Alexa ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোটি টাকার প্রকল্প

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯,   আশ্বিন ৩ ১৪২৬,   ১৮ মুহররম ১৪৪১

Akash

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোটি টাকার প্রকল্প

আবু তাহের, রামগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:০৩ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার নাগমুদ বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ছাদে চলছে কোটি টাকা ব্যয়ে সম্প্রসারণের কাজ। এতে ভবন ধসের আশঙ্কায় রয়েছে অভিভাবকসহ স্থানীয়রা।

আবদুস সালাম, রঈছ উদ্দিনসহ কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের বর্তমান ভবনটির বিমগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। দেয়ালগুলো অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। দেয়ালের নিচের অংশে ভাঙন দেখা দিলেও ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনের ছাদে আরো এক তলার কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তারা আরো জানান, বারবার স্থানীয়রাসহ অভিভাবকরা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে বলার পরও তারা সম্প্রসারণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে একটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ ও প্রচুর পরিমাণ জায়গা থাকার পরও বিপজ্জনক এ ভবনের ওপরে সম্প্রসারণের কাজ কেন করছেন তা আমাদের জানা নেই।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের রামগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দু-একদিনের মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী আসবেন, তিনি আসার পর কাজ বন্ধ করে দেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কাজের ব্যাপারে উল্টোপাল্টা পোস্ট করা হচ্ছে। কাজ বন্ধ করে দিলে কোনো ক্ষতি হবে না, এ এলাকার ছেলেমেয়েদের ক্ষতি হবে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নাগমুদ বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন এ ভবনের ছাদে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ প্রক্রিয়ায় এক্সটেনশনসহ পাঁচটি কক্ষ ও একটি টয়লেট নির্মাণের জন্য এক কোটি ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। কাজ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিসান এন্টারপ্রাইজ ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে নির্মিত ২১ বছরের পুরাতন ভবনের ছাদে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে।

এদিকে কাজ শুরু করতে গেলে স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে পড়ে তারা। এ সময় কয়েকজন প্রভাবশালীর হুমকিতে আন্দোলন থেকে সরে যেতে বাধ্য হয় স্থানীয়রা।

জিসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলতাফ হোসেন বলেন, টেন্ডার অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবে কাজ করছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএফএম আবদুস ছালাম বলেন, আমি শিক্ষক মানুষ। বিদ্যালয়ের কাজ কে পেয়েছে বা কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে এ ব্যপারে কিছুই জানি না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বশির আহম্মেদ মানিক বলেন, এ ব্যাপারে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে জরাজীর্ণ ভবনে কিভাবে সম্প্রসারণের কাজ চলছে তা বোধগম্য নয়।

ইউএনও মুনতাসির জাহান বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। খোঁজ নিচ্ছি, যদি এমনটা হয় তাহলে আগে থেকে সাবধান না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী দিপঙ্কর খীসা বলেন, জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। তারপরও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখব কী করা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর