ঢাকা, সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
ডেইলি বাংলাদেশের অডিও সার্ভিস চালু
শিরোনাম:
কার্গো বিমানে পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলো যুক্তরাজ্য ১২৭ ইউনিয়ন ও নয় পৌরসভায় ভোট ২৯ মার্চ চা শ্রমিকদের আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বাগান মালিকদের কাছে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপি রাজশাহীর তানোরে বিস্ফোরকসহ ৩ জঙ্গি আটক
শিরোনাম:
কার্গো বিমানে পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলো যুক্তরাজ্য ১২৭ ইউনিয়ন ও নয় পৌরসভায় ভোট ২৯ মার্চ চা শ্রমিকদের আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বাগান মালিকদের কাছে থাকবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপি রাজশাহীর তানোরে বিস্ফোরকসহ ৩ জঙ্গি আটক...

টমেটোয় স্বপ্ন ভঙ্গ

 দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৬:২১, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

১৪২ বার পঠিত

খবরটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুর সদরের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার বিশাল চরাভূমিতে দুই যুগ ধরে টমেটোর উৎপাদন হয়ে আসছে। টমেটো আবাদ করে প্রতিটি কৃষক স্বপ্ন দেখেন আর্থিক সচ্ছলতার। টমেটো বিক্রি করে ছেলে-মেয়ের বিয়ে দেয়া, জমিজমা কেনা, ঘরবাড়ি ঠিক করা, নতুন বসতঘর তৈরি, ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ যোগানোর পরিকল্পনা করেন তারা। কিন্তু এবার তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। শুরুতে দাম ভালো থাকলেও এখন ভরা মৌসুমে একেবারেই কমে গেছে।

সরেজমিনে নান্দিনা বাজারে দেখা গেছে টমেটোর ক্রেতা সংকট বিরাজ করছে। পাশাপাশি ব্যাপক দরপতন। বর্তমানে টমেটো মণ দরে বিক্রি হচ্ছে না। খাঁচা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা ক্ষেত থেকে টমেটো তোলার পর খাঁচায় ভরে থাকেন। প্রতিটি খাঁচায় ভরা হয় ৪০-৫০ কেজি টমেটো। টমেটো ভর্তি একেকটি খাঁচা বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকার মধ্যে। এ হিসাব ধরলে প্রতি কেজি টমেটো পাইকারি বিক্রি হচ্ছে এক টাকায়। দাম অবিশ্বাস্যভাবে কমে যাওয়া কৃষকরা যেন চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছেন। তাদের মধ্যে শুরু হয়েছে নীরব কান্না। ক্ষোভ, দুঃখ, অভিমান।

গজারিয়ার কৃষক ফজলুল হক দুঃখ করে বলেন, আমরা ক্ষেত থেকে টমেটো তোলার পর বাজারে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত প্রতি মণে খরচ হয় ২৫-৩০ টাকা। আর ৪০ টাকায় যদি এ টমেটো বিক্রি করতে হয় তাহলে লাভ কোথায়? মহেশপুর কালিবাড়ির কৃষক আক্কেল আলী, রুস্তম আলী ও নাজমুল হক বলেন, বাজারের যা অবস্থা তাতে আগামী বছর টমেটো আবাদ করব কিনা ভেবে পাচ্ছি না।

লক্ষ্মীরচরের কৃষক ইদ্রিস আলী জানান, এবার টমেটো আবাদ করে আমরা সর্বশান্ত। টমেটোর দাম প্রথম অবস্থায় ভালো ছিল। কিন্তু তখন তো সবাই বিক্রি করতে পারেনি। কেননা প্রথম দিকে সবার ক্ষেতে টমেটো পাকেনি। যারা আগাম আবাদ করেছেন এবং যাদের ক্ষেতে টমেটো পেকেছিল তারাই শুধু কিছুটা ভালো দাম পেয়েছে। এখন তো সবার ক্ষেতেই পাকা টমেটো। সবাই একসঙ্গে তুলছেন, বিক্রি করছেন। তাছাড়া এখন দেশের নানা জেলায় পাকা টমেটো পাওয়া যাচ্ছে। সে কারণে হাট-বাজারে ব্যাপক দরপতন শুরু হয়েছে।

জামালপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদরে এবার ৮৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী নান্দিনা বাজারের পাশাপাশি শরিফপুর বাজার, মহেশপুর কালিবাড়ি, বারুয়ামারী, গজারিয়া মোড়, নরুন্দি বাজার, তারাগঞ্জ বাজারে টমেটোর পাইকারি হাট বসেছে। নান্দিনা পূর্ববাজারে মেসার্স আকাশ এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী ও বিএডিসি অনুমোদিত বীজ ডিলার আল আমিন জানান, জামালপুর সদর উপজেলায় প্রায় ১০টি জাতের টমেটো আবাদ হয়েছে। জাতগুলোর মধ্যে উদয়ন, উন্নয়ন, দিগন্ত, রুপসী, বিউটিফুল, লাভলী, ব্র্যাকের আবিস্কৃত ১৭৩৬, সফল, কোহিনুর মঙ্গল সুপার ও মঙ্গল রাজা। এর মধ্যে বিউটিফুল, দিগন্ত, রুপসী জাতের টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। এক বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করতে খরচ হয় ৩৫-৪০ হাজার টাকা। ফলন ও দাম ভালো থাকলে খরচ উঠিয়ে প্রতি বিঘায় লাভ হয় ৫০-৬০ হাজার টাকা। কিন্তু এবার ‘লাভের ধন টিয়ায় খাইছে’।

খড়খড়িয়া গোলাপ আলী মার্কেটের স্বত্ত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম শহিদ জানান, এ অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ টমেটো আবাদ হয়। ন্যায্যমূল্য পেতে নান্দিনায় জরুরি ভিত্তিতে টমেটোর একটি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার বিশেষ প্রয়োজন।

রানাগাছা ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শে এবার চরে টমেটোর ফলন ভালো হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইফরাম বলেন, আবহাওয়া অনূকুলে থাকায় টমেটোর এবার বাম্পার ফলন হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে

সর্বাধিক পঠিত
ওপরে যেতে