Alexa টাকার ফাঁদ পেতে রেখেছে এই দ্বীপ!

ঢাকা, রোববার   ১৭ নভেম্বর ২০১৯,   অগ্রহায়ণ ২ ১৪২৬,   ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

টাকার ফাঁদ পেতে রেখেছে এই দ্বীপ!

সাতরঙ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:৫১ ১৯ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এই দ্বীপটিতে। ৫৫ হাজার ২৮৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত কানাডার একটি দ্বীপ ওক। ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দ্বীপে মাটির অনেক গভীরে নাকি লুকনো রয়েছে বিপুল ধনসম্পদ।

এই লুকনো সম্পদের লোভে প্রাণ গিয়েছে বহু মানুষের। তবে আজ পর্যন্ত রহস্যের সমাধান কেউ করতে পারেননি। উদ্ধার হয়নি গুপ্তধনও। রহস্য বুকে চেপে শত শত বছর ধরে একইভাবে টাকার ফাঁদ পেতে রয়েছে এই দ্বীপ, ওক আইল্যান্ড।

এই রহস্যের শুরু ১৭৯৫ সালে। ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, ড্যানিয়েল ম্যাকগিনিস নামে এক যুবক এই দ্বীপে আলো জ্বলতে দেখেছিলেন। সেই আলোর উৎস খুঁজতে খুঁজতে পর দিন দ্বীপের একটা অংশে পৌঁছে দেখেন, সেখানে রয়েছে ১৩ ফুট পরিধির এক বিশাল গর্ত। গর্তের আশেপাশের ওক গাছগুলোকে কেটে ফেলা হয়েছে।

সেদিনই ম্যাকগিনিস বুঝে ফেলেছিলেন, রহস্যজনক, মূল্যবান কিছু লুকিয়ে রাখা হয়েছে এই দ্বীপে। পরদিন আরো দুই বন্ধুর সঙ্গে ফিরে এসে জায়গাটা খুঁড়তে শুরু করেন। সেদিনই ম্যাকগিনিস বুঝে ফেলেছিলেন, রহস্যজনক, মূল্যবান কিছু লুকিয়ে রাখা হয়েছে এই দ্বীপে। পরদিন আরো দুই বন্ধুর সঙ্গে ফিরে এসে জায়গাটা খুঁড়তে শুরু করেন।

গোলাকার স্থানটিতেই গুপ্তধনের আশায় গর্ত করা হয়সেদিন ম্যাকগিনিস ও তার বন্ধুরা মাটির দু’ফুট নীচে একটা বড় পাথর দেখতে পান। উত্তেজনার সঙ্গে সেই পাথরটা টেনে বার করেন তারা। তবে তার নীচে কোনো গুপ্তধন ছিলোনা। ফের খোঁড়া শুরু হয়। যত নীচে নামা হচ্ছিল, গর্তটা ক্রমশ সঙ্কীর্ণ হয়ে যাচ্ছিলো। ৭ ফুট নীচে তারা প্রথম আশার আলো দেখতে পান। গর্তের দেয়ালে মানুষের কুড়ালের ছাপ দেখতে পান ম্যাকগিনিসরা। তারা যে ঠিক পথেই এগোচ্ছেন, তা বুঝতে পারেন। গুপ্তধন উদ্ধারে আরো দৃঢ় হয়ে যান।

এভাবে খুঁড়তে খুঁড়তে ৩০ ফুট গভীর গর্ত করে ফেলেন তারা। তবে প্রতি ১০ ফুট অন্তর গাছের গুড়ির স্তর আর মাটি ছাড়া কিছুর উদ্ধার করতে পারেননি। ব্যর্থ হয়ে ৩০ ফুটেই খোঁড়া শেষ করে দেন। তবে এ খবর যত ছড়িয়ে পড়েছে, গুপ্তধন খুঁজতে বহু লোক এসেছেন। বহু তাবড় তাবড় কোম্পানি ঘুরে গিয়েছে এই দ্বীপে। ওই জায়গায় বহু খোঁড়াখুঁড়ি চলেছে। ৩০ ফুট থেকে সেই গর্ত ৯০ ফুট পর্যন্ত খোঁড়া হয়েছে। তবে কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। একইভাবে প্রতি ১০ ফুট অন্তর কাঠের স্তর পাওয়া গিয়েছে শুধু।

৯০ ফুট খোঁড়ার পর প্রথম লুকনো সম্পদের আভাস পাওয়া যায়। ঠিক টেবিলের মতো চারকোণা একটা কালো বড় পাথর উদ্ধার হয়। তাতে অদ্ভুত হরফে কিছু লেখাও ছিল। দীর্ঘ গবেষণা করার পর এক ঐতিহাসিক জানান, তাতে লেখা রয়েছে, ৪০ ফুট নীচে ২০ লাখ পাউন্ড পোঁতা রয়েছে। অর্থাৎ ৯০ ফুট খোঁড়া হয়েছিলো, আরো ৪০ ফুট মিলিয়ে মোট ১৩০ ফুট নীচে ওই গুপ্তধন লুকানো রয়েছে। ফের শুরু হলো খোঁড়া। বেশি দূর আর যেতে হয়নি। 

অপ্রত্যাশিতভাবে গর্তে পানি জমতে শুরু করে। ফলে লোকজনও কাজ ফেলে ওপরে ওঠে আসেন। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০ ফুট পর্যন্ত গর্ত পানি ভরে যায়। পাম্প চালিয়েও সেই পানি বের করে খোঁড়ার কাজ আর শুরু করা যায়নি। সেটা ছিল ১৮০৫ সাল। অনস্লো নামে এক কোম্পানি তখন খোঁজ চালাচ্ছিল গুপ্তধনের। সেই থেকে পরবর্তী ৪০ বছর আর খোঁজা হয়নি গুপ্তধন। আজ পর্যন্ত কেউই ১৩০ ফুট গভীরে পৌঁছাতে পারেননি। উল্টে এই গুপ্তধনের ফাঁদে পা দিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রাণ গিয়েছে ৭ জনের। আজো একইভাবে গুপ্তধনের ফাঁদ পেতে জেগে রয়েছে এই ওক আইল্যান্ড।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস