ঝুঁকিতে ধর্মপুর খাদ্য গুদাম

ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০১৯,   আষাঢ় ৪ ১৪২৬,   ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

ঝুঁকিতে ধর্মপুর খাদ্য গুদাম

শাহজাদা এমরান, কুমিল্লা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

 প্রকাশিত: ১৭:২২ ১৩ জুন ২০১৯  

জলাবদ্ধতা, খানাখন্দ আর গর্তে ভরা সড়ক, গুদামের ভেতর-বাইরে স্যাতস্যাতে পরিবেশ এবং পোকার আক্রমণসহ নানা সমস্যায় কুমিল্লা শহরের ধর্মপুর খাদ্য গুদামে অচলবস্থা বিরাজ করছে। জলাবদ্ধতা আর প্রবেশ পথের সড়কগুলো বেহাল হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে গুদামটির স্বাভাবিক কাজ। যার কারণে বর্তমানে খাদ্য সংরক্ষণের পরিমাণ দিনদিন কমে যাচ্ছে।  

সরেজমিনে গুদামটিতে গিয়ে দেখা যায়, এখানে থাকা সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তার একটি কার্যালয় বর্তমানে কার্যালয়টি সম্পূর্ণ ব্যবহারের অযোগ্য, জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম। সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তার  কার্যালয়টি সারা বছরই পানির নিচে তলিয়ে থাকে। গুদামের ভেতরই চেয়ার টেবিল পেতে চলছে অফিসটির কার্যক্রম। এছাড়াও দুটি আবাসিক ভবন পরে আছে অচল হয়ে। রাস্তায় পানি জমে থাকায় খাদ্য বহনকারি গাড়ি ঢুকতে পারে না গুদামগুলোতে। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই পানি ঢুকে পরে অফিস কক্ষ আর মসজিদে। সীমানা প্রাচীরগুলো যেকোনো সময় ধসে পড়ে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এই অবস্থায় সন্ধ্যা নামতেই গুদামটিতে মাদকসেবীদের অবস্থানসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কুমিল্লা ধর্মপুর খাদ্য গুদামের  কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, সিটি কর্পোরেশনের শেষ সীমানায় গুদামটির অবস্থান। শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অন্যদিকে না থাকায় ও আশপাশে উঁচু স্থাপনা গড়ে উঠায় গুদামটিতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে কয়েকটি গুদাম সম্পূর্ন অব্যবহৃত হতে পরে।

এখানে কর্মরত কর্মচারী ও শ্রমিকরা জানায়, জলাবদ্ধতার মাঝে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হতে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন বিষাক্ত পোকামাকড়, শাপ-বিচ্ছুর আক্রমনে জীবন নাশের ঝুঁকিতে কাজ করতে হয়। বিদ্যুতের খুটিগুলো নড়বড়ে হয়ে আছে, যেকোন মূহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এখানে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীরা জানায় এ সমস্যা সমাধান না হলে বর্ষাকালে সম্পূর্ন ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে গুদামটির কার্যক্রম।

কুমিল্লা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এম. এস. কায়সার আলী জানান, খাদ্য মজুদের পরিমাণ ১০হাজার ৫০০ মেট্রিক টন হওয়ার কথা থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে খাদ্য সংরক্ষনের পরিমান হ্রাস পেয়ে ৫ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অচিরেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম