Alexa টমেটোর ফলনে বিপর্যয় 

ঢাকা, বুধবার   ২২ জানুয়ারি ২০২০,   মাঘ ৮ ১৪২৬,   ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Akash

টমেটোর ফলনে বিপর্যয় 

দেলোয়ার হোসেন; জামালপুর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১২:৪১ ১৪ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১২:৫০ ১৪ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুরের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় টমেটোর ফলনে বিপর্যয় ঘটেছে। এতে  নান্দিনা বাজারে চলতি ভরা মৌসুমে পর্যাপ্ত টমেটোর আমদানি নেই। দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাইকাররা আসলেও চাহিদা মোতাবেক টমেটো ক্রয় করতে পারছেন না। এছাড়া ফলন কম হওয়ায় এবার দামও বেশি।

নান্দিনা ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান জানান, টমেটোর আমদানি কম থাকায় ট্রাকে চালান যাচ্ছে গত বছরের তিন ভাগের এক ভাগ। 

হাট-ইজারাদার ফজলুল হক জানান, কৃষকরা টমেটো আবাদ করতে গিয়ে এবার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলন কম হয়েছে। তাই বাজারে আমদানিও কম। এদিকে বাজারে টমেটোর আমদানি কম হওয়ায় টমেটো শ্রমিক বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের কপালেও হাত পড়েছে। 

নারী শ্রমিক ফুলমতি জানান, পাইকাররা টমেটো কেনার পর আমরা বাছাই করে থাকি। প্রতিদিন কাজ করে আড়াইশ টাকা পাই। কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত টমেটো না আসায় কাজ নেই। বেতনও নেই। বেকার জীবন কাটাতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গত মৌসুমে এ সময় নান্দিনা বাজার টমেটো ভরে গেছে। টমেটোর গাড়ির কারণে পশ্চিম বাজার এলাকার সব রাস্তায় তীব্র যানজট ছিল। এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র চরাঞ্চলে বৈরি আবহাওয়া ও টানা বর্ষণের ফলে পাতা কোঁকড়ানো রোগ ও পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। ফাইটোফথোরা ইনফেসটেনস নামের এক প্রকার ছত্রাকের কারণে সৃষ্ট এ রোগে গাছের লতা-পাতার সঙ্গে রাতারাতি পুড়ে যায় টমেটো গাছ। 

টমেটো ক্ষেত পুড়ে যাওয়ার পুড়ে গেছে চাষিদের সব স্বপ্ন-আশা। অধিকাংশ চাষি ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা এখন চিন্তিত, উদ্বিগ্ন। প্রতিষেধকমূলক বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো সুফল পায়নি কৃষকরা। 

সদর উপজেলায় চলতি মৌসুমে এক হাজার ৮ শ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। লক্ষীরচর, তুলশীরচর, রানাগাছা, শরিফপুর, নরুন্দি, ইটাইল ইউপিতে উদয়ন, উন্নয়ন, দিগন্ত, রূপসী, বিউটিফুল, লাভলী, ব্র্যাকের আবিস্কৃত ১৭৩৬, সফল,  কোহিনুর মঙ্গলসুপার ও মঙ্গলরাজা টমেটো চাষ হয়েছে। 

লক্ষ্মীরচর গ্রামের টমেটো চাষি লোকমান হোসেন জানান, গতবারের মত দুইবিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করেছি। কিন্তু টমেটোর জোয়ার আসার সময় এক প্রকার পোকায় আক্রান্ত হয়ে ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। 

তিনি আরো জানান, দুইবিঘা জমিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু ফলন খারাপ হওয়ায় বিনিয়োগ করা টাকা ফেরত পাব কিনা তা নিয়ে চিন্তিত।

একই কথা বলেন, লক্ষ্মীরচর গ্রামের টমেটো চাষি আব্দুস সামাদ, আতাব আলী, আব্দুস সালাম, শুকুর হাসান, মজিবুর রহমান, ফটিক মিয়াও ।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিরূপ আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে টমেটো ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া টমেটো ক্ষেত পোকা ও অজ্ঞাত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। 

একাধিক টমেটো চাষি অভিযোগ করেন, বাজার থেকে কীটনাশক এনে ক্ষেতে  স্প্রে করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কৃষি বিভাগের লোকজন কোনো পরামর্শ দিতে আসেনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, টমেটো ক্ষেতে পোকা ও ভাইরাস আক্রমণে কিছু গাছ রোগাক্রান্ত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে