ঝুঁকিতে ঢাকা-পিরোজপুর মহাসড়ক

.ঢাকা, বুধবার   ২৪ এপ্রিল ২০১৯,   বৈশাখ ১০ ১৪২৬,   ১৮ শা'বান ১৪৪০

ঝুঁকিতে ঢাকা-পিরোজপুর মহাসড়ক

 প্রকাশিত: ২০:৪০ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮   আপডেট: ২১:০১ ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার মধুমতী নদীর উপছে পড়া ঢেউ বেড়িবাঁধে আঘত হানছে। এতে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে দোকানপাট, বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি। 

গত পাঁচদিনের ভাঙনে উপজেলার মধুমতি-সংলগ্ন শৈলদাহ বাজার,আশপাশের অসংখ্য দোকানপাটসহ ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তীব্র ভাঙনে ঢাকা-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতোমধ্যে মহাসড়কের কিছু অংশ ভেঙ্গে নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা চরম হতাশায় ভুগছেন। অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা না করলে অচিরেই এ এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

শুক্রবার পানিউন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ লুৎফর রহমান ও তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আবুল হোসেন ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙ্ন রোধে জরুরি ভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন।  

ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার কলাতলা ইউপি পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মধুমতি নদীর উপচে পড়া ঢেউয়ের আঘাতে বাধের মাটি নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এতে ভাঙন দিনদিন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে নদী ভাঙ্গনে শৈলদাহ বাজার, খেয়াঘাটসহ তার আশপাশে বেশকয়টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। 

এ ভাঙনের কবলে পড়ে শৈলদাহ বাজার ও ঢাকা-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ঘর-বাড়ি নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। পৈত্রিক বসত-বাড়ি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থরা বাঁচার তাগিদে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে রাস্তার পাশের খাস জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ঘটনায় বিগত ১০বছর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে  ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।  

শৈলদাহ খেয়াঘাটের দোকান মালিক রোকা মিয়া সরদার, বাজারের সেনেটারী দোকান মালিক সাহাদাৎ খান জানান, কিছু বুঝে উঠার আগেই আকস্মিক ভাবে ১০-১৫মিনিটের মধ্যেই তাদের প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ হাবিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে  জানান, এভাবে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকলে এ বাজারকে কোন ভাবে আর রক্ষাকরা সম্ভব হবে না। এখানকার খেয়াঘাটটি এখন চরম হুমকির মুখে। এই ঘাট থেকে প্রতিদিন গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, কোটালীপাড়া ও পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শত শত লোক পারাপার হয়। বর্তমানে ভাঙনের কবলে পড়ে খেয়া পারাপারের সময় নানা রকমের দুর্ঘটনা ঘটছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা ইউএনও মোঃ আবুসাঈদ জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ হয়েছে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেবেন। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম