদ্রা। যদিও উপহারের ছোট অংশই প্রদর্শিত হচ্ছে।

যেখানে শুধু টাকা আর টাকা, সেখানে ঢুকতে কোনো খরচ নেই। তবে অভ্যর্থনা কক্ষে নাম-ঠিকানা লিখে তারপর প্রবেশ করার নিয়ম। অভ্যর্থনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে সিঁড়ি ভেঙে উঠে পড়ি দোতলায়। হাতের বাঁ দিক থেকে সাজানো শোকেস ধরে ঘুরে দেখি গ্যালারি। মনে রাখবেন, বৃহস্পতিবার আর সরকারি ছুটির দিন বাদে প্রতিদিনই খোলা থাকে জাদুঘর।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে